শনিবার, অক্টোবর ১৯

‘দুর্ব্যবহার করেছে ট্রাফিক পুলিশ, উত্তেজনায় হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছে ছেলে,’ হাহাকার বৃদ্ধ বাবার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রাফিক সার্জনদের দুর্ব্যবহার কবে বন্ধ হবে? প্রশ্ন তুললেন এক পুত্র-হারা বাবা। তাঁর অভিযোগ, ট্রাফিক আইন ভাঙার দাবি তুলে এক ট্রাফিক পুলিশ অত্যন্ত খারাপ ও কুরুচিকর আচরণ করেছেন তাঁর ছেলের সঙ্গে। ডায়াবেটিসের রোগী তাঁর ছেলে এই উত্তেজনা নিতে পারেননি। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। ‘‘ট্রাফিক পুলিশের আচরণই দায়ী আমার ছেলের মৃত্যুর জন্য। আমরা যে সন্তানহারা হলাম, তার দায় কে নেবে? কে দেখবে আমার পাঁচ বছরের নাতনীকে?’’ নয়ডা পুলিশের কাছে অভিযোগ লেখাতে গিয়ে হাহাকার করে উঠলেন বৃদ্ধ।

গাজিয়াবাদের কাছে এই ঘটনা ঘটেছে রবিবার সন্ধে নাগাদ। নয়ডার বাসিন্দা ওই বৃদ্ধ জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের বয়স ৩৫ বছর। একটি সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করতেন। ওই দিন সপরিবার তাঁরা দিল্লির দিকে যাচ্ছিলেন। গাজিয়াবাদের কাছে একটি চেক পোস্টে তাঁদের গাড়ি দাঁড় করায় এক ট্রাফিক পুলিশ। সাদা পোশাকের এক সার্জন এগিয়ে এসে হম্বিতম্বি শুরু করেন। বৃদ্ধের অভিযোগ, ওই সার্জনের দাবি ছিল তাঁদের গাড়ি ট্রাফিক  আইন ভেঙেছে। তাঁর ছেলেকে নতুন মোটর ভেহিকলস অ্যাক্টের নিয়ম বোঝাতে শুরু করেন ওই সার্জন। তবে নম্র ভাবে নয়, বেশ কর্কশ গলায় এবং হুমকির সুরে।

বৃদ্ধ বাবার দাবি, ‘‘মোটর ভেহিকলস অ্যাক্টের অনেক নতুন নিয়ম হয়েছে জানি। কিন্তু আমাদের গাড়ি কোনও আইন ভাঙেনি। আর সবচেয়ে বড় কথা, পিছনের সিটে দু’জন বয়স্ক মানুষ বসে আছেন দেখেও ওই সার্জন কী ভাবে এত খারাপ ভাষায় কথা বলছিলেন? আমার ছেলে ডায়াবেটিসের রোগী। ও উত্তেজিত হয়ে পড়ছিল। ক্রমশই সুর চড়াচ্ছিলেন সার্জন। লাঠি দিয়ে গাড়ির দরজায় আঘাত করছিলেন। ’’

নয়ডা সেক্টর ৫৮ থানায় ওই ট্রাফিক পুলিশের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বৃদ্ধ। পুলিশ জানিয়েছে, ওই পরিবারের দাবি ট্রাফিক সার্জনের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের পরেই যুবক অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে, তৎক্ষণাৎ মৃত্য়ু হয় তাঁর। যদিও অভিযোগের তির যে ট্রাফিক সার্জনের দিকে, তিনি সে কথা মানতে চাননি। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বৃদ্ধের কথায়, ‘‘তদন্তে কী ফল হবে জানি না। আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে আর্জি জানাচ্ছি বিষয়টা গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য। আমরা ন্যায় বিচার চাই।’’

Comments are closed.