‘রাম মন্দির নির্মাণের জন্য রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, চলুন এ বার রাষ্ট্র নির্মাণ করি’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণার পর পরই টুইট বার্তায় তিনি বলেছিলেন, “কারও জিত বা কারও হার হিসাবে এই রায়কে দেখা ঠিক হবে না। বরং ভারত ভক্তিকেই আরও মজবুত করতে হবে”।

পরে সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় তাঁর ভাবনাকে আরও স্পষ্ট করে ব্যাখ্যা করতে চাইলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বললেন, “রাম মন্দির নির্মাণের জন্য রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এ বার রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে। সে জন্য সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। সমাজের কেউ পিছিয়ে পড়লে সামগ্রিক ভাবে দেশ এগোতে পারে না”।

সন্দেহ নেই প্রধানমন্ত্রী ‘সবকা সাথ-সবকা বিকাশের’ বার্তা দিতে চেয়েছেন। সংখ্যালঘুদের পাশে থাকার বার্তাও নিহিত রয়েছে এর মধ্যে। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, গেরুয়া শিবিরের এই সাফল্যের দিনে কেন এমন অবস্থান নিলেন নরেন্দ্র মোদী?

কারণ, বিজেপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই নরেন্দ্র মোদীর পরিচয় তো ভিন্ন-‘হিন্দু হৃদয় সম্রাট’!

১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংস করেছিলেন করসেবকরা। দেশ জুড়ে হিংসার ঘটনায় তিন হাজার মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। তার পর থেকে ওই ঘটনাকে রাজনীতি ও সমাজের একটা অংশের মানুষ বিভাজনের প্রতীক হিসাবেই দেখেন। অনেকের মতে, বাবরি ধ্বংসের ওই ঘটনা দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা বিভেদের রেখা তৈরি করে দিয়েছে। যে ক্ষতি অপূরণীয়।

বিপরীতে এটা বলাই যায় যে সুপ্রিম কোর্টের রায় তামাম গেরুয়া শিবিরকে এ দিন তাঁদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছে। রায় হিন্দুদের পক্ষেই গিয়েছে।

অনেকের মতে, তার পর কৌশলেই বৃহৎ হৃদয়ের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন মোদী-ভাগবতরা। তাই সঙ্ঘপ্রধান যেমন বলেছেন, তাঁদের সামনে কেউ হিন্দু, কেউ মুসলমান নন,সবাই দেশের নাগরিক। তেমনই প্রধানমন্ত্রীও বার বার বলেছেন, সৌভ্রাতৃত্ব ও বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের কথা। জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ দিন বলেন, “আজ ৯ নভেম্বর। এমন দিনেই বার্লিনের পাঁচিল ভাঙা হয়েছিল। দুই বিপরীত ধারার চিন্তা একসঙ্গে চলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আজ কর্তারপুর করিডর খুলেছে। তাতে ভারতের যেমন সহযোগিতা রয়েছে তেমন পাকিস্তানেরও। আবার অযোধ্যা মামলার রায়ও এক নতুন অধ্যায় রচনা করল। কারও মনে কোনও কূটতা থাকলেও তা তিলাঞ্জলী দেওয়ার দিন আজ।”

তিনি বলেন, নতুন ভারত গড়ার চ্যালেঞ্জ রয়েছে আমাদের সামনে। সে জন্য এগোতে হবে। আর খেয়াল রাখতে হবে আমাদের সঙ্গে যাঁরা পথ চলছেন, তাঁদের কেউ পিছিয়ে পড়ছেন না তো! তাই সবাইকে নিয়ে সবার সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক মজবুত করেই এগোতে হবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More