অপেক্ষার শেষ, অক্সফোর্ডের টিকার ট্রায়াল শুরু করতে চলেছে সেরাম, অনুমতি দিল ড্রাগ কন্ট্রোল

ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল ভিজি সোমানি জানিয়েছেন, কোভিশিল্ড টিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের ফলাফল সবিস্তারে জমা করতে হবে সেরামকে। টিকা মানুষের শরীরে কতটা নিরাপদ, কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে কিনা ইত্যাদি রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে ‘ডেটা সেফটি মনিটরিং বোর্ড’ ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: টালবাহানা চলছিল এতদিন। সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার প্রস্তাবে কিছু বদলও করে ড্রাগ কন্ট্রোল। সেরাম জানিয়েছিল অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি তাদের টিকা কোভিশিল্ডের দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল একসঙ্গে করে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। তবে ড্রাগ কন্ট্রোলের পরিবর্তিত গাইডলাইনে বলা হয় দুই স্তরের ট্রায়াল আলাদা করেই করতে হবে। টিকার ট্রায়ালের দায়িত্বে থাকবে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)। এই সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক হয় গত শুক্রবার। সেরাম জানিয়েছে, টিকার ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন পাওয়া গিয়েছে।

ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল ভিজি সোমানি জানিয়েছেন, কোভিশিল্ড টিকার দ্বিতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের ফলাফল সবিস্তারে জমা করতে হবে সেরামকে। টিকা মানুষের শরীরে কতটা নিরাপদ, কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে কিনা ইত্যাদি রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে ‘ডেটা সেফটি মনিটরিং বোর্ড’ । মানুষের জন্য এই টিকা নিরাপদ প্রমাণিত হলেই তৃতীয় স্তরের ট্রায়ালের জন্য অনুমতি দেওয়া হবে।

কীভাবে টিকার ট্রায়াল হবে

সেরাম জানিয়েছে, ড্রাগ কন্ট্রোল ও আইসিএমআরের নির্দেশিকা অনুসারে দুটি ডোজে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল হবে। ০ থেকে ২৯ দিনের ব্যবধানে টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হবে স্বেচ্ছাসেবকদের। প্রথম ডোজ দেওয়ার ২৯ দিন পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। এই সময়ের ব্যবধানে পর্যবেক্ষণে থাকবেন স্বেচ্ছাসেবকরা। তাঁদের শরীরে কী কী বদল হচ্ছে তার রেকর্ড রাখা হবে। ১৮ বছরের উপরে সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্কদেরই টিকা দেওয়া হবে।

সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশনের প্যানেলের সদস্যরা ঠিক করেছেন দেশের কোন কোন জায়গায় টিকার ট্রায়াল শুরু করা হবে। জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১৭টি ক্লিনিককে বেছে নেওয়া হয়েছে যার মধ্যে রয়েছে—দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স (এইমস), পুণের বি জে মেডিক্যাল কলেজ, পাটনার রাজেন্দ্র মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্স, চণ্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, যোধপুরের এইমস, গোরক্ষপুরের নেহরু হাসপাতাল, বিশাখাপত্তনমের অন্ধ্র মেডিক্যাল কলেজ, মাইসোরের জেএসএস অ্যাকাডেমি অব হাইয়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ইত্যাদি।

অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়াল শুরু হওয়ার পরেই ভারতে এই টিকা তৈরির লাইসেন্স পায় সেরাম ইনস্টিটিউট। ব্রিটেনের জেন্নার ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিন ChAdOx1 nCoV-19 ক্যানডিডেট ডিজাইন করেছে অক্সফোর্ডের ভাইরোলজিস্ট সারা গিলবার্টের টিম। কোভিড ভ্যাকসিন গবেষণায় অক্সফোর্ডের হাত ধরেছে ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা। অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রজেনেকার সঙ্গে চুক্তি করে ডিএনএ ভেক্টর ভ্যাকসিনের ফর্মুলাতেই কোভিশিল্ড ভ্যাকসিন তৈরি করেছে সেরাম। সিইও আদর পুনাওয়ালা জানিয়েছেন, অক্সফোর্ডের ChAdOx1 nCoV-19 ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটের মতোই কোভিশিল্ডও মানুষের শরীরে বি-কোষকে সক্রিয় করে অ্যান্ডিবডি তৈরি করবে। পাশাপাশি, টি-কোষকে সক্রিয় করে রোগ প্রতিরোধ শক্তি গড়ে তুলবে। ইঞ্জেকশন দেওয়ার  ১৪ দিনের মাথায় টি-কোষ সক্রিয় হয়ে ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে তোলার কাজ শুরু করবে।  বি-কোষ সক্রিয় হয়ে অ্যান্টিবডি তৈরি হবে ২৮ দিনের মাথায়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More