পাকিস্তানকে সমঝে দিতে জারি থাকবে লড়াই, সাফ জানিয়ে দিলেন মোদী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিজেপি-র চার আনার নেতা থেকে শীর্ষ নেতা, এখনও সুযোগ পেলে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে গর্ব করতে ছাড়েন না। কিন্তু উনিশের পয়লা দিনে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়ে দিলেন, ‘একটা লড়াই দিয়েই  পাকিস্তানকে সমঝে দেওয়া যাবে, এটা ভাবলে  বড় ভুল হবে। পাকিস্তানকে শুধরোতে আরও সময় লাগবে।’

    মনে পড়ে ২০১৪-র জানুয়ারি মাসের কথা? একটার পর একটা সভা থেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-কে মৌন বলে তামাশা করছেন শীর্ষ বিজেপি নেতারা। সঙ্গে বলছেন, ‘একবার মোদীজিকে প্রধানমন্ত্রী হতে দিন। পাকিস্তানকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে আমরা আসলে দুর্বল নই। কত ধানে কত চাল’।

    মোদী জমানার সাড়ে চার বছর কেটে গিয়েছে। আরেকটা লোকসভা ভোটের বছরে ঢুকে পড়েছে দেশ। আর  সার্জিক্যাল স্ট্রাইকে আদৌ কী হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন অনেক বিরোধী নেতাই। কংগ্রেস নেতারা তো প্রায়ই বলেন, মোদী জমানায় নিয়ন্ত্রণ রেখায় যত সেনা পাকিস্তানের আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছেন, অতীতে তা কোনও সরকারের সময় হয়নি। মাস তিনেক আগে জম্মু ও কাশ্মীরের এলওসি-তে বিএসএফ কম্যান্ডার নরেন্দ্র সিংকে হত্যা করে পাকিস্তানি রেঞ্জার্সরা। মুণ্ডহীন দেহ উদ্ধার হয় তাঁর। এরপরই বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছিল। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামতে হয় বিদেশ মন্ত্রককে। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে কথা দিয়েও ভারত-পাক বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক বাতিল করে নয়াদিল্লি। এরপরই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংকে বলতে শোনা গিয়েছিল, “বড় বদলা অপেক্ষা করছে পাকিস্তানের জন্য। আমি এক্ষুণি সবটা বলছি না। তবে দেখতে পাবেন। বুঝিয়ে দেওয়া হবে পাকিস্তানকে।”

    প্রধানমন্ত্রীর এ দিনের বক্তব্য শুনে অনেকেই বলছেন, যত ভোট এগিয়ে আসছে, ততই যেন সব কিছুতে সময় চাইছেন মোদী-অমিত শাহরা। এক কংগ্রেস নেতার কথায়, “ভোটের আগে বলেছিলেন, বিদেশ থেকে কালো টাকা দেশে ফিরিয়ে এনে সবার অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ করে টাকা ফেলে দেবে সরকার। কিন্তু বিজেপি সভাপতি বলেছিলেন ওটা আসলে জুমলা ছিল। কোনদিন শুনব, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকটাও জুমলা ছিল।”

    সার্জিক্যাল স্ট্রাইক নিয়ে সেনাবাহিনীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন প্রধানমন্ত্রী। সাক্ষাৎকারে বলেন, “সেনার সুরক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। তাঁদের মরতে দিতে চাইনি। দক্ষতার সঙ্গে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক করেছিল আমাদের সেনাবাহিনী। এ জন্য আমি গর্বিত। গোটা দেশের গর্ব করা উচিত। সার্জিক্যাল স্ট্রাইককে লঘু করে দেখানো মানে, সেনাবাহিনীকে অপমান করা।”

    পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে আবার, এ কথা বলার মধ্যে দিয়ে ভোটের আগে কৌশলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জিগির জাগিয়ে রাখলেন মোদী। বুঝিয়ে দিলেন, এখনই থামবে না ভারত। এটা চলবে। গরম হাওয়া জারি থাকবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More