রবিবার, অক্টোবর ২০

৩৭০ ধারা বিলোপে সরাসরি আপত্তি নয় মমতার, ক্ষোভ শুধু মোদী সরকারের হারাকিরি নিয়ে

দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহার তথা সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে সরাসরি কোনও আপত্তি তুললেন না মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরং বললেন, “কারও জন্য কোনও কিছু স্থায়ী নয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধান খুঁজতে গেলে সকলের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন”।

মমতার কথায়, “আমি বিলের (৩৭০ ধারা বিলোপ ও জম্মু কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল) যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছি না। কিন্তু যে ভাবে সংসদে ওই বিল আনা হল তার সঙ্গে একেবারেই সহমত নই।” কেন্দ্র বিরোধীতায় মমতার যে মেজাজ সচরাচর দেখা যায়, এ দিন দৃশ্যত তা ছিল না। বরং যেন আগের থেকে অনেক নরম।

জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা প্রত্যাহারের ব্যাপারে গতকাল সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেয় মোদী সরকার। তার পর পরই সংসদে ৩৭০ ধারা বিলোপ প্রস্তাব ও জম্মু কাশ্মীর পুনর্গঠন বিল পেশ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। সকাল ১১টায় রাজ্যসভার অধিবেশন শুরু হতে ওই দুই বিল সভার সদস্যদের দেওয়া হয়। তার পর ১১টা ১৮ মিনিটে রাজ্যসভার গতকালের আলোচ্যসূচিতে তা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। অথচ সংসদে কোনও বিল পেশ করার আগে সাংসদদের তা পড়ে বিচার বিবেচনা করার জন্য অন্তত এক দিন সময় দেওয়াই বরাবরের প্রথা।

কেন্দ্রের এই হারাকিরি নিয়ে গতকালই প্রশ্ন তুলেছিলেন ডেরেক ও’ ব্রায়েনরা। তবে ৩৭০ ধারা বিলোপ করা উচিত কি উচিত নয়, তা নিয়ে তাঁরা নীরব ছিলেন। সেই সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ভাবে নীরব ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সর্বভারতীয় কোনও রাজনৈতিক বিষয়ে এ ভাবে মমতার নীরব থাকাটাও এক প্রকার নজিরবিহীন ছিল। ভুলে গেলে চলবে না, এমনই নাটকীয় ভাবে নরেন্দ্র মোদী নোটবন্দির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করার ৪৫ মিনিটের মধ্যে বিরোধিতার সুর চড়িয়েছিলেন মমতা।

তবে শেষ পর্যন্ত চব্বিশ ঘন্টা পর আজ মঙ্গলবার কলকাতা থেকে চেন্নাই যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, গতকাল থেকে যা চলছে তা আমি একজন নাগরিক হিসাবে দেখেছি। কাশ্মীরকে আমরা ভালবাসি। কাশ্মীরের লোকেরা আমাদের ভাইবোন। তাঁর কথায়, “আমি বিলের যৌক্তিকতা নিয়ে কোনও কথা বলছি না। তবে যে ভাবে তা সংসদে পেশ করা হল তা সাংবিধানিক, আইনি ও প্রথাগত দিক থেকে কোনওভাবেই প্রশংসাযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিকও নয়। সেই কারণেই তৃণমূল বিলে সমর্থন করেনি। নইলে মনে হবে এই অন্যায়কে আমরা মেনে নিলাম”।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ওঁরা সব দলের সঙ্গে আলোচনা করতে পারতেন। কাশ্মীরের মানুষের সঙ্গেও কথা বলতে পারতেন। এমনকি কাশ্মীরে মিটিং ডাকতেন পারতেন। আমরা যেতে আগ্রহী ছিলাম। সেখানে সবাই মিলে আলোচনা করে আমরা ঠিক করতে পারতাম”। মমতা এর পরই তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বলেন, কারও জন্য কোনও কিছু স্থায়ী নয়। কিন্তু স্থায়ী সমাধান খুঁজতে গেলে সকলের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের মতে, কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা সাময়িক ভাবে প্রয়োগ করা হয়েছিল। তা যে স্থায়ী ব্যবস্থা নয় সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন মমতা। অর্থাৎ ওই ধারা বিলোপের বিরোধিতা কিন্তু তিনি করছেন না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রশ্নে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনমত কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গেই যে রয়েছে তা নিয়ে সংশয় নেই। সংখ্যালঘুরাও যে সবাই এর বিরুদ্ধে তাও নয়। কারণ, বাংলার সংখ্যালঘুরাও কাশ্মীরে গেলে সব নাগরিক অধিকার পাবেন না। মানুষের রাজনৈতিক মনোভাব বোঝায় মমতার এলেম রয়েছে। ঠিক যে কারণে তিনি সে দিন নোটবন্দির বিরোধিতা করেছিলেন, সেই একই কারণে এ বার ৩৭০ ধারা বিলোপের বিরোধিতা করলেন না।

Comments are closed.