‘কোনও শক্তি আমাদের থামাতে পারবে না’, হাথরাসের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে হুঙ্কার প্রিয়ঙ্কার

২৭

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ বৃহস্পতিবার পারেননি। মার খেতে হয়েছিল। এমনকি গ্রেফতার পর্যন্ত হতে হয়েছিল কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি রাহুল গান্ধী ও সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়াকে। কিন্তু তাতে তাঁদের দমানো যায়নি। শনিবার ফের একবার হাথরাসের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। অনেক বাধা টপকে অবশেষে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পান তাঁরা। আর তাঁদের সঙ্গে দেখা করেই প্রিয়ঙ্কার হুঙ্কার, ‘কোনও শক্তি আমাদের থামাতে পারবে না।’

শনিবার রাত আটটার পর হাথরাসের নির্যাতিতার বাড়িতে যান রাহুল, প্রিয়ঙ্কা। সেখানে গিয়ে তরুণীর মাকে জড়িয়ে ধরেন প্রিয়ঙ্কা। বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন দু’জনে। তাঁদের সমস্যার কথা, দাবির কথা শোনেন। প্রশাসনের বিরুদ্ধে পরিবারের অভিযোগ শুনে তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তাঁরা।

তারপরেই সংবাদমাধ্যমের সামনে রাহুল গান্ধী বলেন, “কোনও শক্তি আমাদের চুপ করিয়ে রাখতে পারবে না। পরিবার যাতে ন্যায় বিচার পায় তার চেষ্টা করব আমরা।” অন্যদিকে প্রিয়ঙ্কাও অনেকটা একই সুরে বলেন, “যখনই কোথাও কোনও অন্যায় হবে, আমরা সেখানে উপস্থিত হয়ে ন্যায় বিচারের দাবি জানাব। কোনও শক্তি আমাদের থামাতে পারবে না।”

এর আগে শনিবার হাথরাসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে টুইট করে কংগ্রেস রাহুল গান্ধী টুইট করে বলেন, “পৃথিবীর এমন কোনও শক্তি নেই যা আমাকে হাথরাসের মৃত তরুণীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করা থেকে রুখতে পারে।” গাড়িতে ওঠার আগে সাংবাদিকদের প্রিয়ঙ্কাও বলেন, “হাথরাসে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের দুঃখ ভাগ করে নেওয়া থেকে কেউ আমাকে আটকাতে পারবে না। যদি আজ না হয়, কাল আবার চেষ্টা করব।”

শনিবার দুপুর আড়াইটেয় রুপোলি রং-এর টয়োটা ইনোভা গাড়িতে চড়ে রাহুল, প্রিয়ঙ্কা হাথরাসের উদ্দেশে রওনা হন। গাড়ি চালাচ্ছিলেন প্রিয়ঙ্কা। তাঁদের সঙ্গে যে কনভয় ছিল, তাতে ছিলেন ৩০ জন কংগ্রেস সাংসদ। তাঁদের অন্যতম অধীর চৌধুরি, কে সি বেণুগোপাল এবং শশী তারুর। দিল্লি থেকে হাথরাসের দূরত্ব ২০০ কিলোমিটার।

রাহুলদের কনভয় যখন দিল্লি-নয়ডা ডায়রেক্ট ফ্লাইওভারের টোল প্লাজায় পৌঁছেছে, তখন দেখা যায়, মোতায়েন করা হয়েছে বিরাট পুলিশবাহিনী। পুরো রাস্তা ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তোলেন, গণধর্ষিতাকে বাঁচানোর জন্য পুলিশ এই তৎপরতা দেখায়নি কেন? এই সময় কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের একদফা মারপিট হয়। তখন গাড়ি থেকে নেমে এক ব্যক্তিকে পুলিশের লাঠির ঘা থেকে রক্ষা করেন প্রিয়ঙ্কা।

দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে ওই মারপিটের ছবি মোবাইলে তুলে পোস্ট করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যায়, সাদা কুর্তা পরা এক ব্যক্তিকে পুলিশ লাঠি দিয়ে মারছিল। সেই দেখে গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন প্রিয়ঙ্কা। গাঢ় নীল কুর্তা ও সাদা মাস্ক পরা নেত্রী লাফিয়ে পেরিয়ে গেলেন একটি হলুদ ব্যারিকেড। তারপর লোকটিকে আড়াল করে দাঁড়ালেন। তাঁকে রাস্তার ধারে বসালেন। পুলিশ যাতে আর না মারতে পারে, সেজন্য তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে রইলেন।

শেষ পর্যন্ত শর্ত সাপেক্ষে রাহুল, প্রিয়ঙ্কাদের হাথরাস ঢুকতে অনুমতি দেয় পুলিশ। অনেকের মতে ভাই-বোনের জেদের সামনে অনুমতি দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। শেষ পর্যন্ত রাত আটটার পর নির্যাতিতা, মৃতার বাড়িতে যান রাহুলরা। এই গোটা জার্নিতে গাড়ির স্টিয়ারিং ছিল প্রিয়ঙ্কার হাতে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More