শুক্রবার, নভেম্বর ২২
TheWall
TheWall

অযোধ্যা: সুপ্রিম কোর্টের রায়কে মর্যাদা দিয়েও কী বলল মুসলিম ল বোর্ড

দ্য ওয়াল ব্যুরো: অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়কে মর্যাদা দিলেও এ ব্যাপারে রিভিউ পিটিশন দাখিল করার দরজা খুলে রাখতে চাইল মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ড এবং সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।

শনিবার সকালে রায় ঘোষণার আধ ঘন্টার মধ্যেই তাঁদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া জানান মুসলিম পারসোনাল ল বোর্ডের কর্তা ও আইনজীবীরা। ল বোর্ডের তরফে আইনজীবী জাফর ইয়াব জিলানি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সমগ্র রায় নিয়ে আমরা অসন্তুষ্ট নই। বরং রায়ের কোনও কোনও অংশ খুবই সন্তোষজনক। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ যখন বলেছেন যে, কোনও একটি ধর্মের বিশ্বাস ও আস্থা অন্য ধর্মের বিশ্বাস ও আস্থার উপরে নয়। অর্থাৎ সর্বোচ্চ আদালত দেশে ধর্মনিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। তাই সবার আগে দেশের সবার কাছে আমাদের আবেদন, রায় নিয়ে কারও মনে যদি কোনও অসন্তোষ থাকেও, তাঁরা যেন কোনও প্রতিবাদ-বিক্ষোভে নেমে না পড়েন। বরং শান্তি বজায় রাখেন। তাতেই ভারত জয়ী হবে।

আরও পড়ুন: অযোধ্যা রায়ের পর মোদী: ভারত ভক্তিই মজবুত হোক

এ কথা বলেই জাফর ইয়াব জিলানি বলেন, শরিয়ত আইনেই বলা হয়েছে মসজিদ কখনও কাউকে উপহার হিসাবে দেওয়া যায় না। বা কারও থেকে উপহার হিসাবে নেওয়া যায় না। ১৫২৮ সালে বাবরের সেনাপতি মীর বাকি অযোধ্যায় মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। পুরাতত্ত্ব বিভাগের রিপোর্ট দেখে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সর্বোচ্চ আদালত। সেই সঙ্গে মসজিদের জন্য অন্যত্র পাঁচ একর জমি দেওয়ার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছে।

আরও পড়ুন অযোধ্যায় বিতর্কিত জমিতে মন্দিরই, মসজিদ নির্মাণের জন্য পৃথক স্থানে পাঁচ একর জমি: রায় সুপ্রিম কোর্টের

জিলানির কথায়, এখানেই আমাদের অসন্তোষের বিষয়। তা হল, বিতর্কিত জমিতে কোনও অধিকার আমাদের দেওয়া হয়নি। এখন প্রশ্ন হল, আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে? এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ আদালতে রিভিউ পিটিশন দাখিল করার সুযোগ রয়েছে। পরিস্থিতির দাবি হল, আমরা যেন রিভিউ পিটিশন দাখিল করি। কিন্তু এখনও এ ব্যাপারে আমরা কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি। রায়ের প্রতিলিপি হাতে পাওয়ার পর মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এবং সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের সদস্যরা তা নিয়ে আলোচনা করবেন। আমাদের আইনজীবী রাজীব ধাওয়ান সহ অন্যান্য আইনজীবীদের মতামত নেওয়া হবে। তার পরই রিভিউ পিটিশনের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

জিলানির কথায়, ততক্ষণ পর্যন্ত যা অত্যন্ত জরুরি তা হল—সংযম ও শান্তি বজায় রাখা। যাতে সৌভাতৃত্বের বাতাবরণ অটুট থাকে।

আরও পড়ুন বাবর জমানা থেকে মোদী জমানা, অযোধ্যা কাণ্ডের শুরু থেকে শেষ জানুন এক নজরে

Comments are closed.