শুক্রবার, অক্টোবর ১৮

আমাদের চাঁদে পৌঁছনোর জেদ আরও বেড়ে গেল, আপনাদের শ্রম বৃথা যাবে না: ইসরোর বিজ্ঞানীদের মোদী

দ্য ওয়াল ব্যুরো: একেবারে শেষ মুহূর্তে পৌঁছে ল্যান্ডার বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় গোটা দেশ যখন হতাশ, তখন শনিবার সকালে জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় দেশকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার কথা বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

বেঙ্গালুরুতে ইসরোর মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে সেই বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এ দিন বলেন, “আমাদের চাঁদে পৌঁছনোর জেদ আরও বেড়ে গেল। বিজ্ঞান গবেষণার সেরা সময়ের খুব কাছেই পৌঁছে গিয়েছি আমরা”।

শুক্রবার রাত আড়াইটে পর্যন্ত ইসরোর মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রেই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। ল্যান্ডার বিক্রম থেকে কোনও রকম সিগনাল যখন পাওয়া যাচ্ছে না তখনই একবার বিজ্ঞানীদের বরাভয় দিয়ে বলেছিলেন, “জীবনে ওঠা পড়া লেগেই থাকে। যে সাফল্য আপনারা অর্জন করেছেন, তা কম নয়। গোটা দেশ আপনাদের জন্য গর্বিত”।

শনিবার সকালে ইসরোর বিজ্ঞানীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাল রাতে আপনাদের মুখ দেখেই বুঝতে পেরেছি, আপনারা গভীর ভাবে হতাশ। রাতে হয়তো ঘুমোতেও পারেননি। কিন্তু সবাই জানে, আপনারা দেশের জন্য নিরলস ভাবে খেটেছেন। ব্যক্তিগত সুখ শান্তির কথা একবারও ভাবেননি। এই শ্রম বৃথা যাবে না। ব্যর্থতা আমাদের পিছিয়ে দেবে না”।

প্রায় আধ ঘন্টা ধরে সেই বক্তৃতার পর ইসরো বিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলাদা করে কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তার পর তাঁকে বিদায় জানানোর সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন। তাঁকে জড়িয়ে ধরে স্বান্তনা দেন প্রধানমন্ত্রী। অনেকক্ষণ ধরে তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে দেন।

পরে এ দিন মুম্বইয়ে মেট্রো কোচের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গিয়েও ইসরো-র প্রসঙ্গ টেনে আনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ইসরোর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে কাল রাত কাটিয়েছি আমি। যে সাহস ও অধ্যবসায় তাঁরা দেখিয়েছেন তাতে আমি আপ্লুত। কীভাবে ধৈর্য্যের সঙ্গে লক্ষ্যের দিকে পৌঁছতে হয় তার নজির রেখেছেন ইসরোর বিজ্ঞানী ও ইঞ্চিনিয়াররা। আমি জানি, ওঁরা ওঁদের লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত থামবেন না”।

মোদী আরও বলেন, “তিন ধরণের মানুষ রয়েছেন। এক ধরণের মানুষ ব্যর্থতার ভয়ে দৌড় শুরুই করেন না। এক ধরণের মানুষ সমস্যা থেকে দূরে পালিয়ে যান। আর তৃতীয় ধরণের মানুষ দৌড় শুরু করে লক্ষ্যে না পৌঁছনো পর্যন্ত দৌড় জারি রাখেন। ইসরোর মানুষরা হলেন এই তৃতীয় ধরণের।”

Comments are closed.