রবিবার, অক্টোবর ২০

ট্রাফিক আইন: মমতার পর বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিরও আপত্তি, মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠকে ডাকছেন নীতিন গড়কড়ি

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এ রাজ্যে নতুন মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট কার্যকর হবে না। ওটা ভীষণ কড়া। শুধু তা বাংলা নয়, একে একে বিজেপি শাসিত গুজরাত, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলিও নতুন আইনে ‘না’ করে দিয়েছে। বিহার, ওড়িশা, গোয়া, মহারাষ্ট্র এবং কেরলও জানিয়ে দিয়েছে, তারা নতুন আইন অনুযায়ী চড়া হারে জরিমানা নেবে না। অন্য কয়েকটি রাজ্যের পরিবহণ সচিবরা নতুন মোটর ভেহিকল আইন নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছেন। এ বার তা কিছুটা পরিবর্তন করতে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের ডাকতে চলেছেন কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী নীতিন গড়কড়ি। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় পরিহণ মন্ত্রক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আইনি ব্যাপারগুলি নিয়ে আলোচনা করবে।

গত ১ সেপ্টেম্বর থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট। তারপর থেকেই দেখা গিয়েছে কখনও ভুবনেশ্বরে অটোচালকের ফাইন গিয়েছে ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা কখনও উত্তরাখণ্ডের ট্রাকচালককে দিতে হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা। তারপর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। কিন্তু এই বিতর্কে দু’দিন আগেও কান দেননি কেন্দ্রীয় পরিবহণমন্ত্রী। বলেছিলেন, “ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড হবে কিনা, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।” কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিই আপত্তি জানানোয়, এই পদক্ষেপের পথে হাঁতে হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে।

বুধবার উত্তরাখণ্ডের মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, কেন্দ্রের আইন অনুযায়ী রাজ্যে চড়া হারে ট্রাফিক ফাইন নেওয়া হবে না। নীতিন গড়করি তার পরেই জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্য সরকার নিজেদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্রাফিক ফাইন নিতে পারে। একইসঙ্গে তিনি রাজ্যগুলিকে জানিয়ে দিয়েছেন, জরিমানা করে রাজস্ব আদায় করা কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্য নয়। মানুষ যাতে ট্রাফিক আইন মানতে বাধ্য হয়, সেজন্যই অত বেশি হারে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। এ বার নিয়ম কিছুটা যাতে শিথিল করা যায়, সে পথেই হাঁটছে কেন্দ্র।

Comments are closed.