বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ২১
TheWall
TheWall

তথ্য ফাঁসের কথা মে মাসেই জানানো হয়েছিল ভারতকে, দাবি হোয়াটস্‌অ্যাপের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: হোয়াটস্‌অ্যাপ থেকে ফাঁস হচ্ছে গোপন নথি, একথা গত মে মাসেই জানানো হয়েছিল ভারতকে। শুক্রবার এমনটাই দাবি করেছে হোয়াটস্‌অ্যাপ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি মে মাস থেকেই এই হ্যাকিং নিয়ন্ত্রণের কাজও শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। চলতি সপ্তাহেই হোয়াটস্‌অ্যাপ কর্তৃপক্ষকে নোটিস পাঠায় মোদী সরকার। কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ টুইট করে বলেন, “ভারতীয়দের হোয়াটস্অ্যাপের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে সেটা আগামী তিন দিনের মধ্যে জানাতে হবে কর্তৃপক্ষকে।” এরপরেই জবাব দিয়েছে হোয়াটস্‌অ্যাপ কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে চলতি বছর মে মাসেই এ বিষয়ে জানানো হয়েছিল ভারতকে।

হোয়াটস্‌অ্যাপ সংস্থার তরফে এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হোয়াটস্‌অ্যাপ ব্যবহারকারীদের নিপত্তা সুনিশ্চিত করা। গত মে মাসেই আমরা এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধানের কাজ শুরু করেছি। ভারতসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষকেও এ ব্যাপারে জানিয়েছি।” শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক স্পাইওয়ার (Israeli Spyware) এনএসও-ই যে এই এর সঙ্গে যুক্ত তা আদালতকে জানানোর জন্য নিশানায় থাকা ইউজারদের চিহ্নিতকরণের কাজও মে মাস থেকেই শুরু করেছে হোয়াটস্‌অ্যাপ কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও হোয়াটস্‌অ্যাপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ভারতের এই জটিল সমস্যার সময়ে দেশের পাশে থাকবে তারা। ভারত সরকারের সঙ্গে একজোট হয়ে এই নথি ফাঁসের সমস্যা সমাধান করতে বদ্ধপরিকর হোয়াটস্‌অ্যাপ কর্তৃপক্ষ।

কয়েকদিন আগেই প্রকাশ্যে এসেছিল ভয়ঙ্কর তথ্য। আমেরিকার একাধিক বন্ধুদেশ-সহ অন্তত ২০টি দেশের সরকারি কর্মকর্তারা হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন বলে জানা গিয়েছি। তালিকায় ছিল ভারতের নামও। হোয়াটস্‌অ্যাপের নিজস্ব অনুসন্ধানের মাধ্যমেই জানা গিয়েছিল যে হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছেন পাঁচ মহাদেশের ২০টি দেশের বহু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। নেতা, মন্ত্রী, আমলা, সাংবাদিক—বাদ যাননি কেউই। সাইবার বিশেষজ্ঞদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এই মেসেজিং অ্যাপের সুরক্ষা কবচে ফাটল ধরিয়েছে ইজরায়েলি সংস্থা ‘এনএসও’ (NSO), , আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় যারা পরিচিত ‘সাইবার অস্ত্রের ডিলার’ হিসেবে। অনুমান, ‘ভয়েস কলিং’ ফিচার ব্যবহার করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির মোবাইল সেটে নজরদারি সফটওয়্যার ইনস্টল করে দিচ্ছে হ্যাকাররা। ফলে গোপন ও ব্যক্তিগত তথ্য নিমেষে চলে যাচ্ছে বিদেশি সংস্থার হাতে।

মঙ্গলবার ইজরায়েলের এই আইটি প্রতিষ্ঠান এনএসও-র বিরুদ্ধে অবৈধ নজরদারির অভিযোগ এনে একটি মামলা রুজু করেছে হোয়াটসঅ্যাপ। সেই মামলার শুনানিতে এক বিবৃতি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ জানায়, ২০টি ভিন্ন দেশের প্রায় ১৪০০ মোবাইল ফোনে ম্যালওয়্যার ভাইরাসটি পাঠিয়েছে এনএসও গ্রুপ। তথ্য বলছে, ২৯ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত– এই অল্প সময়ে অন্তত ১৪০০ গ্রাহকের মোবাইলের তথ্য হ্যাক করা হয়েছে। তবে মোট সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রযুক্তিবিদদের।

পড়ুন ‘দ্য ওয়াল’ পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯ – এ প্রকাশিত গল্প

স্যার, খুন আমি করেছি

Comments are closed.