চিনা অস্ত্রশস্ত্র উপত্যকায় ঢোকানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান, মদত দিচ্ছে চিন সরকার, গোয়েন্দা সূত্রে দাবি

লাদাখ সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে উপত্যকায় অশান্তি জিইয়ে রাখতে চাইছে চিন। আর এই কাজে তাদের সাহায্য করছে ‘বন্ধু’ দেশ পাকিস্তান। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, সেই জানুয়ারি মাস থেকে দফায় দফায় ড্রোনে চাপিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে অস্ত্র ঢোকানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: চিনের দেখাদেখি নিয়ন্ত্রণরেখায় কোনও বড়সড় সেনা কাঠামো তৈরি করছে না পাকিস্তান, তবে ঘুরপথে জম্মু-কাশ্মীরে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র ঢোকানোর চেষ্টা করছে তারা। এই কাজে পাকিস্তানকে পুরোপুরি মদত দিচ্ছে চিন। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেল এমনটাই।

লাদাখ সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে এঁটে উঠতে না পেরে উপত্যকায় অশান্তি জিইয়ে রাখতে চাইছে চিন। আর এই কাজে তাদের সাহায্য করছে ‘বন্ধু’ দেশ পাকিস্তান। গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, সেই জানুয়ারি মাস থেকে দফায় দফায় ড্রোনে চাপিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে অস্ত্র ঢোকানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। চিনের তৈরি আধুনিক অ্যাসল্ট রাইফেল সহ একাধিক চিনা অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে।

উপত্যকার পুলিশ প্রধান দিলবাগ সিং বলেছিলেন,  মূলত রাজৌরি-পুঞ্চ এবং কুপওয়ার-কেরান সেক্টরে দিয়ে জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গি ঢোকানোর ছক কষছে লস্কর এবং জইশের মাথার। তবে জঙ্গি অনুপ্রবেশ রুখতে তৎপর নিরাপত্তাবাহিনী। সীমান্তে রয়েছে কড়া সতর্কতা। তীক্ষ্ণ নজরদারিতে চলছে টহলদারি।  গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, চিনের সঙ্গে গোপন আঁতাত রয়েছে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের। ভারতকে দু’দিক থেকে চাপে রাখতে নয়া ছক কষছে চিন। জম্মু-কাশ্মীরে নাশকতা বাড়ানোর জন্য পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করছে বলে খবর।  কাশ্মীরে অশান্তি জিইয়ে রাখার জন্য জঙ্গি সংগঠন আল বদরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। সূত্রের খবর, জঙ্গিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভারতে ব্যাট অপারেশন চালানোরও পরিকল্পনা রয়েছে চিন ও পাকিস্তানের।

গোয়েন্দারা বলছেন, শীতের আগেই উপত্যকায় জঙ্গি সমেত অস্ত্রশস্ত্র চালান করে দেওয়ার চেষ্টায় রয়েছে পাকিস্তান। চিনের মদতে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ড্রোনে চাপিয়ে উপত্যকায় পাঠানোর চেষ্টা চলছে।  সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন গ্রামের কাছে ওই অস্ত্রশস্ত্র ফেলা হচ্ছে।  গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর, মহেন্দ্র বোলেরো গাড়িতে দু’জনকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রশস্ত্র সমেত পাকড়াও করেছিল পুলিশ। তাদের কাছ থেকে চিনের তৈরি ইএমইআই টাইপ ৯৭ এনএসআর রাইফেল, একে৪৭ রাইফেল, ২১৮ রাউন্ড কার্তুজ ও গ্রেনেড উদ্ধার হয়েছিল। ২৩ তারিখেই ফিরোজপুর থেকে পাঁচটি একে৪৭ ও দুটি পিস্তল উদ্ধার হয়। জানা গিয়েছে,  সীমান্ত থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে রয়েছে আখনুর গ্রাম, যেখান থেকেও উদ্ধার হয়েছে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র। কাশ্মীর উপত্যকায় যে জঙ্গিরা ঘাঁটি গেড়ে লুকিয়ে রয়েছে তাদের জন্যই পাকিস্তান থেকে এই অস্ত্র পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছে জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ।

গত বছর প্রথম পাক-ড্রোনের দেখা গিয়েছিল পঞ্জাবে সীমান্তে। এরপরেই সতর্ক করা হয় বিএসএফকে। পঞ্জাব পুলিশও জানিয়েছে সীমান্ত এলাকায় ড্রোন থেকে অস্ত্রশস্ত্র ফেলা হয়েছিল গত বছর অক্টোবর মাসে। চলতি বছর জানুয়ারিতে পাকিস্তানের কোয়াড কপ্টারে এম৪ রাইফেল, টুটো ম্যাগাজিন, ৬০ রাউন্ড কার্তুজ ও সাতটি গ্রেনেড উদ্ধার করে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। গোয়েন্দা সূত্র এমনও জানাচ্ছে, সীমান্ত পার করিয়ে নিরস্ত্র জঙ্গিদের উপত্যকায় ঢোকাচ্ছে পাক সেনারা। তারপর ড্রোনে চাপিয়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে টাকা ও অস্ত্রশস্ত্র।

একদিকে ভারতে জঙ্গি ও অস্ত্র ঢোকানোর পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছে আইএসআই, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণরেখায় সংঘর্ষবিরতি চুক্তি ভেঙেই চলেছে পাক সেনারা। সূত্র জানাচ্ছে, পাক সেনাদের লক্ষ্য শুধু ভারতীয় সেনা ঘাঁটিই নয়, সীমান্ত পেরিয়ে গ্রামগুলিতেও হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে তারা। গত কয়েকমাসে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর গ্রামগুলিতে গোলাগুলি ছুড়েছে পাক বাহিনী।  নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে বহু বাড়িঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে গেছে। ক্ষতি হয়েছে বহু মানুষের। সাধারণ গ্রামবাসীদের উপর হামলা চালিয়ে নিয়ন্ত্রণরেখায় অশান্তি জিইয়ে রাখতে চাইছে পাকিস্তান। সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, পয়লা জানুয়ারি থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৩ হাজার ১৮৬ বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছে সীমান্তে। জানুয়ারি থেকে অগস্টের মধ্যে অন্তত ২৪২ বার গোলাগুলি চলেছে নিয়ন্ত্রণরেখায়। সীমান্ত উত্তেজনায় শহিদ হয়েছেন আটজন ভারতীয় জওয়ান।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More