বাংলায় ভাবা যায়? স্ট্রংরুমের বাইরে বসে অন্ত্যাক্ষরী খেলছেন দিগ্বিজয় আর সাধ্বী প্রজ্ঞার ভোটকর্মীরা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোট শেষ। স্ট্রংরুমের বাইরে ইভিএম আগলে রাখতে তৃণমূল আর বিজেপি কর্মীরা বসে রয়েছেন। হাসি, ঠাট্টা আর তুখোড় আড্ডা চলছে তাঁদের মধ্যে। বাংলায় এমনটা ভাবা যায়!

কিন্তু মধ্যপ্রদেশ করে দেখাল!

ভোপালে ভোট হয়ে গেছে চতুর্থ দফায়। ইভিএম ভিভিপ্যাট সব স্ট্রংরুমে বন্দি। দেখা গেল, স্ট্রংরুমের বাইরে পাহারায় বসে থাকা কংগ্রেস ও বিজেপি ভোট কর্মীরা নিজেদের মধ্যে চুটিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে দু’দলে ভাগ হয়ে গানের লড়াই তথা অন্ত্যাক্ষরী খেলছেন। সোশাল মিডিয়ায় সেই ভিডিয়ো ভাইরাল হয়ে গেল।

অথচ লোকসভা ভোটে এই মধ্যপ্রদেশেই নির্বাচনী লড়াই কোন তিক্ততায় পৌঁছেছিল গোটা দেশ দেখেছে। কংগ্রেস সেখানে প্রার্থী করেছে মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংহকে। তাঁর বিরুদ্ধে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহ প্রার্থী করে দেন সন্ত্রাসের ঘটনায় অভিযুক্ত সাধ্বী প্রজ্ঞাকে। যে ‘সন্ন্যাসিনী’ শুরু থেকেই ভোটের তর্ক বাধিয়ে দিতে চান উগ্র হিন্দুত্বের সুরে।

এমনকী লক্ষণরেখা অতিক্রম করে এক সময়ে এও বলে দেন, মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসে ছিলেন দেশপ্রেমী ও জাতীয়তাবাদী। সে জন্য পরে সাধ্বীকে ভর্ৎসনা পর্যন্ত করতে বাধ্য হন মোদী-শাহ।

তবে এতকিছুর পরেও সেখানে লড়াইটা ছিল মতাদর্শের, ভাবনার। উগ্র হিন্দুত্ব বনাম উদার চিন্তার। কিন্তু তা সত্ত্বেও হিংসার ঘটনা সেখানে ঘটেনি। কখনও কোথাও কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীরা পরস্পরের সঙ্গে হাতাহাতি, মারামারিতে জড়িয়ে পড়েননি। তার পর ভোট শেষ হতেই দেখা গেল এই বিস্ময়কর ছবি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটে হিংসার ঘটনা হিন্দিবলয়ের রাজ্যগুলিতে যে একেবারেই হয়নি তা হয়তো বলা যাবে না। কিন্তু তা এতটাই বিক্ষিপ্ত ও ব্যতিক্রমী যে দূরবীন দিয়ে দেখতে হবে। তুলনায় রাজনৈতিক হিংসার ঘটনার জন্য সাম্প্রতিক কালে বাংলা বার বার নজর কেড়েছে গোটা দেশের। ভোটের আগে হিংসা, ভোটের দিন হিংসা, মানুষকে বুথ পর্যন্ত যেতে না দেওয়া, সে জন্য ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা, খুন, জখম, বোমাবাজি এখনও বাংলার ভোটে দস্তুর। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ কোথাও কোথাও যেন শত্রু সমান বলে বিবেচিত হয়। পরস্পরের সঙ্গে আড্ডা দেওয়া তো সুষ্ঠু বিতর্কের পরিবেশও অনেক জায়গায় নেই। ভোটে যা হওয়ার হয়েছে, কাল বৃহস্পতিবার গণনার সময়েও হিংসার আশঙ্কা করছে নির্বাচন কমিশন। তাই দু’শ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই ছবি থেকে ভোপালের দূরত্ব দৃশ্যতই অনেকটা। কয়েক হাজার যোজন।

দেখুন সেই ভিডিয়ো:

আরও পড়ুন

#Breaking: ২৮ মে পর্যন্ত গ্রেফতার করা যাবে না অর্জুন সিংকে, জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More