শুক্রবার, অক্টোবর ১৮

হাসিনাকে জড়িয়ে ধরলেন প্রিয়ঙ্কা, আবেগের সম্পর্কটা ফের ধরা পড়ল ফ্রেমে

দ্য ওয়াল ব্যুরো চার দিনের ভারত সফরের শেষ দিনে রবিবার শীর্ষ কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা করলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার ১০ জনপথে তিনি বৈঠক করেন কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গান্ধী, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং এবং কংগ্রেস নেতা আনন্দ শর্মার সঙ্গে। সেখানেই হাসিনার সঙ্গে দেখা হয় কংগ্রেস সভানেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢড়ার। প্রিয়ঙ্কাকে জড়িয়ে ধরেন হাসিনা। আর সেই ছবি টুইট করে সনিয়া-কন্যা লিখলেন, “বহুদিন অপেক্ষার পর এই আলিঙ্গন।”

বাংলাদেশে তখন মিলিটারি জুন্টা চলছে। অভ্যন্তরীণ রাজনীতির হিংসায় আগুন জ্বলছে ঢাকায়। সেটা সাতের দশক। সেই সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কন্যাকে ভারতে আশ্রয় দিয়েছিল কংগ্রেস সরকার। ইন্দিরা গান্ধী, প্রণব মুখোপাধ্যায়দের ইচ্ছেতেই দিল্লিতে ছিলেন হাসিনা। হাসিনা থাকতেন এই ১০ জনপথের গায়েই ২৪ নম্বর আকবর রোডে। তখন প্রিয়ঙ্কা একেবারেই ছোট। পর্যবেক্ষকদের মতে, হাসিনার কাছে প্রিয়ঙ্কা যতটা না কংগ্রেস নেত্রী তার চেয়ে বেশি ইন্দিরাজির নাতনি। এ দিনের আলিঙ্গনে সেই স্নেহটাই ঝরে পড়েছে।

এ দিন দিল্লিতে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গেও দেখা হয় হাসিনার। প্রণব-কন্যাকে ঢাকাই মসলিন শাড়ি উপহার দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

প্রিয়ঙ্কা এ দিন এই ছবি টুইট করে আরও লেখেন, “গভীর ব্যক্তিগত ক্ষতির পরেও তাঁর (পড়ুন হাসিনার) লড়াইয়ের সাহস আমাকে অনুপ্রাণিত করে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, মুক্তিযুদ্ধের সময়ে এবং তাঁর পরে ভারতবর্ষে তৎকালীন ইন্দিরা সরকারের ভূমিকা ভাল মতোই জানেন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সময়ের প্রধানমন্ত্রী। জানেন গান্ধী পরিবারকেও। একই ভাবে গান্ধী পরিবারও জানে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের জন্য বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের কথাও। সেটাই আজ দেখা গিয়েছে ১০ জনপথের বৈঠকে। ঝরে পড়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা।

গতকালই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক দেরেছিলেন হাসিনা। এলপিজি গ্যাস প্রকল্প-সহ তিনটি প্রকল্পের যৌথ উদ্বোধন করেন মোদী-হাসিনা। কথা হয় অসমের জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ এবং রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও। কিন্তু তারপর এ দিন কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে হাসিনার বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন অনেকে।

Comments are closed.