শুক্রবার, জুলাই ১৯

আস্থাভোটের জন্য তৈরি, সময় ঠিক করুন, স্পিকারকে বললেন কুমারস্বামী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্ণাটকের ডামাডোল পরিস্থিতিতে ফের মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। শুক্রবার কর্ণাটক বিধানসভায় বাজেট অধিবেশন চলাকালীন স্পিকার কেআর রমেশ কুমারকে তিনি বলেন, আস্থাভোটের জন্য তৈরি তাঁর দল। কবে আস্থাভোট হবে তার সময় ঠিক করার জন্য স্পিকারকে আবেদন জানান তিনি।

শুক্রবার বিধানসভায় কুমারস্বামী বলেন, “আমি আস্থাভোটের জন্য তৈরি। আপনি সময় ঠিক করুন।” এর আগে বৃহস্পতিবার নিজের ইস্তফা দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি সব পরিস্থিতির জন্য তৈরি। আমি এখানে ক্ষমতা দখল করে থাকতে আসিনি।” মুখ্যমন্ত্রীর এই আবেদনের পরে স্পিকার জানিয়েছেন, “যে দিন আমাকে লিখিতভাবে মুখ্যমন্ত্রী আস্থাভোটের কথা বলবেন, তার পরের দিনই আমি বিধানসভায় আস্থাভোটের ব্যবস্থা করব।”

এর আগে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে ভর্ৎসনা শুনতে হয় স্পিকার রমেশ কুমারকে। দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেয়, আগামী মঙ্গলবার কর্ণাটকের ঘটনার শুনানি হবে। তার আগে পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বজায় থাকবে। বিদ্রোহী বিধায়কদের ইস্তফার বিষয়ে স্পিকারকে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা সুপ্রিম কোর্ট নেবে।

এ দিন শীর্ষ আদালতের সামনে এ দিন স্পিকার বলেন, তিনি এখনও ইস্তফাপত্রগুলি ভালো করে দেখে উঠতে পারেননি। কারণ, অনেকেই তাঁর সঙ্গে বৃহস্পতিবার এসে দেখা করেছেন। এর উত্তরে বিচারকরা বলেন, স্পিকার কি মনে করেন, বিধায়কদের ইস্তফাপত্র গ্রহণ করা না করার অধিকার শুধু তাঁর আছে, আদালতের নেই। তারপরেই জানিয়ে দেওয়া হয়, মঙ্গলবার হবে এই মামলার শুনানি। রমেশ কুমারকে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে হবে না। সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিম কোর্ট।

গত শনিবার থেকে দফায় দফায় কর্ণাটকের মোট ১৮ জন বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৬ জন শাসক কংগ্রেস ও জেডি এস জোটের সদস্য ছিলেন। বাকি দু’জন নির্দল বিধায়ক। গত শনিবারই বিদ্রোহী কয়েকজন বিধায়ককে চ্যাটার্ড প্লেনে মুম্বই উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক পাঁচ তারা হোটেলে তাঁরা আছেন।

মঙ্গলবার স্পিকার আটজনের ইস্তফাপত্র নাকচ করে দেন। তাঁর বক্তব্য, সেগুলি যথাযথভাবে লেখা হয়নি। বিদ্রোহী বিধায়কদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতে বলেন। তাঁর কথায়, শুধু চিঠি দিলেই যদি কাজ হয়ে যেত, তাহলে আমার থাকার কোনও দরকারই পড়ত না। তিনি বলেন, এই কাজে সময় লাগবে, তিনি তো আর আলোর গতিতে কাজ করতে পারবেন না। এমনকী বিধায়করা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলে মিডিয়ার সামনে স্পিকার তাঁদের ‘গো টু হেল’ বলেন।

বিদ্রোহীদের অভিযোগ ছিল, স্পিকার ইচ্ছা করে রেজিগনেশন নিতে চাইছেন না। কারণ তিনি শাসক জোটকে আরও কিছুদিন টিকে থাকার সুযোগ দিতে চান। তাঁরা পুলিশকে চিঠি লিখে বলেন, হোটেলের চারদিকে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হোক। কারণ কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী অথবা কংগ্রেসের ট্রাবলশুটার ডি কে শিবকুমার জোর করে হোটেলে ঢুকতে চাইতে পারেন।

বুধবার সকালে সত্যিই শিবকুমার হোটেলে ঢুকতে চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ তাঁকে গেটে আটকে দেয়। তিনি বলেন, হোটেলে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। পুলিশ ঢুকতে না দিলে দীর্ঘ ছ’ঘণ্টা হোটেলের সামনে অপেক্ষা করেন। শেষে তাঁকে আটক করা হয়।

যদি মঙ্গলবার বিদ্রোহী বিধায়কদের ইস্তফা গ্রহণ হয়, তাহলে জোট সরকারের ১১৮ বিধায়ক থেকে সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ১০০। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ১১৩ থেকে কমে দাঁড়াবে ১০৫-এ। এই মুহূর্তের কর্ণাটকে বিজেপি বিধায়কদের সংখ্যা ১০৫। দুই নির্দল বিধায়ক সমর্থন করলে সেই সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াবে ১০৭। এই পরিস্থিতিতে আস্থাভোট হয় কিনা, বা হলে কী হয় সেটাই দেখার।

Comments are closed.