বুধবার, অক্টোবর ১৬

ফুঁসে উঠেছে নদী, লাগাতার ভূমিধস, বানভাসি কেরলে মৃত ৮৩, ঘরছাড়া লক্ষাধিক

দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাগামছাড়া বৃষ্টিতে ভাসছে কেরল। বানভাসি কর্নাটকও। গত তিনদিনে নাগাড়ে ৮০ বার ভূমিধসে প্রাণ গেছে ৫২ জনের। বন্যার জলের তোড়ে বাড়িঘর ভেসে গিয়ে মৃত আরও অনেক। জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দলের পরিসংখ্যান বলছে মৃতের সংখ্যা এখনও অবধি ৮৩। ঘরছাড়া প্রায় দেড় লক্ষ মানুষ। ২০১৮ সালের অগস্টে বন্যার ভয়াল রূপ দেখেছিল কেরল।  অবিশ্রান্ত বৃষ্টিতে ভেসে গিয়েছিল রাজ্য, মারা গিয়েছিলেন ৪৮৩ জন।

সরকারি সূত্রে খবর, ওয়েনাড, ইদুক্কি, মালাপ্পুরম, কোঝিকোড়ে লাল সতর্কতা জারি হয়েছে। ১৪টি জেলায় স্কুল-কলেজ বন্ধ। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কোচির। জল ঢুকে বন্ধ রয়েছে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। আরও পাঁচটি জেলার জন্য কমলা সতর্কতা জারি হয়েছে। তাদের মধ্যে আছে আলাপ্পুঝা, কোট্টায়াম, ত্রিচুর ও কাসারগড়। উদ্ধারকাজে নেমেছে সেনাবাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) আরও ১৩ কোম্পানি। ডুবে যাওয়া ওয়ানাড় জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণে শনিবার সকালেই পৌঁছে গিয়েছে নৌবাহিনীর চপার।

কেরলের ওয়ানাড়ের পুথুমালায় বৃহস্পতিবার ধস নেমে ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে অসংখ্য বাড়িঘর। মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। শনিবার সন্ধে পর্যন্ত ৬ জনের দেহ উদ্ধার করা গেছে বলে জানিয়েছে এনডিআরএফ। কালপেট্টার বিধায়ক সিকে শশীধরণ জানিয়েছেন, বহু মানুষ নিখোঁজ এই এলাকায়। শরণার্থী শিবিরগুলিতে আশ্রয় নিয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। মেপ্পাডি অঞ্চলে কাদার ধস নেমে অনেকে আটকে পড়েছিলেন। এনডিআরএফের কর্মীরা সেখান থেকে ৫৪ জনকে উদ্ধার করেছেন।

রাজ্যের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ৪৪ টি নদীর মধ্যে অর্ধেকের জল বিপদ সীমার ওপর দিয়ে বইছে। অনেকগুলি বাঁধও ভরে গিয়েছে। ২০ হাজার মানুষকে তাঁদের বাসস্থান থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে নিরাপদ জায়গায়। কেরল সরকার পর্যটকদের বলেছে, ১৫ অগস্ট অবধি ওয়ানাড় অথবা ইদুক্কিতে যাবেন না। নিলাম্বুর, ইরিত্তি, কোট্টায়ুর এবং পাহাড়ের ওপরে মুন্নার অঞ্চলে আরও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে  হাওয়া অফিস।

বানভাসি কর্নাটকও। এখনও অবধি বন্যার কারণে ২৬ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা বলেছেন, ৪৫ বছরের মধ্যে এত বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখেনি রাজ্য। টানা বৃষ্টিতে ফুঁসে উঠেছে নেত্রবতী নদী। বিপর্যস্ত দক্ষিণ কন্নড়ের মাঙ্গালুরু গ্রাম। তা ছাড়া ধস নেমেছে মারানাহাল্লি ও সকলেশপুরেও। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ মানুষকে।

Comments are closed.