শুক্রবার, অক্টোবর ১৮

এক সপ্তাহে ৩ বার, ফের পঞ্জাবের আকাশে পাকিস্তানী ড্রোন, তৎপরতা বাড়ছে সীমান্তে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সপ্তাহে তিনবার। গত তিনদিনে দ্বিতীয়বার পাকিস্তানী ড্রোন দেখা গেল পঞ্জাবের আকাশে। বুধবার সন্ধেবেলা পঞ্জাবের ফিরোজপুরের আকাশে বিএসএফ জওয়ানরা এই ড্রোন দেখতে পান।

সেনা সূত্রে খবর, বুধবার সন্ধ্যা ৭.২০ নাগাদ হাজারসিংওয়ালা গ্রামের আকাশে ওই ড্রোন দেখা যায়। তারপর রাত ১০.১০ মিনিটে ফের টেন্ডিওয়ালা গ্রামের আকাশেও ড্রোন উড়তে দেখা গিয়েছে। এর আগে সোমবার রাতে তিনবার ড্রোন দেখা যায়। মাঝরাতের দিকে অবশ্য উধাও হয়ে যায় ড্রোনটি। এর আগে ওই একই রাতে বিএসএফ জওয়ানরা সীমান্তের কাছে আরও ড্রোন লক্ষ্য করেন। এক সপ্তাহের মধ্যে এতবার পাকিস্তানী ড্রোন দেখা যাওয়ায় সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে সীমান্তে।

এই বিষয়ে পঞ্জাবের পুলিশ সুপার সুখবিন্দর সিং বলেন, “গত দু’দিন ধরে আমরা সীমান্তের কাছাকাছি একটি ড্রোনকে ঘুরে বেড়াতে দেখেছি। আমরা তদন্তের জন্য দল গঠন করেছি এবং বিএসএফ-এর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি।” তিনি আরও জানিয়েছেন, “গত মাসে ড্রোন থেকে পঞ্জাবের আটটি জায়গায় একে ৪৭ রাইফেল, গ্রেনেড এবং স্যাটেলাইট ফোন ফেলা হয়েছিল।” জানা গিয়েছে, ড্রোনগুলির প্রত্যেকটিতে পাঁচ কেজি পর্যন্ত ওজন বওয়া সম্ভব। আকাশের নীচের দিকে দিয়েই উড়ছিল ড্রোনগুলি।

এই ড্রোনগুলির মধ্যে একটি ড্রোনকে আটক করেছিল সেনা। জানা গিয়েছে, ড্রোনটি একটি ধানের জমির নীচে লুকিয়ে ছিল। কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ড্রোন কোনও ত্রুটির কারণে পাকিস্তানে ফিরে যেতে পারেনি। তাই সেটাকে আটারি সীমান্তের নিকটবর্তী একটি গ্রামে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।

গোয়েন্দা সূত্রে জানানো হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের সরবরাহের জন্যই ড্রোনে করে এই অস্ত্র পাঠানো হয়েছিল। তার থেকেই মনে করা হচ্ছে, ইতিমধ্যেই বেশ কিছু সন্ত্রাসবাদী সীমান্ত লাগোয়া এলাকায় লুকিয়ে আছে। তাদের কাছেই এই অস্ত্র পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর থেকেই পাকিস্তান এই কাজ করছে বলে জানিয়েছে সেনা।

গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর সন্ত্রাসী শিবিরগুলিকে পুনরায় সক্রিয় করেছে। অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কার্যকলাপের পর থেকেই সীমান্তে সুরক্ষা জোরদার করা হয়েছে। পাকিস্তান যাতে কোনও ভাবেই সন্ত্রাস চালাতে না পারে তার জন্য তৎপর রয়েছে সেনাবাহিনী।

 

Comments are closed.