অভিনন্দনকে রক্তাক্ত করেছিল, লাথি মেরেছিল পাঁজরে, এই পাক কম্যান্ডারকে গুলিতে ঝাঁঝরা করল ভারতীয় সেনা

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাক জেট থেকে ধেয়ে আসা গুলিতে অকেজো হয়ে পড়ে পুরনো মিগ-২১ বাইসন জেট। ইজেক্ট করে বেরিয়ে প্যারাশুট ভাসিয়ে তখন পাকিস্তানের মাটি ছুঁয়েছেন ভারতীয় বাযুসেনার তেজী উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। গ্রামবাসীদের মারের হাত থেকে বাঁচতে তিনি তখন দৌড়চ্ছেন। পথ আগলে দাঁড়ায় লম্বা-চওড়া পাক কম্যান্ডার। আহত, রক্তাক্ত অভিনন্দনকে দেখে তার মুখে হাসি ফোটে, বিদ্রুপের হাসি। সেনাবাহিনীর মর্যাদা লঙ্ঘণ করেই অভিননন্দনের নাক-মুখ লক্ষ্য করে ঘুষি চালাতে শুরু করে এই কম্যান্ডার। অভিনন্দনের নাক থেকে গড়িয়ে আসে রক্তের ধারা দেখে বাকি সেনাদের সঙ্গে কৌতুক শুরু করে সে।

আহমেদ খান। পাকিস্তান সেনার স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের কম্যান্ডার। ভারতীয় সেনা সূত্র জানাচ্ছে, যুদ্ধবন্দি অভিনন্দন বর্তমানের উপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন চালিয়েছিল এই কম্যান্ডার। গত ১৭ অগস্ট নিয়ন্ত্রণ রেখায় এনকাউন্টারের সময় পাক কম্যান্ডার আহমেদ খানকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেয় ভারতীয় সেনা।

আহমেদ খান সম্পর্কে ভারতীয় সেনাকে আগেই তথ্যের যোগান দিয়েছে পাক সীমান্ত লাগোয়া হরান গ্রামের অধিবাসীরা। আকাশে চলতে থাকা ভারত-পাক বায়ুযুদ্ধের সবটাই দেখেছিলেন ওই গ্রামের বাসিন্দারা। প্যারাশুট ভাসিয়ে নীচে নেমে আসার পরে, গ্রামবাসী ও পাক সেনাদের হাতে দফায় দফায় হয়রানির ঘটনাও তাঁদেরই চোখের সামনে ঘটেছিল। বর্ষীয়াণ গ্রামবাসীরা জানিয়েছিলেন, ভারতীয় সেনাকে দেখেই রাগে ফুঁসতে শুরু করেন গ্রামের কমবয়সীরা। প্যারাশুটের বাঁধন থেকে তখনও সবটা বার হতে পারেননি অভিনন্দন, অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়েই সেনা কম্যান্ডারের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েন গ্রামবাসীরা। ঝাঁকে ঝাঁকে ধেয়ে আসতে থাকে পাথর। ক্ষতবিক্ষত হতে থাকেন অভিনন্দন।  লাথিও মারেন কেউ কেউ। অত অত্যাচারের পরেও কোনও মানুষকে আঘাত করেননি অভিনন্দন, বরং গুলি ছুঁড়েছিলেন শূন্যে।

এর পরের ঘটনা ছিল আরও মর্মান্তিক। পাক সেনাদের হাতে অভিনন্দনকে তুলে টেনে হিঁচড়ে তুলে দিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। সূত্রের খবর, পাক কম্যান্ডারদের মধ্যে সবচেয়ে আগেই ছিল এই আহমেদ খান। সেই অভিনন্দনের হাত পিছমোড়া করে বাঁধে, তাঁর চোখে ফেট্টি বেঁধে দেয়। টেনে নিয়ে যাওয়ার আগে, ভারত বিরোধী স্লোগান তুলে বেধড়ক মারধরও করে। লাথি মারে অভিনন্দনের পাঁজরে।

২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের পোস্ট করা ছবি ও প্রথম ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছিল অভিনন্দনের চোখ-মুখে রক্তের ধারা, হাত পিছমোড়া করে বাঁধা, পাক সেনাদের ঘেরাটোপে মাথা উঁচু করে চলেছেন বায়ুসেনার এই তেজী জওয়ান।  ভারতীয় সেনার দাবি, সেই ছবিতে অভিনন্দনের পিছনে যে পাক সেনাকে দেখা গিয়েছিল, সেই আহমেদ খান। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ জানিয়েছে, আহমেদ শুধু পাক স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপের কম্যান্ডারই ছিল না, পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ গোষ্ঠীর প্রশিক্ষিত কম্যান্ডারও ছিল। তার কাজ ছিল, জইশ গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্যদের নিয়ন্ত্রণ রেখা পার করিয়ে ভারতে ঢুকিয়ে দেওয়া। নওসেরা, সুন্দরবনি ও পাল্লান ওয়ালা সেক্টর দিয়ে একাধিক জঙ্গিকে ভারতে অনুপ্রবেশে সাহায্য করে সে। গত ১৭ অগস্ট, পুঞ্চের কৃষ্ণা ঘাঁটি সেক্টরে ভারতীয় সেনাদের লক্ষ্য করে মর্টার সেল ছুঁড়তে শুরু করে পাক সেনারা। পাল্টা জবাব দেয় ভারতীয় বাহিনীও। গোলাগুলির লড়াইতেই প্রাণ যায় আহমেদের। ভারতীয় সেনা জানিয়েছে, পরপর গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় পাক সেনা ও জঙ্গি দলের এই কম্যান্ডারকে।

আরও পড়ুন:

ফিরে আসার ডাক শুনতে পাননি অভিনন্দন, পুরনো মিগের কন্ট্রোল সিস্টেমকে কব্জা করেছিল শত্রুপক্ষ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More