শনিবার, মার্চ ২৩

শরদ পাওয়ারের বাড়িতে বৈঠকে রাহুল-মমতা, মোদী বিরোধী ‘ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি’ তৈরির সিদ্ধান্ত

দ্য ওয়াল ব্যুরো : অমিত শাহ রোজ দেশজুড়ে ঘুরে ঘুরে প্রচার করছেন, বিপক্ষে এমন একটা জোট হয়েছে, যার কোনও নেতা নেই। টিপ্পনি কেটে বলছেন, সোমবার একজন প্রধানমন্ত্রী হবে, মঙ্গলবার থেকে শনিবার একজন করে, আর রবিবার ছুটি। পরিস্থিতি যেখন এরকম তখন বিরোধী দলের নেতৃত্ব একজোট হয়ে এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের বাড়িতে মিটিং করে বোঝানোর চেষ্টা করলেন, তাঁরাও একটা বিকল্প সরকার দিতে পারেন দেশের মানুষকে।

এ দিন শরদ পাওয়ারের ৬, জনপথ রোডের বাড়িতে বৈঠকে যোগ দেন কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু, জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ফারুখ আবদুল্লাহ। যন্তরমন্তরের ধর্ণা শেষে বৈঠকে হাজির হন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

যেহেতু সব রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ শরদ পাওয়ারের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাই এই বর্ষীয়ান নেতার বাড়িতেই এ দিনের বৈঠক হয়। বৈঠকে ঠিক হয়, একটি ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি তৈরি হবে। দেশে ভালো প্রশাসন দেওয়ার জন্য যা যা দরকার, তা এই কর্মসূচিতে লেখা থাকবে।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, “এ দিনের বৈঠকে সব দলের নেতারা এক মত হয়েছেন একটি ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচির বিষয়ে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সামনে বিজেপি সরকার ও তার দুর্নীতিকে তুলে আনা হবে। বিজেপিকে হটাতে আমরা একজোট হয়ে লড়ব।”

বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা জাতীয় স্তরে একসঙ্গে লড়ব। আমাদের একটা ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি তৈরি হয়েছে। আমাদের নির্বাচন পূর্ববর্তী জোট তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে এই ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি তৈরি করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচি তৈরি হয়ে গেলেই আমরা সেটা নিয়ে বৈঠকে বসব।”

সূত্রের খবর, এই মাসেরই ২৬, ২৭, ২৮ তারিখে দিল্লিতে ফের বিরোধী দলের নেতৃত্বদের বৈঠকে বসার কথা। সেই বৈঠকে এই কর্মসূচি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।

কিন্তু এই ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, কংগ্রেস বা তৃণমূল যখন নিজেদের পৃথক নির্বাচনী ইস্তেহার তৈরির চেষ্টা করছে, তখন এই ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচির গুরুত্ত্ব কোথায়। জাতীয় স্তরে যাই হোক না কেন, তৃণমূল স্তরের রাজনীতিতে তো ভিন্ন লড়াই, ভিন্ন জোট। তাই তৃণমূল স্তরের রাজনীতিতে এই কর্মসূচি খুব একটা প্রভাব ফেলবে না বলেই তাঁদের মত।

কিন্তু পর্যবেক্ষকদের অন্য একটি অংশের মতে, এই কর্মসূচির একমাত্র গুরুত্ব হলো নির্বাচনের আগে জনসাধারণের মনে একটা ধারণা তৈরি করা। কী সেই ধারণা? সেই ধারণা হলো, এই বিরোধী দলগুলোও একসঙ্গে একটা ভালো ও জনকল্যাণমূলক সরকার গড়তে পারবে। মোদী বিরোধী বেশ কিছু বিষয়, যেমন দেশের অর্থনীতি, শিল্প, কৃষির দুরবস্থা, মেরুকরণের রাজনীতি দেশের মানুষের সামনে তুলে আনা। তবেই মোদী বিরোধিতাকে আরও বৃহত্তরভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। সেইসঙ্গে দেশের মানুষের কাছে বিরোধী জোটের গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে বলেই মত পর্যবেক্ষকদের।

আরও পড়ুন

‘ঠিক আছে আমিও মনে রাখব!’, রেগে গিয়ে সনিয়াকে বললেন মমতা

 

Shares

Comments are closed.