করোনা আবহে বেড়েছে অক্সিমিটারের বিক্রি, কতটা নির্ভুল এই যন্ত্র, উঠছে প্রশ্ন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: অক্সিমিটার, একটা ছোট্ট যন্ত্র, যা হাতে ঘড়ির মতো পরে থাকা যায়। যন্ত্রের একটা দিক ক্লিপের সাহায্যে আটকে থাকে আঙুলের সঙ্গে। এই যন্ত্রের মাধ্যমে ঘরে বসেই প্রতি মুহূর্তে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ও হৃদস্পন্দন দেখা যায়। করোনা আবহে এই অক্সিমিটারের বিক্রি বেড়েছে। কিন্তু এই যন্ত্র কতটা নির্ভুল মাপ দেখায়, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এমনকি জানা গিয়েছে, সরকারের পর্যবেক্ষণ ছাড়াই এই যন্ত্র তৈরি ও বিক্রি হচ্ছে। পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে না তার গুণগত মানও।

    চিকিৎসকরা বলছেন, করোনাভাইরাস সবার আগে মানুষের হৃদয় ও ফুসফুসে আঘাত করে। তাই সবার আগে তার হৃদস্পন্দন ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রায় পরিবর্তন দেখা যায়। আর সেই কারণেই এই অক্সিমিটারের বিক্রি বেড়েছে। কিন্তু অনেকেই জানাচ্ছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাল নয়। অনেক ক্ষেত্রেই ভুল মাপ দেখাচ্ছে এই যন্ত্র।

    দিল্লির ৬০ বছরের নিশা সাক্সেনা জানিয়েছেন, অনেক সময় ভুল মাপ দেখায় এই যন্ত্র। নিশা জানিয়েছেন, তাঁরা দুটি অক্সিমিটার কিনেছিলেন। একটির দাম ১৮০০ টাকা ও অন্যটির দাম ১৫০০ টাকা। কিন্তু যখন দুটি যন্ত্র তাঁরা ব্যবহার করেছেন, কখনও দুটি থেকে সমান মাপ পাননি। অর্থাৎ দুটি যন্ত্রে অক্সিজেনের মাত্রা ও হৃদস্পন্দন সবসময় আলাদা দেখিয়েছে। একজনের শরীরে সেটা কী ভাবে হওয়া সম্ভব।

    একই রকমের অভিজ্ঞতা গুরুগ্রামের বাসিন্দা প্রিয়াল খট্টরের। তিনি জানিয়েছেন, অক্সিজেনের মাত্রায় বিশেষ সমস্যা না হলেও হৃদস্পন্দন প্রতি মুহূর্তে পরিবর্তন হয়েছে। কখনও বসে থাকা অবস্থায় তাঁর হৃদস্পন্দন দেখিয়েছে ৬৮। পরের মুহূর্তে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় তা দেখিয়েছে ১০৫। কোনও রকম শারীরিক পরিশ্রম ছাড়া তা কী ভাবে সম্ভব? ৩০০০ টাকা দিয়ে অক্সিমিটার কিনেও এই সমস্যায় পড়তে হয়েছে তাঁকে।

    মুম্বইয়ের এক ৩০ বছরের শিক্ষক আবার অন্যরকমের সমস্যায় পড়েছেন। তাঁর বাবা-মা বয়স্ক। তাঁদের হার্টের সমস্যা রয়েছে। তাই অক্সিমিটার কিনেছিলেন তিনি। কিন্তু তা রিডিং দেখাতে দেখাতে মাঝে মাঝে বন্ধ হয়ে যায়। তখন ব্যাটারি খুলে তা ফের লাগিয়ে ডিভাইস চালু করতে হয়। যদিও এই তিনটি পরিবারই কোনও ব্র্যান্ডের অক্সিমিটার কেনেননি। ফলে বদল করতেও পারছেন না তাঁরা।

    এই বিষয়ে অক্সিমিটারের কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভারতে তৈরি হওয়া অক্সিমিটারের বেশিরভাগই সরকারের পর্যবেক্ষণের বাইরে থাকে। তাদের গুণগত মানও পরীক্ষা করা হয় না। অনেক অক্সিমিটার আবার চিন থেকেও আমদানি করা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি।

    আরও জানা গিয়েছে, বর্তমানে চিনের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বন্ধ থাকায় ভারতীয় কোম্পানিগুলিই এই যন্ত্র তৈরি করছে। অভিজ্ঞতা না থাকায় তাতে অনেক গরমিল থেকে যাচ্ছে। ফলে যাঁরা সেই যন্ত্র কিনছেন, তাঁরা সমস্যার মধ্যে পড়ছেন। এই বিষয়ে অবশ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা তা জানানো হয়নি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More