মঙ্গলবার, জুন ২৫

#Breaking: প্রথম দফার ভোটের পরেই ব্যালট পেপার ফেরানোর দাবি বিরোধীদের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবেমাত্র প্রথম দফার ভোটে ৯১টি কেন্দ্রে নির্বাচন হয়েছে ভারতে। আর এই নির্বাচনের পরেই বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন, অনেক জায়গায় ইভিএম মেশিনে কারচুপি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, নিজেদের স্বার্থে ইভিএম মেশিনে কারচুপি করেছে বিজেপি। এই ব্যাপারেই রবিবার বৈঠকে বসেছিলেন কংগ্রেস, আপ, তেলুগু দেশম পার্টি -সহ ছ’টি বিরোধী দল। বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁরা নিশানা করলেন ভোটিং মেশিনকে। সেইসঙ্গে দাবি জানালেন, বাকি ছ’দফার নির্বাচনে ফিরিয়ে আনা হোক ব্যালট পেপারকে। এই ব্যাপারে কমিশনের কাছে তাঁরা আবেদন জানাবেন বলেও জানা গিয়েছে।

বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তেলুগু দেশম পার্টি নেতা তথা অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু বলেন, “ইভিএম মেশিন নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে। ভোটারদের বিশ্বাস তখনই জেতা যাবে, যদি পোস্টাল ব্যালট ফিরিয়ে আনা হয়।” এই বিষয়ে বেশ কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, “জার্মানির মতো উন্নত দেশেও ২০০৫-২০০৯ সাল পর্যন্ত ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছিল। তারপর তারা ফের ব্যালটে ফিরে যায়। নেদারল্যান্ডসেও ১৯৯০ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত ইভিএম ব্যবহার করার পর তারা ফের ফিরে গিয়েছ ব্যালট পেপারে। আয়ারল্যান্ডেও ২০০৪ সালের পর ব্যালট পেপারের ব্যবহার শুরু হয়েছে। সবাই বুঝতে পারছে, একমাত্র ব্যালটের ব্যবহারেই স্বচ্ছ ভোট হবে। তাই আমরাও এই দাবি জানাচ্ছি।”

এ দিন সাংবাদিকদের সামনে চন্দ্রবাবু আরও অভিযোগ করেন, “আমি আজ পর্যন্ত এইরকমের অসংবেদনশীল, দায়িত্বজ্ঞানহীন, অকর্মন্য নির্বাচন কমিশন দেখিনি। আপনারা কি গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করতে চান। নির্বাচন কমিশন তো বিজেপির ব্রাঞ্চ অফিসে পরিণত হয়েছে।” পুরনো ইভিএম মেশিন ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে তিনি বলেন, “আপনারা প্রতি ছ’মাসে মোবাইল বদলান। কারণ প্রতি মুহূর্তে টেকনোলোজির উন্নতি হয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে সেই এক ইভিএম মেশিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই খাতে আমরা ৯ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করি। তারপরেও কোনও পরিবর্তন নেই।”

প্রথম দফার ভোটের পর ইভিএম মেশিনের বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি সরব হয়েছিলেন চন্দ্রবাবু নাইডুই। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, প্রচুর কেন্দ্রে গণ্ডগোল রয়েছে ভোটিং মেশিনে। এইজন্য বিধানসভা ও লোকসভা মিলিয়ে ১৫০ কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। চন্দ্রবাবু অভিযোগ করেছিলেন, “অফিসিয়াল তথ্য অনুযায়ী এই রাজ্যে ৪ হাজার ৫৮৩টি ইভিএম মেশিনে গলদ দেখা দিয়েছে। কিন্তু অন্ধ্রের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছিলেন, কোনও মেশিনে গণ্ডগোল হয়নি। সব ঠিক আছে।” ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ নিয়ে শনিবার কমিশনের দ্বারস্থও হয়েছিলেন চন্দ্রবাবু।

এই ব্যাপারে অবশ্য চন্দ্রবাবু পাশে পেয়েছেন অন্য বিরোধী দলগুলিকেও। আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও কংগ্রেসের তরফেও একই দাবি জানানো হয়েছে। এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত না থাকলেও বসপা নেত্রী মায়াবতী অনেকদিন আগেই ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছিলেন। ইভিএম মেশিন নিয়ে বারবার সন্দেহ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। প্রকাশ্য জনসভায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, নিজেদের স্বার্থে ইভিএম মেশিনে কারচুপি করতে পারে বিজেপি। দলীয় কর্মীসভায় তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, দলের কর্মীরা যেন ভালোমত দেখে নেন, ইভিএম মেশিন ঠিক আছে কিনা।

Comments are closed.