শনিবার, অক্টোবর ১৯

দুশোর বেশি পাক জঙ্গি এলওসি পেরিয়ে কাশ্মীরে ঢুকতে চাইছে, বললেন অজিত ডোভাল

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিয়ন্ত্রণ রেখা পেরিয়ে প্রায় ২৩০ জন পাকিস্তানি জঙ্গি কাশ্মীরে ঢোকার চেষ্টা করছে বলে জানালেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। তিনি বলেন, রেডিও তরঙ্গ ইন্টারসেপ্টস করে এবং গোয়েন্দা রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, জঙ্গিরা ঢোকার চেষ্টা করছে। ডোভালের কথায়, “পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিদের একটাই লক্ষ্য, কাশ্মীরে হিংসা ছড়ানো এবং উপত্যকাকে উত্তপ্ত করা।”

শনিবার সাংবাদিক বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই ওই জঙ্গিরা অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু পারছে না। তিনি জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীও কড়া নজরদারি চালাচ্ছে।

অগস্টের ৫ তারিখে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা তুলে নেয় কেন্দ্র। জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। তারপর থেকেই গোটা উপত্যকা জুড়ে হাজারও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন। এখনও বিস্তীর্ণ জায়গায় বন্ধ মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা। এ দিন ডোভালে সাফ জানিয়ে দেন, “পাকিস্তান যদি ঠিকঠাক আচরণ করে, তাহলে উপত্যকা থেকে বিশিনিষেধ তোলা হবে। আর যদি লাগাতার জঙ্গি অনুপ্রবেশে মদত দেয়, তাহলে এই বিধিনিষেধ তোলা হবে না।”

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আরও বলেছেন, বিপুল পরিমাণ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ রেখা পার করে কাশ্মীরে আনার চেষ্টা করছে জঙ্গিরা। ডোভালের কথায়, “রেডিও তরঙ্গ ট্র্যাক করে দেখা গিয়েছে পাক সেনার টাওয়ার ব্যবহার করে মোবাইলে কথা বলছে জঙ্গিরা। ওপার থেকে সাংকেতিক ভাষায় নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”

এ দিনের দীর্ঘ সাংবাদিক বৈঠকে ডোভাল বলেছেন, পাকিস্তান অনবরত চেষ্টা করে যাচ্ছে কাশ্মীর যাতে অশান্ত হয়। আর ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনীও তৎপর পাকিস্তানি জঙ্গিদের থেকে কাশ্মীরি জনতাকে রক্ষা করতে। গত ফেব্রুয়ারিতে পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে জঙ্গিহানার পর সামনে এসেছিল প্রায় আড়াইশ জঙ্গি অনুপ্রবেশের খবর। সেই স্মৃতি মনে রেখে ভারতও তৎপর সমস্ত রকম অনুপ্রবেশ ঠেকাতে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ডোভালের এ সব কথা বলার পিছনে অন্য কারণ রয়েছে। কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর সেখানকার বিপুল সংখ্যক মানুষের মনে তীব্র অসন্তোষ রয়েছে। তারা সুযোগ পেলে প্রতিবাদ জানাচ্ছে। ইট পাটকেল ছুঁড়ছে। তা ঠেকানোর জন্যই উপত্যায় প্রচুর সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে আবার ঘরোয়া রাজনীতিতে উদার মনোভাবাপন্নরা যখন সওয়াল করছেন, তখন ডোভাল দেখাতে চাইছেন আসলে জঙ্গি ঠেকানোর জন্যই বাড়তি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে এবং উপত্যকায় নানারকম বিধি নিষেধ আরোপ করে রাখা হয়েছে। নইলে পাক অধিকৃত কাশ্মীর তো জঙ্গিদের আঁতুরঘর। সেখানে দু’শ কেন, ভারতে ঢোকার অপেক্ষায় ২ হাজার জঙ্গিও থাকতে পারে। আগেও ছিল, এখনও আছে।

Comments are closed.