শনিবার, মার্চ ২৩

‘যখন গোটা দেশ কাঁদছে, তখন ফোটোশ্যুটে ব্যস্ত ‘প্রাইম টাইম মিনিস্টার’, খোঁচা রাহুলের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফটোশ্যুটে ব্যস্ত ছিলেন, এমনই অভিযোগ তুলেছে কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা সাংবাদিক সম্মেলন করে সেই ছবি তুলে ধরেন। এ বার টুইটারে প্রধানমন্ত্রী মোদীর বিরুদ্ধে আঙুল তুললেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী। বললেন, “পুলওয়ামায় জঙ্গি হামলায় ৪০ জওয়ানের শহিদ হওয়ার তিন ঘণ্টা পরেও ‘প্রাইম টাইম মিনিস্টার’ ফিল্ম শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন।”

টুইটারে মোদী সরকারকে ‘ফোটোশ্যুট সরকার’ বলে খোঁচা দিয়ে রাহুল আরও বলেছেন “জঙ্গি হামলার পর দেশের সবার ঘরে যখন দুঃখ তখন প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে নদীতে ফোটিশ্যুট করছিলেন।” অবশ্য এই প্রথম নয়, এর আগেও দেশের নিরাপত্তা নিয়ে মোদী সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন রাহুল। অভিযোগ করেছেন, দেশের নিরাপত্তার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী একটুও চিন্তিত নন। তিনি খালি নিজের সুবিধা ও ভোটব্যাঙ্কের কথা ভেবে থাকেন। দেশের মানুষের উন্নতির ব্যাপারে মোদী কোনও মাথাব্যথা নেই।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে সুরজেওয়ালা অভিযোগ করেন, জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ। তা সত্ত্বেও সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা পর্যন্ত ডিসকভারি চ্যানেলের সঙ্গে ‘প্রোমোশনাল ফিল্ম’ শ্যুট করছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর প্রশ্ন, “পুলওয়ামায় আমাদের জওয়ানদের শহিদ হওয়ার ঘটনায় পুরো দেশ যখন শোক পালন করছে, সন্ধ্যা পর্যন্ত সিনেমার শ্যুটিং করতে ব্যস্ত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সারা বিশ্বে এই রকম প্রধানমন্ত্রী আর আছেন কি?”

কংগ্রেসের আরেক নেতার কথায়, প্রধানমন্ত্রী স্মার্ট ফোন ব্যবহার করেন। রাজনৈতিক কর্মসূচিই হোক, কি এমনই ঘুরতে যাওয়া, মাঝেমধ্যেই সেলফি তুলতে দেখা যায় তাঁকে। অথচ তিনিই নাকি এত বড় ঘটনার তিন ঘণ্টা পরেও কোনও খবর পাননি। এই টেকনোলজির যুগে এও কী সম্ভব? তিনি দাবি করেছেন, এত বড় জঙ্গি হামলার খবর যদি তিন ঘণ্টা পরেও প্রধানমন্ত্রীর কাছে না পৌঁছয় তাহলে দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টা, প্রতিরক্ষামন্ত্রক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আধিকারিকদের পদত্যাগ করা উচিত। এই অজুহাত বাচ্চারা দেয়।

যদিও কংগ্রেসের এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। তাঁদের বক্তব্য, খারাপ আবহাওয়া ও যোগাযোগের সমস্যার কারণেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই খবর ২৫ মিনিট দেরিতে পৌঁছেছিল। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে নিজের শ্যুটিং বন্ধ করে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। রামনগর গেস্টহাউসে ফিরে আসার আগেই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিতকুমার দোভাল, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং জম্মু কাশ্মীরের রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের থেকে সেখানকার খবর নেন বলেও জানানো হয়েছে বিজেপির তরফে।

তবে বিজেপির এই বক্তব্যকে সাফাই গাওয়া ছাড়া আর কিছু মানতে নারাজ কংগ্রেস। তাই বিজেপির বক্তব্যের পরেও এই ঘটনা নিয়ে আওয়াজ তুলছে কংগ্রেস। ময়দানে নেমেছেন রাহুল গান্ধী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদী বিরোধী এই রকম একটা ঘটনা কোনও ভাবেই হাতছাড়া করতে রাজি নয় কংগ্রেস। তাদের কার্যকলাপই বুঝিয়ে দিচ্ছে, পুলওয়ামা হামলার সময় প্রধানমন্ত্রীর ফোটোশ্যুটের প্রসঙ্গ নিয়ে নির্বাচন অবধি জারি থাকবে তাদের বিরোধিতা।

আরও পড়ুন

#Breaking: সাহারানপুর থেকে দুই জইশ জঙ্গিকে পাকড়াও করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ

Shares

Comments are closed.