সোমবার, অক্টোবর ১৪

রেল স্টেশনের বাইরে খাবারের দোকান চালান এমবিএ করা দম্পতি! কারণ জেনে মুগ্ধ নেটিজেনরা

দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমবিএ করেছেন স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই। চাকরিও করেন বহুজাতিক সংস্থায়। কিন্তু প্রতিদিন সকালে অফিস যাওয়ার আগে একটি স্ট্রিট ফুডের দোকান সামলান মুম্বইয়ের অশ্বিনী সেনয় শাহ এবং তাঁর স্বামী। ভোর ৪টে থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত কান্দিভালি স্টেশনের বাইরে এই খাবার দোকানের তদারকি করেন তাঁরা। হাসিমুখে আপ্যায়ন করেন সকলকে। পরিবেশন করেন নানা রকমের স্ন্যাকস। তার মধ্যে থাকে পোহা, ইডলি, পরোটা, উপমা ও আরও অনেক কিছু।

কিন্তু চাকরি সামলে হঠাৎ রাস্তার ধারে খাবারের দোকানে কাজ করতে গেলেন কেন এই দম্পতি? আর্থিক ভাবে যথেষ্ট স্বচ্ছল তাঁরা। লাখ টাকার এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করেছেন জনৈক দীপালী ভাটিয়া।

দীপালী জানিয়েছেন, গান্ধী জয়ন্তীর দিন কান্দিভালি চত্বরে গিয়েছিলেন তিনি। তখনই নজরে আসে এই রোডসাইড ফুড শপ। খানিক উৎসাহ নিয়েই দোকানে ঢুকে পড়েন দীপালী। চেখে দেখেন বিভিন্ন আইটেম। দুই দোকানদারকে দেখে দীপালীর মনে হয় এ দোকানের আসল মালিক তাঁরা নন। কথায় কথায় জানতে পারেন তাঁর সন্দেহই ঠিক। এই খাবার দোকান আসলে ওই দম্পতির বাড়ির পরিচারিকার। পরিচারিকার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্যারালাইসড অবস্থায় শয্যাশায়ী।এ এতদিন ধরে দোকান চালাতেন মহিলা নিজেই। তবেই বয়সের ভারে আজকাল আর সবটা সামাল দিতে পারেন না।

তাই নিজেদের বাড়ির ৫৫ বছরের পরিচারিকাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছেন অশ্বিনী এবং তাঁর স্বামী। সকালের দিকে দোকান সামলে দেন তাঁরাই। খাবারদাবার সব বানিয়ে দেন ওই পরিচারিকা। ঠিকমতো সেগুলো বিক্রি করার দিকে খেয়াল রাখেন এই দম্পতি। অশ্বিনীর কথায়, “উনি আমাদের বাড়িটা পুরো সামলে রাখেন। আমাদের জন্য রান্না করেন। ওঁর জন্য এটুকু করতে পারব না? আমাদের খুব ভালো লাগে ওঁকে সাহায্য করতে পেরে।”

গোটা ঘটনাটা নিজের ফেসবুকে শেয়ার করেছেন দীপালী। লিখেছেন, “এঁদের কাজ সত্যিই অনুপ্রেরণা দেয়। নিজেদের পরিচারিকাকে সাহায্য করছেন ওঁরা। যাতে ওই মহিলাকে এই বয়সে টাকা উপার্জনের জন্য শারীরিক কষ্ট করতে না হয়।” সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল দীপালীর পোস্ট। নেটীজেনদের মনজয় করেছেন অশ্বিনী এবং তাঁর স্বামী। শুভেচ্ছা জানিয়ে অনেকেই লিখেছেন, “ওঁদের জন্য অনেক আশীর্বাদ রইল।” কেউ বা লিখেছেন, “সবসময় সাহায্যের জন্য টাকার প্রয়োজন হয় না। একটু সময় দিলেও অনেক মুশকিল আসান হয়ে যায়।”

Comments are closed.