নবীন পট্টনায়েককে পুরীর রাজার অনুরোধ: সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে রথের রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানান

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, করোনা মহামারির এই পরিস্থিতিতে কোনও ভাবেই এবছর পুরীর রথযাত্রায়.অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়। শুক্রবার শীর্ষ আদালতের রায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক। সেই বৈঠকেও সিদ্ধান্ত হয়, রাজ্য.সরকার সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনেই পদক্ষেপ করবে। তারপর শনিবার পুরীর রাজা গজপতি দিব্যসিংহ দেব দীর্ঘ চিঠি লেখেন মুখ্যমন্ত্রীকে। যার মূল কথা রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে যাক। রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হোক।

    শনিবার পুরীর মন্দিরের বাইরে বিক্ষোভ দেখান পুরোহিত এবং পাণ্ডারা। তাঁদের দাবি, রথযাত্রায় অনুমতি দেওয়া হোক। দুর্যোগ, মহামারী কোনও কারণেই রথযাত্রা বন্ধ হতে পারে না। দ্বাদশ শতাব্দীতে তৈরি হওয়া পুরীর মন্দিরের প্রথম সেবক পুরীর রাজা। তিনিই মন্দির পরিচালন কমিটির মুখ্য। এদিন কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পরে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন গজপতি দিব্যসিংহ দেব।

    তিনি ওই চিঠিতে লেখেন, “কোনও ভাবেই রথযাত্রা বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তা সে যে পরিস্থিতিই হোক না কেন। অন্তত পুরীতে রথযাত্রায় অনুমতি পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।” নবীন পট্টনায়েকের উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, “ইলেকট্রনিক্স ও ডিজিটাল মিডিয়ার মাধ্যমে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ রথযাত্রা দেখার জন্য মুখিয়ে থাকেন। রথযাত্রা বন্ধ করা মানে ওড়িশার মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা হবে। প্রসঙ্গত, রথযাত্রা উপলক্ষে প্রতিবছর পুরীতে অন্তত ১০-১২ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়।

    করোনা অতিমহামারীর মধ্যে পুরীতে যাতে রথযাত্রা না হয়, সেজন্য একটি পিটিশন জমা পড়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। তার ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি শরদ অরবিন্দ বোবদে মন্তব্য করেন, “আমরা যদি রথযাত্রায় অনুমতি দিই তাহলে প্রভু জগন্নাথ আমাদের ক্ষমা করবেন না।”

    প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আরও বলে, “অতিমহামারীর সময় জনসমাগমে অনুমতি দেওয়া যায় না।” বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, অতিমহামারীর পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনও জনবহুল জায়গায় রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় বহুগুণ। এই প্রেক্ষাপটে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয় “জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এবছর রথযাত্রায় অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।”

    কাল বাদে পরশু ২৩ জুন রথ। তার আগ দ্বিমুখী চাপে ওড়িশার সরকার। একদিকে সুপ্রিম কোর্টের রায়। অন্যদিকে ধর্মীয় ভাবাবেগ। এখন দেখার রায় পুনর্বিবেচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় কিনা ওড়িশা সরকার।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More