রবিবার, ডিসেম্বর ১৫
TheWall
TheWall

খুন করে যাবজ্জীবন সাজা, জেল থেকে বেরিয়ে পাশ করলেন ডাক্তারি

দ্য ওয়াল ব্যুরো : ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়, এই কথাটা বোধহয় ৩৯ বছরের সুভাষ পাটিলের জন্য একেবারেই যথাযথ। ডাক্তারি পড়তে পড়তে থার্ড ইয়ারে খুন করে যাবজ্জীবন সাজা হয় সুভাষের। কিন্তু ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন শেষ হয়নি। জেল থেকে বেরিয়ে বাকি পড়া শেষ করলেন সুভাষ। পাশ করলেন ডাক্তারি।

বেঙ্গালুরুর গুলবার্গের মহাদেবপুর রামপুর মেডিক্যাল কলেজে ডাক্তারি পড়তেন সুভাষ। সেই সময় এক বিবাহিত মহিলা পদ্মাবতীর সঙ্গে প্রেম হয় তাঁর। পদ্মাবতীর সঙ্গে মিলে ২০০২ সালের নভেম্বর মাসে তাঁর স্বামী অশোক গুট্টেদারকে খুন করেন সুভাষ। দুজনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। ২০০৬ সালে তাঁদের যাবজ্জীবন সাজা শোনায় আদালত। উচ্চ আদালতে আবেদন করলেও সাজা একই থাকে।

জেলে গেলেও স্বপ্ন শেষ হয়নি সুভাষের। সেখানে ডাক্তারদের সাহায্য করতেন তিনি। অন্য বন্দিদের দেখভাল করতেন। এমনকী ২০০৮ সালে জেলের মধ্যে টিবি আক্রান্ত বন্দিকে সুস্থ করে তোলার জন্য স্বাস্থ্য দফতর পুরস্কৃতও করে তাঁকে। জেলে বসেই কর্ণাটক স্টেট ওপেন ইউনিভার্সিটি থেকে ২০০৭ সালে সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা করেন সুভাষ। ২০১০ সালে সাংবাদিকতায় পোস্ট গ্র্যাজুয়েটও হন তিনি।

ভালো ব্যবহারের জন্য ২০১৬ সালে তাঁকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ছাড়া পাওয়ার পর রাজীব গান্ধী ওপেন ইউনিভার্সিটিতে বাকি ডাক্তারি পড়া শেষ করার আবেদন করেন সুভাষ। অনুমতি মেলে। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সেখান থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়ে বের হন সুভাষ।

বর্তমানে কালাবুরাগির বাসবেশ্বর হাসপাতালে কাজ করছেন সুভাষ। কর্নাটক মেডিক্যাল কাউন্সিলেরও সদস্য হয়েছেন তিনি। সুভাষের কথায়, যাঁরা মনে করেন জেলে যাওয়া মানেই জীবন শেষ, তাঁরা ভুল। স্বপ্ন বেঁচে থাকলে তা পূরণ হবেই। বাকি জীবনটা গরিবদের সেবা করেই কাটাতে চান যাবজ্জীবন জেলের সাজা কেটে আসা এই ডাক্তার।

Comments are closed.