শুক্রবার, এপ্রিল ২৬

‘বন্দে মাতরম গাওয়া আমার ধর্মের বিরুদ্ধে,’ স্কুল শিক্ষককে বেধড়ক মার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’ উচ্চারণ করতে চাননি এক মুসলিম স্কুল শিক্ষক। তাতেই বেজায় খাপ্পা হয়ে ওঠেন স্কুলের বাকি শিক্ষক ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত এলাকার বাসিন্দারা। প্রথমে ধস্তাধস্তি, পরে মাটিতে ফেলে পেটানো হয় শিক্ষককে। ২৬ জানুয়ারির এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। সেই সময় স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শিক্ষকের নাম আফজল হুসেন। তিনি জানিয়েছেন, ভয় ও আতঙ্কের কারণে পুলিশকে এই কথা জানাতে তিনি সাহস পাননি। তবে গত মাসের ঘটনার ভিডিও কোনও ভাবে ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে যায়। সেখানে দেখা গেছে, পতাকা উত্তোলনের সময় ঝামেলা শুরু হয়েছে স্কুল চত্বরে। আচমকাই আফজলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে উত্তেজিত জনতা। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে।

শিক্ষকের কথায়, “বন্দে মাতরম গাওয়া আমার ধর্মের বিরোধী। বন্দে মাতরম শব্দের অর্থ হল ভারত মাতার বন্দনা করা, তাতে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা আল্লার উপাসক।” সেই সঙ্গেই তাঁর দাবি, “সংবিধানের কোথাও লেখা নেই ইচ্ছার বিরুদ্ধে আমাকে বন্দে মাতরম গাইতে হবে।” অভিযোগ, এই কথা শোনার পর প্রথমে আফজলকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। তিনি রাজি না হলে, তাঁকে মারধর করতে শুরু করেন স্কুলের বাকি শিক্ষক ও স্থানীয়রা। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এই অভিযোগের সত্যতা জানা যায়নি।

জেলা শিক্ষা দফতরের শীর্ষ আধিকারিক দীনেশ চন্দ্র দেব জানিয়েছেন, স্কুল ও শিক্ষকের তরফ থেকে কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলেই ঘটনার তদন্ত শুরু হবে।

বিহারের শিক্ষামন্ত্রী কে এন প্রসাদের কথায়, “আমাদের জাতীয় গানের অপমান ক্ষমার অযোগ্য।  অভিযোগ প্রমাণিত হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। “

Shares

Comments are closed.