রুদ্রম! শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স ভেদ করতে নয়া অ্যান্টি রেডিয়েশন মিসাইলের সফল পরীক্ষা ভারতের

ভারতে প্রথমবার অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করল প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। সুখোই-৩০ ফাইটার জেট থেকে নির্ভুল নিশানায় ছুটে গেছে দেশের তৈরি আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র রুদ্রম।

৩২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বড় সাফল্য প্রতিরক্ষায়।

ভারতে প্রথমবার অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করল প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। সুখোই-৩০ ফাইটার জেট থেকে নির্ভুল নিশানায় ছুটে গেছে দেশের তৈরি আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র রুদ্রম। প্রথমবারের নিক্ষেপেই সাফল্য। লাদাখ সীমান্ত সংঘাতের আবহে দূরপাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতীয় বাহিনীর বড় হাতিয়ার হতে চলেছে বলেই জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

ডিআরডিও-র সাফল্যের প্রশংসা করে টুইট করেছেন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং। তিনি বলেছেন, “আধুনিক প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র রুদ্রম-১ ভারতের প্রথম অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল। ডিআরডিও ও বায়ুসেনার যৌথ প্রয়াসে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে। সকলকে অভিনন্দন জানাই।”

রুদ্রম-১ এয়ার টু সারফেস মিসাইল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ‘নিউ জেনারেশন অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল’ (NGARM) । এই ক্ষেপণাস্ত্র ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম বড় অস্ত্র হতে চলেছে। কারণ অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইলের কাজ হল শত্রুপক্ষের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের বারোটা বাজিয়ে দেওয়া। শত্রু সেনার রেডারের তথ্য নষ্ট করা, বিপক্ষের কমিউনিকেশন সিস্টেম তছনছ করে দেওয়া। শত্রুপক্ষ চাইলেও জিপিএস বা রেডারের ডেটা উদ্ধার করতে পারবে না।

ডিআরডিও-র সঙ্গে এই মিসাইলের নকশা তৈরি করেছে ভারত ডায়ানামিক্স লিমিটেড ও ভারত ইলেকট্রনিক্স লিমিটেড। ডিফেন্স ইলেকট্রনিক্স রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রোটোটাইপ তৈরি হয়েছে। ডিআরডিও জানিয়েছে, অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল সিস্টেমের প্রযুক্তিতে সরকারি সংস্থা ছাড়াও একাধিক বেসরকারি সংস্থারও অবদান আছে।

রুদ্রম-১ মিসাইলের পাল্লা ১০০-১৫০ কিলোমিটার। সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমান থেকে ছোড়া যাবে এই মিসাইল। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রয়োজনে এই মিসাইলের পাল্লা বাড়ানো যাবে। সুখোই ছাড়াও মিরাজ-২০০০, জাগুয়ার, হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেডের (হ্যাল) তৈরি তেজস যুদ্ধবিমান থেকেও এই মিসাইল ছোড়ার প্রযুক্তি তৈরি হয়েছে।

৫.৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এই ক্ষেপণাস্ত্রের ওজন ১৪০ কিলোগ্রাম। ২০১২ সাল থেকে এই মিসাইল তৈরির কাজ শুরু হয়। ২০১৪ সালে এই মিসাইল ব্যবহারের জন্য আবেদন করে ভারতীয় বায়ুসেনা। বিদেশ থেকে কেনা ওজনে ভারী রেডিয়েশন মিসাইলের থেকে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হাল্কা ওজনের এয়ার-টু-সারফেস রুদ্রম-১ এর ক্ষমতা অনেক বেশি। আবহাওয়ার যে কোনও পরিস্থিতিতেই নিক্ষেপ করা যায় এই যুদ্ধাস্ত্র। ডিআরডিও জানিয়েছে, এই মিসাইলেরই গ্রাউন্ড-বেসড ভার্সন তৈরি হচ্ছে। ভূমি থেকে মোবাইল লঞ্চারে নিক্ষেপ করা যাবে সেই ক্ষেপণাস্ত্র।

লাদাখ সংঘাতের আবহে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের শক্তি প্রদর্শন করছে ভারত। সুপারসনিক মিসাইল অ্যাসিস্টেড রিলিজ টর্পেডো বা ‘স্মার্ট’(SMART) ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষায় সাফল্য মিলেছে। বিশেষত ভারত মসাহাগরে যেভাবে চিনের আধিপত্য বাড়ছে তাতে সমুদ্র-যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে বা শত্রুপক্ষের ডুবোজাহাজ গোপনে হামলা চালাবার চেষ্টা করলে, সর্বশক্তি দিয়ে তা রুখে দিতে পারবে ‘স্মার্ট’ ক্ষেপণাস্ত্র। ব্রাহ্মস মিসাইল ছুড়ে শক্তির প্রদর্শন করেছে ভারত। অর্জুন যুদ্ধট্যাঙ্ক থেকে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক গাইডেড মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও সফল। শব্দের চেয়েও দ্রুতগামী সুপারসনিক শৌর্য ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক নিক্ষেপেও সাফল্য পেয়েছে ডিআরডিও। ৭০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র পরমাণু অস্ত্র বহু করতে পারে। শৌর্য সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক-০৫ মিসাইলের ল্যান্ড ভার্সন। অর্থাৎ ভূমি থেকে ভূমিতে ছোড়া যায় এই মিসাইল। ডিআরডিও জানিয়েছে, পাঁচ হাজার কিলোমিটার পাল্লার কে-৫ সাবমেরিন-লঞ্চড ব্যালিস্টিক মিসাইলও তৈরির পথে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More