রবিবার, অক্টোবর ২০

আমার বাবাকে ওসব বলে লাভ নেই, কর্মের ফল আপনাকে ভুগতেই হবে : রাহুল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার নির্বাচনী সভা থেকে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর বাবা তথা ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে নিয়ে তোপ দেগেছিলেন মোদী। বফর্স দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে এনে মোদী বলেন, রাজীব গান্ধীর জীবন শেষ হয়েছিল ‘ভ্রষ্টাচার নম্বর ১’ হিসেবে। এর উত্তর রবিবার একটি টুইটে দিলেন রাহুল। বললেন, নিজের মনের বিশ্বাস তাঁর বাবার উপর দিয়ে চালিয়ে কোনও লাভ নেই। নিজের কর্মের ফল পাবেন মোদী।

শনিবার উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে একটি নির্বাচনী সভায় বফর্স প্রসঙ্গ তুলে এনে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে নিয়ে কংগ্রেসের উপর আক্রমণ শানান মোদী। রাহুলের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনার বাবাকে তাঁর পারিষদরা মিস্টার ক্লিন বলে ডাকত। কিন্তু তাঁর জীবন শেষ হয়েছিল ভ্রষ্টাচারী নম্বর ১ হিসেবে।” ১৯৮০ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে বফর্স চুক্তিতে দুর্নীতির অভিযোগ আসে। কিন্তু আদালতে ক্লিন চিট পান রাজীব। আদালত জানায়, রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনও প্রমাণ নেই। ১৯৯১ সালে আততায়ীর হাতে নিহত হন রাজীব গান্ধী।

রবিবার টুইটে মোদীকে উত্তর দিলেন রাহুল। বললেন, “যুদ্ধ শেষ হয়ে গিয়েছে। আপনার কর্মফল আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। নিজের মনের বিশ্বাস আমার বাবার উপর সাজিয়ে কোনও লাভ নেই। আমার সব ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা।” রাজীব গান্ধীকে নিয়ে মন্তব্য করার জন্য মোদীকে কটাক্ষ করেছেন প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া ও পি চিদাম্বরমও। চিদাম্বরম বলেন, “মোদী সব সীমা পার করে গিয়েছেন। ১৯৯১ সালে যে মারা গিয়েছেন, তাঁর কথা তুলে এনে তাঁর ভাবমূর্তি খারাপ করার চেষ্টা করছেন মোদী।” রাহুলের বোন তথা কংগ্রেসের পূর্ব উত্তরপ্রদেশের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়া টুইট করে বলেন, “যে প্রধানমন্ত্রী শহিদদের বলিদানের কথা বলে ভোট চাইছেন, তিনি শনিবার এমন একজন প্রধানমন্ত্রীকে অসম্মান করেছেন, যিনি দেশের জন্যই শহিদ হয়েছিলেন। অমেঠীর মানুষ ওনাকে জবাব দেবে। রাজীব গান্ধী অমেঠীর মানুষের জন্য নিজের জীবন দিয়েছেন। যারা দেশকে ঠকায়, দেশ তাদের ক্ষমা করে না মোদীজি।”

এই ঘটনার নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। টুইট করে মমতা জানিয়েছেন, “আমি প্রচারে ব্যস্ত থাকায় আমার মতামত জানাতে দেরি হলো। এক্সপায়ারি পিএম মোদীজি যেভাবে প্রাক্তন পিএম রাজীব গান্ধীর ব্যাপারে কথা বলেছেন, তা সত্যি দুর্ভাগ্যজনক। দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন রাজীবজি। আমি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি।”

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের বক্তব্য, মোদী এর আগেও কংগ্রেসকে পরিবারতন্ত্র কিংবা নামদার বলে কটাক্ষ করলেও কোনও দিন রাজীব গান্ধীর প্রসঙ্গ তুলে আনেননি। অন্যদিকে রাহুল গান্ধী মোদীকে বারবার রাফায়েল অস্ত্রে ধরাশায়ী করতে চেয়েছেন। সে সংসদ হোক, কি নির্বাচনী প্রচার, রাহুলের অভিযোগ, দেশের সুরক্ষার বিনিময়ে নিজের পকেট ভরেছেন মোদী। তাই এ বার শেষ পর্যন্ত বফর্সের প্রসঙ্গ তুলে আনলেন মোদী। রাহুল তথা কংগ্রেসকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়ার জন্যই রাজীব গান্ধীকে ‘ভ্রষ্টাচারী নম্বর ১’ বলে আক্রমণ করলেন মোদী। পর্যবেক্ষকদের আরও বক্তব্য, রাহুল-প্রিয়ঙ্কা আবার মোদীর অস্ত্রেই মোদীকে ঘায়েল করার চেষ্টা করলেন। যেহেতু রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে কিছু প্রমাণিত হয়নি, তাই তাঁকে দোষী বলা যায় না। বরং তাঁর হত্যাকে বলিদান হিসেবে উল্লেখ করে মোদীর দেশভক্তিকে কটাক্ষ করলেন ভাই-বোন।

আরও পড়ুন

আপনার বাবা মারা গিয়েছিলেন ‘ভ্রষ্টাচারী নম্বর ১’ হিসেবে, রাহুলকে আক্রমণ মোদীর

Comments are closed.