রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫

মহরমের তাজিয়াই বেরোবে না শ্রীনগরে, রাস্তায় ব্যারিকেড, টহল সেনার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইদের দিনও ঠিক এমনটাই ছবি ছিল শ্রীনগরের। রাস্তায় ভারী বুটের শব্দ। চারদিকে নিরাপত্তার বেড়াজাল। ইদের পর এ বার মহরমের দিনেও থমথমে হয়ে রইল উপত্যকা। বেরোল না মহরমের তাজিয়া। কার্যত ঘরেই কাটালেন বাসিন্দারা।

জানা গিয়েছে, শ্রীনগরের রাস্তায় ৫০০ মিটার দূরে দূরে ব্যারিকেড গড়া হয়েছে। মোতায়েন রয়েছেন সিআরপিএফ জওয়ানরা। জায়গায় জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে মিলিটারি ট্রাক। শ্রীনগরে শিয়া সম্প্রদায়ের মুসলিমদের বাস বেশি। ফলে প্রতি বছরই এখানে বিরাট করে পালন করা হয় মহরম। একাধিক তাজিয়া বের হয় রাস্তায়। কিন্তু এ বার সে সব বন্ধ।

যদিও রাস্তার দু’ধারে ও লাইট পোস্টে কালো ব্যানার লাগানো হয়েছে। এই ব্যানারে মহরম সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রার্থনা লেখা রয়েছে। কিন্তু রাস্তায় লোক নেই। রাস্তায় মোতায়েন সেনা জওয়ানরা কোনও গাড়ি, এমনকী এক সময়ে একাধিক লোককেও হাঁটতে দিচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী গুলাম মহম্মদ জানিয়েছেন, “আমরা ছোট থেকে কখনও এই ছবি দেখিনি। ১৯৯০ সালে কিছু সমস্যা হয়েছিল। কিন্তু এখন আমাদের ওষুধ কিনতেও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এটা সত্যিই বাড়াবাড়ি।”

সেনা সূত্রে খবর, আগে মহরম উপলক্ষ্যে বিশাল তাজিয়া হতো শ্রীনগরে। কিন্তু সম্প্রতি সেই সব তাজিয়া থেকে ভারত-বিরোধী ও সেন-বিরোধী স্লোগান দেওয়া হতো। এই পরিস্থিতিতে সেই ধরণের কোনও তাজিয়া হলে উপত্যকার শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে। তাই এই সুরক্ষার কড়াকড়ি করা হয়েছে। কেউ নিজেদের বাড়িত পরব পালন করতে চাইলে তাতে কোনও আপত্তি নেই সেনার।

নির্বাচিত এক কর্পোরেটর তনভির পাঠান জানিয়েছেন, “মহরম উপলক্ষ্যে দু-এক জায়গায় তাজিয়া বের করা হয়েছিল। সেখানে সুরক্ষা দিচ্ছিল সেনা। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরেই ছররা গুলি ছোঁড়া হয়। কাঁদানে গ্যাস ফাটান হয়। তাজিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। যদি হিন্দুদের অমরনাথ যাত্রার সময় সেনা নিরাপত্তা দিতে পারে, তাহলে আমাদের মহরমের তাজিয়ায় কেন দিতে পারবে না।”

Comments are closed.