ধুঁকতে থাকা জেটে প্লেনের সংখ্যা দাঁড়াল ৯টি, বন্ধ আন্তর্জাতিক উড়ান, জরুরি বৈঠক প্রধানমন্ত্রীর দফতরে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ২৫ বছরের ইতিহাসের ভরাডুবির সময় কি তবে এসে গেল? ঋণের দায়ে ধুকতে থাকা জেট উড়ানসূচিতে বিস্তর কাটছাঁট করেছে আগেই। ১২৩ থেকে এক ধাক্কায় বিমানের সংখ্যা এসে ঠেকেছিল ১৪তে। শুক্রবার দেখা গেল সেখানেই জ্বলজ্বল করছে মাত্র ৯টি বিমান। সোমবার পর্যন্ত বাতিল আন্তর্জাতিক পরিষেবা। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিচার করে শেষে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জেট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি বৈঠক তলব করলেন মোদীর প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি নৃপেন্দ্র মিশ্র।

ডিরেক্টর জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন এবং সিভিল অ্যাভিয়েশন সেক্রেটারির সঙ্গে এই বিষয়ে জরুরি কথাবার্তা বলবেন নৃপেন্দ্র মিশ্র। বিমানমন্ত্রী সুরেশ প্রভু আগেই বলেছিলেন, ঋণদাতা ও জেটের মধ্যে যা ঠিক হওয়ার হবে, কেন্দ্র তাতে নাক গলাবে না। তবে, জেটের সাম্প্রতিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে সিভিল অ্যাভিয়েশন সেক্রেটারি প্রদীপ সিং খারোলাকে তিনি বলেন, “জেট এয়ারওয়েজ সম্পর্কিত সমস্ত বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে দেখুন। যত দ্রুত সম্ভব যাত্রী পরিষেবার দিকে নজর দেওয়া উচিত।”

জেট অবশ্য বৃহস্পতিবারই জানিয়েছে, লিজের টাকা না ঢোকায় উড়ানসূচীতে আরও ১০টি বিমান বসিয়ে দিয়েছে তারা। গতকাল পর্যন্তও জেটের হাতে ছিল ১৪টি বিমান। আজ সেই সংখ্যা এসে ঠেকল ৯টিতে। নিয়ম অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা চালানোর জন্য এ দেশে বিমান পরিবহণ সংস্থার হাতে অন্তত ২০টি বিমান থাকা জরুরি। সেটা এই মুহূর্তে জেটের হাতে নেই। এ দিকে সোমবার পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আমস্টারডাম, প্যারিস এবং লন্ডনগামী জেটের সমস্ত উড়ান। পাশাপাশি, নতুন নির্দেশ না আসা পর্যন্ত কলকাতা-সহ পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতও আপাতত থাকবে জেটের উড়ান মানচিত্রের বাইরে। মুম্বই-কলকাতা, কলকাতা-গুয়াহাটি, দেহরাদূন-গুয়াহাটি-কলকাতাগামী উড়ানও আপাতত বাতিলের তালিকায়।

বাজারে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকার দেনা জেটের। সংস্থার পুনর্গঠনের জন্য দরকার ৯,৫৩৫ কোটি টাকা। গত তিন মাসের বেশি বেতন পাচ্ছেন না সংস্থার পাইলট ও ইঞ্জিনিয়াররা। ঋণের কিস্তি মেটাতে না পারা, নগদের সমস্যা, কর্মীদের বকেয়া— এই দুর্দশা মেটানোর জন্য স্টেট ব্যাঙ্কের নেতৃত্বাধীন ঋণদাতাদের গোষ্ঠী (এসবিআই, পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, কানাড়া ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক, ইলাহাবাদ ব্যাঙ্ক) এগিয়ে এলেও নতুন লগ্নিকারীর অভাবে থমকে গেছে সমস্ত পরিষেবা। জেট জানিয়েছে, নতুন মালিকের খোঁজ না পাওয়া পর্যন্ত ঋণদাতারা প্রাথমিক ভাবে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দিয়েছিল জেটকে। কিন্তু, কোনও সংস্থা উৎসাহ নিয়ে লিখিত ভাবে আগ্রহের কথা জানায়নি। তাই নতুন লগ্নিকারীদের খোঁজে একপ্রকার বাধ্য হয়েই সময়সীমা বাড়াতে হয়েছে। চূড়ান্ত দর জমা দিতে হবে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে।

আরও পড়ুন:

ঋণের বোঝা, তায় জ্বালানি সংকট, দু’দিনের জন্য সমস্ত আন্তর্জাতিক উড়ান বাতিল করল জেট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More