অভিনব গৃহপ্রবেশ! গ্রামবাসীদের হাতের উপর দিয়ে হাঁটলেন শহিদের স্ত্রী

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯৯২ সালে শহিদ হয়েছিলেন স্বামী। তারপর থেকে আশ্রয় বলতে ছিল কাঁচা বাড়ি, টালির ছাদ। সেই বাড়ির অবস্থাও তথৈবচ। কোনও রকমে দুই সন্তানকে বড় করেছিলেন বিএসএফ-এর শহিদ জওয়ান মোহন সিং-এর স্ত্রী। অবশেষে গ্রামের যুবকরা চাঁদা তুলে তাঁর জন্য বানিয়ে দিলেন নতুন বাড়ি। বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবসের দিন সেই বাড়িতে গৃহপ্রবেশ করলেন তিনি। অবশ্য সেই গৃহপ্রবেশেও ছিল অভিনবত্ব। সবার হাতের উপর দিয়ে হেঁটে বাড়িতে ঢুকলেন তিনি।

    ইন্দোরের বেতমা গ্রামের এক বাসিন্দা বিশাল রাঠী জানিয়েছেন, “১৯৯২ সালে অসমে শহিদ হন মোহন সিং। তখন তাঁদের তিন বছরের এক সন্তান। অন্যজন পেটে। তারপর থেকে এই ২৭ বছর ধরে কীভাবে দুই সন্তানকে দিদি বড় করেছেন, তা আমরা দেখেছি। নতুন বাড়ির জন্য সরকারের কাছে অনেক আবেদন করেও কোনও লাভ হয়নি। তাই কয়েক বছর আগে আমরাই ঠিক করি চাঁদা তুলে দিদিকে বাড়ি বানিয়ে দেব। সেইমতো ‘এক চেক-এক সই’ কর্মসূচি শুরু করি আমরা।”

    বিশাল আরও জানিয়েছেন, “গ্রামের সব যুবকরা মিলে ১১ লক্ষ টাকা জোগাড় হয়। তারমধ্যে ১০ লক্ষ টাকা দিয়ে একটা বাড়ি আমরা বানিয়েছি। বাকি এক লক্ষ টাকা দিয়ে মোহন সিং-এর একটি মূর্তি তৈরি হবে। সেই কাজও প্রায় শেষ।”

    স্বাধীনতা দিবস ও রাখি বন্ধন একই দিনে পড়ায় সে দিনই নিজের নতুন বাড়িতে গেলেন শহিদের স্ত্রী। তবে তাও এক অভিনব পদ্ধতিতে। বাড়ির বাইরের রাস্তা থেকে সবাই দু’হাত মাটিতে দিয়ে বসে পড়েন। সেই হাতের উপর দিয়ে হেঁটেই বাড়িতে ঢোকেন তিনি। সবার হাতে রাখিও পরিয়ে দেন শহিদের স্ত্রী। গ্রামের স্কুলও শহিদ মোহন সিং-এর নামে করার চেষ্টা করছেন গ্রামবাসীরা। রাজ্যের শিক্ষা দফতরে আবেদন করেছেন তাঁরা।

    মোহন সিং-এর স্ত্রীর বাড়িতে ঢোকার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন স্থানীয় এক গ্রামবাসী। তারপরেই তা ভাইরাল। সবাই গ্রামবাসীদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More