রাফাল হাতে এসে গেলে, শত্রুরা হামলা চালাবার আগে দু’বার ভাববে’: এয়ার চিফ মার্শাল ভাদুরিয়া

১০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের আকাশ রক্ষার দায়িত্ব পেতে চলেছে রাফাল। শক্তিশালী এই যুদ্ধবিমান দেশের অস্ত্রভাণ্ডারে সামিল হয়ে গেলে শুধু আকাশ কেন, যে কোনও পথেই হামলা চালাতে ভয় পাবে শত্রুরা, সোমবার এক সাংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানালেন এয়ার চিফ মার্শাল রাকেশ কুমার সিং ভাদুরিয়া।

বিস্তর বিতর্ক পিছনে ফেলে অক্টোবরে ভারতের হাতে প্রথম রাফাল যুদ্ধবিমান তুলে দিয়েছে নির্মাতা সংস্থা ‘দাসো অ্যাভিয়েশন।’ নতুন মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট রাফালকে বেছে নেওয়ার পরে ২০১৬-র সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল ভারত। মোট ৩৬টি রাফাল কেনার বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। ফ্রান্সের রাফাল নির্মাতা সংস্থা ‘দাসো অ্যাভিয়েশন’ জানিয়েছে, মোট ৫৯ হাজার কোটি টাকা দামের ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমানের মধ্যে প্রথম চারটি ভারতে পৌঁছবে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের মে মাসে।

এয়ার চিফ মার্শালের কথায়, “অত্যাধুনিক এই মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট ও এস-৪০০ মিসাইল ভারতের প্রতিরক্ষাকে আরও মজবুত করবে। রাফাল হাতে এসে গেলে শত্রুরা এরপর ভারতে আক্রমণ চালাবার আগেত অন্ত দু’বার ভাববে।”

২০০৭ সালে প্রণব মুখোপাধ্যায় যখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী, তখন থেকেই মাঝারি ওজনের যুদ্ধবিমান কেনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আমেরিকা, রাশিয়া, সুইডেনের মোট ছ’টি বিমান সংস্থা প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। লকহিড মার্টিনের এফ-১৬ ফ্যালকন, বোয়িংয়ের এফ-১৮ হর্নেট, সাব গ্রিপেন, মিগ-৩৫-কে বাদ দিয়ে শেষে প্রতিযোগিতা এসে দাঁড়ায় ইউরোফাইটার সংস্থার টাইফুন এবং রাফালের মধ্যে। কিন্তু ইউরোফাইটার-এর তুলনায় কম দর হেঁকে বাজি ছিনিয়ে নেয় দাসো।

সামরিক পরিভাষায় রাফালকে ‘মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফ্ট’ বলা হয়। এই রাফাল যুদ্ধবিমান প্রতিপক্ষের উপর আঘাত হানতে পারে সুনিপুণ দক্ষতায়। অনেক উঁচু থেকে হামলা চালানো, যুদ্ধজাহাস ধ্বংস করা, মিসাইল নিক্ষেপ এমনকী পরমাণু হামলা চালানোর ক্ষমতাও রয়েছে রাফালের।  এয়ার চিফ মার্শাল জানিয়েছেন, রাফালকে আরও শক্তিশালী করার জন্য ‘মেটিওর’ এবং ‘স্কাল্প’, এই দু’টি মিসাইল যোগ হবে রাফালে। লক্ষ্যসীমার বাইরে নিপুণ আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ‘মেটিওর’। লো-অবর্জাভর ক্রুজ মিসাইল স্ক্যাল্প (ফ্রান্সে এর নাম স্ক্যাল্প ইজি) ব্যবহার করে ব্রিটিশ ও ফরাসি বায়ুসেনা। ৫৬০ কিলোমিটার পাল্লার এই মিসাইল রাফালকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলবে।

রাফাল বিমান কেনার সময় ফরাসি সরকারের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী দলের সদস্য ছিলেন ভাদুড়িয়া। বিমান বাহিনীর প্রথম অফিসার হিসাবে রাফাল চালানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। বায়ুসেনা সূত্র জানাচ্ছে, ভারতীয় বায়ুসেনার এই বর্ষীয়াণ ও অভিজ্ঞ এয়ার মার্শালের নামেই তাই প্রথম রাফাল যুদ্ধবিমানের নামকরণ করা হয়েছে ‘আরবি ০১। (RB-01)’। ভাদুরিয়া বলেছেন, রাফাল ভারতীয় বায়ুসেনার আক্রমণের ক্ষমতাকে এক ধাক্কায় অনেক বেশি শক্তিশালী করে তুলবে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More