বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭

ইদের আগে চেনা ছন্দে কাশ্মীর! সাময়িক ভাবে চালু টেলিফোন-মোবাইল-ইন্টারনেট পরিষেবা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত পাঁচ দিনের নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনি কিছুটা হলেও শিথিল হল ইদের আগে। শুক্রবার সকালে উপত্যকার কোনও কোনও জায়গায় বেজে উঠল ফোন। তালা খুলল ইন্টারনেট পরিষেবার। সরকারি সূত্রে খবর, এ দিন নমাজের আগে টেলিফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট-সহ যোগাযোগ মাধ্যমের উপর থেকে সাময়িক ভাবে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হলো। আগামী সোমবার ইদের আগে কাশ্মীরের বাইরে থাকা মানুষজন যাতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরতে পারেন, তাই এই পদক্ষেপ।

যোগাযোগ মাধ্যমের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি সাময়িক ভাবে উঠলেও গোটা উপত্যকা জুড়ে নিরাপত্তার চাদর এখনই সরানো হবে না। বিশেষত স্বাধীনতা দিবসের আগে পর্যন্ত কাশ্মীরের অলিতে গলিতে সেনা মোতায়েন থাকবে। অবাধে চলাফেরা ও ও জমায়েতের ওপরে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে। তবে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, ১১ অগস্ট ইদ-উল-জোহার আগের দিন জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ উৎসবের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সরকারি দফতরে ল্যান্ডলাইন ও লিজলাইন চালু হয়েছে। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে আরও কিছু কিছু লাইন চালু হবে। ইদে প্রবাসী কাশ্মীরিদের নিরাপদে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকও বৈঠক ডাকেন। একাধিক অফিসারকে জেলা ভাগ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

শ্রীনগরের জামা মসজিদের দরজা এ দিন সকালেও বন্ধ ছিল। শুক্রবারের প্রার্থণার জন্য অন্য ছোট মসজিদগুলির দরজা জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। রাজ্য পুলিশ সূত্রে খবর, উপত্যকার মানুষের নিরাপত্তার কথা ভেবেই শহরের মূল মসজিদগুলি খোলা হয়নি। তবে ছোট মসজিদগুলিতে জমায়েত ও নমাজ যদি শান্তিপূর্ণ থাকে, তাহলেই মূল মসজিদগুলির দরজা খোলার ব্যাপারে পদক্ষেপ করবে প্রশাসন।

৩৭০ ধারা বিলোপের পরে মোদী সরকারের মূল চিন্তার বিষয় ইদ। কারণ ইদের সময় কার্ফু না তুললে মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগতে পারে। গত পাঁচ দিনে ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকায় কাশ্মীরের বাইরে কর্মসূত্রে থাকা মানুষজন অভিযোগ জানিয়েছিলেন, যে তাঁরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। সিআরপিএফের এক অফিসার জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার শ্রীনগরের রাস্তায় অনেক বেশি অসামরিক গাড়ি দেখা গিয়েছে। শুক্রবার কোনও কোনও জায়গায় হয়তো কড়াকড়ি শিথিল করা হবে। তার আগে সেনাবাহিনী খতিয়ে দেখবে কোথায় কোথায় অশান্তির সম্ভাবনা কম। ভারতীয় সেনা অশান্তিপ্রবণ এলাকাগুলির একটি তালিকা তৈরি করেছে। তার মধ্যে আছে শোপিয়ান, পুলওয়ামা, অনন্তনাগ ও সোপোর।

Comments are closed.