বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯

প্রয়াত কিংবদন্তী আইনজীবী তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাম জেঠমালানি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৯৬ তম জন্মদিনের আর ৬ দিন বাকি ছিল। তার আগে আজ রবিবার সকালে মারা গেলেন কিংবদন্তী আইনজীবী রাম জেঠমালানি।

গত কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন রাম। তাঁর ছেলে তথা বিশিষ্ট আইনজীবী মহেশ জেঠমালানি জানিয়েছেন, নয়াদিল্লির বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তাঁর বাবা।

স্বাধীনতা উত্তর সময়ে বলতে গেলে রাম জেঠমালানির মতো উচ্চতা ও প্রচার পাননি কোনও আইনজীবীই। একে তো আইনি সওয়ালের দিক থেকে তিনি ছিলেন ক্ষুরধার, সেই সঙ্গে রাজনীতিতে চলে আসায় আরও প্রচারের আলো পেয়েছিলেন রাম। জরুরি অবস্থার সময় তাঁর ভূমিকার কথা এ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও স্বীকার করেছেন। তা ছাড়া বাবরি মসজিদ মামলায় লালকৃষ্ণ আডবাণীর হয়ে তিনি সওয়াল করেছিলেন। লালু প্রসাদ, জয়ললিতা, অরবিন্দ কেজরীওয়ালের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে হাই প্রোফাইল মামলাও লড়েছেন। পরবর্তী কালে ৬ বার রাজ্যসভায় নির্বাচিত হয়েছেন। সেই সঙ্গে ইউনাইটেড ফ্রন্ট ও বাজপেয়ী সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন রাম জেঠমালানি।

তবে বরাবরই ঠোঁটকাটা ছিলেন এই দুঁদে আইনজীবী। ২০০০ সালে বাজপেয়ী সরকারের সমালোচনা করে তিনি মন্ত্রিসভা ছাড়েন। এমনকি এমন সব কথা পষ্টাপষ্টি বলতে শুরু করেছিলেন যে সমস্যা পড়ে গিয়েছিল কেন্দ্রে শাসক দল। তবে ছেলে মহেশ বরাবরই বিজেপি, বিশেষ করে মোদী-জেটলিদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখেই চলতেন।
রাম জেঠমালানির জন্ম অধুনা পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে। মাত্র ১৭ বছর বয়সে আইন পাশ করেন তিনি। তার পর করাচিতে প্র্যাকটিস শুরু করে দেন। পরে দেশ ভাগ হলে তাঁরা সপরিবার মুম্বইতে চলে আসেন। সেই শুরু। তার পর ক্রমেই আইনের পেশায় উচ্চতা পেয়েছিলেন জেঠমালানি।

তাঁর মৃত্যুতে এ দিন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী প্রমুখ।

Comments are closed.