ভারতের ‘মিশন শক্তি’ ভয়ঙ্কর, উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ তছনছ করতে পারে স্পেস স্টেশন, আশঙ্কা নাসার

২১

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘মিশন শক্তি’র বাহুবলের প্রদর্শনের পর কি বিপদ বেড়েছে মহাকাশে? গোয়েন্দা-উপগ্রহ এমিস্যাট এবং ২৮টি বিদেশি কৃত্রিম উপগ্রহ শক্তিশালী পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যাল (পিএসএলভি-সি-৪৫)-এর পিঠে চাপিয়ে মহাকাশে পাঠানোর আগে এই চিন্তাই ভাবিত করেছিল ইসরোর বিজ্ঞানীদের। তবে এই চিন্তা যে নিছক অমূলক নয়, সেটা প্রমাণ করে দিল মার্কিন গবেষণা সংস্থা নাসা। ‘অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইল’ (ASAT)-এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগকে এককথায় ‘ভয়ঙ্কর’ বলে ব্যাখ্যা করলেন নাসার বিজ্ঞানীরা।

কৃত্রিম উপগ্রহ ধ্বংসকারী ক্ষেপণাস্ত্র ‘এস্যাট’ ছুঁড়ে খুন করা হলো একটি উপগ্রহকে। শক্তি প্রদর্শন নিঃসন্দেহে, ভারতের অস্ত্রভাণ্ডারকে গর্বিত করলো এই ‘অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইল’, তবে বিপদ বাড়ল বহুগুণ। মাইক্রস্যাট নামে ওই উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ অর্থাৎ ভেঙে পড়া টুকরো এখন ছড়িয়ে রয়েছে মহাকাশে। বলা বাহুল্য পাক খাচ্ছে পৃথিবীর কক্ষপথে। ১০ সেন্টিমিটার ব্যাসের ৬০টি টুকরোকে আপাতত চিহ্নিত করেছে নাসা। তবে মাইক্রোস্যাটের ভেঙে পড়া টুকরোর প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি, প্রায় ৪০০। ক্রমশই শূন্য মাধ্যাকর্ষণকে সঙ্গী করে তারা উঠে চলেছে আরও উপরের স্তরে।

ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) এবং মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো)-র মিলিত প্রকল্প এই ‘মিশন শক্তি,’ যারই ফসল ‘অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইল’। পৃথিবীর লো-অরবিটে অর্থাৎ ৩০০ কিলোমিটার উপরে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ মাইক্রস্যাটকে এক ধাক্কায় তছনছ করে দিয়েছে এই ক্ষেপণাস্ত্র। স্বভাবতই এর পরে পৃথিবীর লো-অরবিটে ছড়িয়ে পড়েছে উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ। নাসা জানিয়েছে, এই অরবিটের কিছু উপরেই ৩৭০ কিলোমিটার কক্ষপথে রয়েছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন (আইএসএস)। কোনও ভাবে এই ছড়িয়ে পড়া টুকরোগুলি আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ধাক্কা মারলে বড় বিপদ ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।

নাসার প্রধান জিম ব্রিডেনস্টিন বলেছেন, ‘‘ভয়ঙ্করতম ঘটনা। উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষের ২৪টি টুকরো উপরে উঠে আসতে দেখা গেছে। সেগুলি কোন গতিবেগে কোথায় দৌড়বে, কার সঙ্গে ধাক্কা মারবে বোঝা যাচ্ছে না।’’ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও। তাদের তরফে জানানো হয়েছে, এই টুকরোর কোনও একটির সঙ্গে মহাকাশ স্টেশনের সংঘর্ষ হলে, সেখানে গবেষণারত মহাকাশচারীরাও বিপদে পড়বেন।

ভয় কতটা?

নাসার বিজ্ঞানীদের কথায়, ৩০০ কিলোমিটার উপরে বায়ুমণ্ডলের স্তর যেখানে অপেক্ষাকৃত কম গাঢ় সেখানে ‘মাইক্রোস্যাট’ উপগ্রহের ভেঙে পড়া টুকরোগুলি ছড়িয়ে রয়েছে। সংখ্যায় তারা প্রায় ৪০০। ওই ধ্বংসবাশেষ ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন কক্ষপথ ও মহাকাশে রয়েছে আরও অন্তত ৯ লক্ষ বিভিন্ন উপগ্রহের ধ্বংসাবশেষ ও অন্যান্য বস্তু। যাদের মধ্যে অন্তত ৩৪,০০০ টুকরোর ব্যাস ১০ সেন্টিমিটারের আশপাশে। মহাকাশ বিজ্ঞানের ভাষায় এই টুকরোগুলোকে বলে Space debris।

এই টুকরো জমা হয় সাধারণত উপগ্রহ উৎক্ষেপণের জন্য। কোনও একটি রকেট কক্ষপথে গেলেই অন্তত ২০০-২৫০ এমন ‘স্পেস ডেব্রি’ ছড়িয়ে পড়ে মহাকাশে। অভিকর্ষ বল না থাকায় সেগুলি ঘুরতে থাকে বিভিন্ন গতিবেগে।

‘এস্যাট’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে উপগ্রহ ধ্বংসের যে পরীক্ষাটা ভারত করেছে , তা আমেরিকা করেছিল ১৯৫৯ সালে। তবে সেই সময় এতটাও ভয়ের কোনও কারণ ছিল না। কারণ মহাকাশে তখন এত বেশি রকেট বা উপগ্রহের উৎক্ষেপণ হতো না, তাই স্পেস ডেব্রি-র সংখ্যাও ছিল অনেক কম। ২০০৭ সালে পৃথিবীর কক্ষপথের ৫৩০ মাইল উপরে অ্যান্টি-স্যাটেলাইট  ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা  করেছিল চিন। সেই সময় মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল প্রায় ৩,০০০ স্পেস ডেব্রি। জিম ব্রিডেনস্টিন জানিয়েছেন, ‘এস্যাট’-এর মতো অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইল বা উপগ্রহ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োগের ফলে মহাকাশ স্টেশনে বিপদের আশঙ্কাকে অন্তত ৪৪ শতাংশ বাড়িয়ে দিয়েছে।

আরও পড়ুন:

অ্যান্টি-স্যাটেলাইট মিসাইলের গবেষণা সফল, মহাকাশে শক্তি বাড়াচ্ছে ভারত! চিন্তায় পাক-চিন

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More