অক্সফোর্ডের পরে মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট নোভাভ্যাক্সের টিকা তৈরি হবে ভারতে, চুক্তি করল সেরাম

সেরাম জানিয়েছে, নোভাভ্যাক্সের টিকার প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট ইতিবাচক। অক্সফোর্ডের মতোই নোভাভ্যাক্সের ভ্যাকসিনও মানুষের রক্তে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুখবর দিল মার্কিন ফার্মা জায়ান্ট নোভাভ্যাক্স। তাদের তৈরি আরএনএ ভ্যাকসিন ক্যানডিডেট NVX-CoV2373 এবার তৈরি হবে ভারতেই। টিকার উৎপাদন ও বিপণনের জন্য লাইসেন্স পেয়ে গেছে ভারতের প্রথম সারির ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা ভারতেই তৈরি করেছে সেরাম। অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি সেরামের ডিএনএ ভ্যাকসিনের নাম ‘কোভিশিল্ড’ । এই টিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হবে আর কিছুদিনের মধ্যেই। সেরাম জানিয়েছে, নোভাভ্যাক্সের টিকার প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট ইতিবাচক। অক্সফোর্ডের মতোই নোভাভ্যাক্সের ভ্যাকসিনও মানুষের রক্তে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করেছে। বি-কোষের পাশাপাশি সক্রিয় হয়েছে টি-কোষ। এই টি-কোষ মানব শরীরের রোগ প্রতিরোধের মূল ভিত। এমন এক শক্তিশালী বর্ম যা শরীরকে যে কোনও প্যাথোজেনের থেকে রক্ষা করতে পারে।

মেরিল্যান্ডের বায়োটেকনোলজি কোম্পানি নোভাভ্যাক্স ভ্যাকসিন তৈরির জন্যই জনপ্রিয়। এর আগে এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি-এর ভ্যাকসিন বানিয়েছিল এই সংস্থা। নোভাভ্যাক্সের কর্ণধার স্ট্যানলি এরিক বলেছেন, ভারতে এই টিকা তৈরির জন্য সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। নোভাভ্যাক্সের লাইসেন্স পেয়ে ভারতেই এই টিকা তৈরি ও তার বিপণন করতে পারে সেরাম।

মোডার্না ও ফাইজারের মতোই তিন স্তরের ট্রায়ালে এগিয়ে আছে নোভাভ্যাক্স। তাদের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে দু’দিন আগেই।  সংস্থার ভ্যাকসিন গবেষণার প্রধান ভাইরোলজিস্ট ডক্টর গেগরি গ্লেন বলেছেন, প্রথম পর্বের ক্লিনিকাল ট্রায়ালে টিকার দুটি ডোজেই শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে।  ১৩১ জন সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক স্বেচ্ছাসেবককে বেছে নেওয়া হয়েছিল প্রথম পর্বের ট্রায়ালের জন্য। এঁদের বয়স ১৮ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। ৫ ও ২৫ মাইক্রোগ্রামের ডোজে টিকা দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৮ দিনের মাথায় দ্বিতীয় ডোজ ইনজেক্ট করা হয়। দ্বিতীয়বার ডোজ দেওয়ার পরে স্বেচ্ছাসেবকদের পর্যবেক্ষণে রেখে দেখা যায় ১০০ শতাংশের শরীরেই করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে। বি-কোষ সক্রিয় করে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি করছে। অন্যদিকে, ভ্যাকসিনের ম্যাট্রিক্স-এম (Matrix-M) উপাদান টি-কোষকে সক্রিয় করে তুলেছে। ফলে একদিকে অ্যান্টিবডি, অন্যদিকে টি-কোষ মিলিতভাবে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলছে। এই ভ্যাকসিন মানুষের শরীরে সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেই জানিয়েছে নোভাভ্যাক্স। টিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্টও ভাল।

সেরাম এখন অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়ালের জন্য বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে। ড্রাগ কন্ট্রোল ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চের গাইডলাইন মাফিক দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ে প্রায় ১৬০০ জনকে টিকা দেওয়া হবে।  ০ থেকে ২৯ দিনের ব্যবধানে টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হবে স্বেচ্ছাসেবকদের। প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৯ দিন পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। এই সময়ের ব্যবধানে পর্যবেক্ষণে থাকবেন স্বেচ্ছাসেবকরা। তাঁদের শরীরে কী কী বদল হচ্ছে তার রেকর্ড রাখা হবে। ১৮ বছরের উপরে সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্কদেরই টিকা দেওয়া হবে।

সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের প্যানেলের সদস্যরা ঠিক করেছেন দেশের কোন কোন জায়গায় টিকার ট্রায়াল শুরু করা হবে। জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১৭টি ক্লিনিককে বেছে নেওয়া হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে—দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এইমস), পুণের বি জে মেডিক্যাল কলেজ, পাটনার রাজেন্দ্র মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স, চণ্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, যোধপুরের এইমস, গোরক্ষপুরের নেহরু হাসপাতাল, বিশাখাপত্তনমের অন্ধ্র মেডিক্যাল কলেজ, মাইসোরের জেএসএস অ্যাকাডেমি অব হাইয়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইত্যাদি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More