৬ বছর বয়সে হারিয়েছিলেন দৃষ্টিশক্তি, আজ তিনিই আইএএস অফিসার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলো জিনিসটা ঠিক কেমন হয় তা জানেনই না প্রাঞ্জল পাটিল। জীবনের তিরিশটা বছর অন্ধকারেই কাটিয়েছেন তিনি। কারণ এই তরুণী অন্ধ। ছোট্ট থেকেই প্রাঞ্জল বুঝে গিয়েছিলেন তাঁর জীবনটা আর পাঁচজন সাধারণের মতো নয়। পড়াশোনা থেকে শুরু করে জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে হাজার সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল প্রাঞ্জলকে। তখন থেকেই প্রাঞ্জলের মধ্যে জমা হয়েছিলে এক অদ্ভুত জেদ। সবাইকে দেখিয়ে দিতে হবে যে তিনিও পারেন। চোখের দৃষ্টি না থাকলেও তিনি যে বাকিদের থেকে কোনও অংশে আলাদা নন, বুঝিয়ে দিতে চেয়েছিলেন সেটাই।

    জগতের আলো দেখতে না পেলেও নিজের অন্তরের আলো দিয়েই বাজিমাত করেছেন প্রাঞ্জল। সব বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছেন লক্ষ্যে। দেশের প্রথম অন্ধ (visually challenged) মহিলা আইএএস অফিসার তিনি। সোমবার তিনি জয়েন করেছেন তিরবনন্তপুরমের সাব-কালেক্টর হিসেবে। অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে উচ্ছ্বসিত প্রাঞ্জল। খুশি তাঁর পরিবারও। মেয়ের সাফল্যে উৎসবে মেতেছেন প্রাঞ্জলের বাবা-মা। তবে এত হইচই, আমদ-আহ্লাদ থেকে নিজেকে একটু দূরে রেখেছেন প্রাঞ্জল। খালি হাসিমুখে সবাইকে বলছেন, “কোনওদিন হার মানিনি। ভেঙে পড়তে শিখিনি আমি। আজ তাই এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি।”

    মহারাষ্ট্রের উল্লাসনগরের বাসিন্দা প্রাঞ্জল। মাত্র ছ’বছর বয়সেই চলে গিয়েছিল চোখের দৃষ্টি। চিকিৎসকরা সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন কোনও উপায় নেই। চোখে আর দেখতে পাবেন না প্রাঞ্জল। দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলেন প্রাঞ্জলের বাবা-মা। তবে হার মানেনি ছোট্ট মেয়েটা। তখন থেকেই কিছু একটা করে দেখানোর অদ্ভুত জেদ চেপে বসেছিল প্রাঞ্জলের মনে। সেদিনই ঠিক করে নিয়েছিলেন শত সমস্যা আসলেও ভেঙে পড়বেন না। প্রাঞ্জলের মনোবলই তাঁর সাফল্যের অন্যতম কারণ। ইউপিএসসি পরীক্ষার জন্য নিজেকে তৈরি করতে শুরু করেন তিনি। সবসময় পাশে পেয়েছিলেন মা-বাবাকে। ২০১৬ সালে ৭৭৩ র‍্যাঙ্ক করেন পরীক্ষায়। নিজের রেজাল্টে খুশি ছিলেন না প্রাঞ্জল। আরও ভালো ফলের বেড়েছিল জেদ। ফল পেয়েছিলেন হাতেনাতে। পরিশ্রম আর অধ্যবসায় বিফলে যায়নি। ২০১৭ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় প্রাঞ্জলের র‍্যাঙ্ক হয় ১২৪।

    নিজের মনের জোরেই এতদূর এগিয়ে এসেছেন প্রাঞ্জল। ঘনিষ্ঠরা বলছেন, “ও আরও অনেকদূর যাবে। ওর মনের জোর আর কঠোর পরিশ্রমই ওর সাফল্যের চাবিকাঠি।” আত্মবিশ্বাসী প্রাঞ্জলও। ট্রেনিং পিরিয়ডে এর্নাকুলামের অ্যাসিসটেন্ট কালেক্টর হিসেবে যুক্ত ছিলেন তিনি। এ বার পোস্টিং পেয়ে তিরবনন্তপুরমের সাব-কালেক্টর হিসেবে জয়েন করেছেন প্রাঞ্জল।

    পড়ুন, দ্য ওয়ালের পুজোসংখ্যার বিশেষ লেখা…

    গান্ধীজির ট্যাঁকঘড়িটা চুরি গেল

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More