বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

কাঠের বাক্সে কাপড়-কম্বলে মোড়া ‘মমি’, ভোপালের ঘটনা উস্কে দিল বাঁকুড়ার আকাঙ্ক্ষা-হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির দরজা খুলতেই কটু গন্ধে নাক-মুখ ঢেকে ফেলেন পুলিশ কর্তারা। পাশে দাঁড়িয়ে তখন থরথর করে কাঁপছেন বাড়ির মালিক এবং জনা কয়েক সাফাইকর্মী। তাঁরাই খবর দিয়ে ডেকে এনেছেন পুলিশকে। খালি বাড়ির ভিতরে কাপড়ে জড়াজড়ি করে রয়েছে একটা ‘মমি’। কাপড়ের ভাঁজ খুলে আলো-হাওয়ার সংস্পর্শে আসতেই তাতে পচন শুরু হয়েছে। একটু একটু করে গলছে দেহের নানা অংশ।

ঘটনাস্থল ভোপালের বিদ্যা নগর। বছর দুই আগে এই ভোপালেই বাঁকুড়ার তরুণী আকাঙ্ক্ষা শর্মার হত্যাকাণ্ড নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল দেশ। প্রেমিক সাকেতনগরের বাসিন্দা উদয়ন দাসের সঙ্গে লিভ-ইন করতে এসে খুন হতে হয়েছিল আকাঙ্ক্ষাকে। ট্রাঙ্কের ভিতর সিমেন্ট ঢেলে তার দেহের মমি বানিয়ে রেখেছিল উদয়ন। পুলিশ জানিয়েছে, বিদ্যা নগর সি-সেক্টরের একটি আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে ওই মৃতদেহ উদ্ধার হয় রবিবার সন্ধেয়। দেহ এতটাই বিকৃত হয়ে গেছিল যে সেটা মহিলা না পুরুষের প্রথমে বোঝা যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর দেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

মৃতের নাম বিমলা শ্রীবাস্তব (৬০)। রাজ্য পরিবহন দফতরের কর্মী ছিলেন। ২০০২ সাল থেকে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন বিমলা ও তাঁর ছেলে অমিত। স্বামী মারার যাওয়ার পর থেকে প্রায়ই অসুস্থ থাকতেন বিমলা। হৃদরোগেও আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর শরীরের একটা অংশ অসাড় হয়ে গেছিল।  এলাকার এক বাসিন্দা ডি পি খাতরাকর জানিয়েছেন, অমিতের কোনও চাকরি ছিল না। পাড়ার কারওর সঙ্গে বিশেষ মেলামেশাও করতেন না। গত ছ’মাসে মা ও ছেলেকে বাড়ির বাইরে কেউ দেখেননি। ফ্ল্যাট বেচে দেওয়ার কথা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি তাঁরা।

আরও পড়ুন: চার বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে স্কুল শিক্ষককে ফাঁসিতে ঝোলানোর রায় দিল মধ্যপ্রদেশের আদালত

সাব ডিভিশনাল অফিসার দীনেশ আগরওয়াল বলেন, খুনটা হয়েছে অন্তত মাস ছয়েক আগে। সম্ভবত গলা টিপে খুন করা হয় বিমলাকে। তবে খুনের পদ্ধতি এখনও স্পষ্ট নয়। এর পরে মৃতদেহ কাপড় ও কম্বল দিয়ে এমন ভাবে মুড়ে ফেলা হয় যাতে ভিতরে হাওয়া না ঢুকতে পারে। সেই দেহ পরে কাঠের বাক্সে ভরে ফ্ল্যাটের এক কোণায় ফেলে রাখা হয়।

“আমাদের ফ্ল্যাট বেচার পরে কোনও যোগাযোগ করেননি বিমলা ও তাঁর ছেলে। কবে ফ্ল্যাটের মালিকানা পাবো সে বিষয়েও স্পষ্ট করে কিছু জানানি। ছ’মাস ধরে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারিনি। শেষে ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখি এই কাণ্ড,” জানিয়েছেন ফ্ল্যাটের বর্তমান মালিক রামবীর সিংহ।

প্রেমিকা আকাঙ্ক্ষাকেও অনেকটা এমন ভাবেই খুন করেছিল উদয়ন। দেহ পোরা হয়েছিল টিনের ট্রাঙ্কে। তার মধ্যে ফেলা হয়েছিল সিমেন্ট গোলা। ফলে দেহ কংক্রিটের ‘মমি’র আকার নিয়েছিল। পাঁচ ফুটের দেহটি ট্রাঙ্কে আঁটানোর জন্য মুন্ডু ও পা মুড়ে দেওয়া হয়েছিল। শুধু প্রেমিকাকে নয়, প্রমাণ লোপাটের জন্য নিজের মা, বাবাকেও খুন করে মাটিতে পুঁতে দিয়েছিল উদয়ন।

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Shares

Comments are closed.