দুপুরে মুকুলের বাড়িতে সিবিআই, রাতে তিনিই ইনদওরে কৈলাসের নবরাত্রির মঞ্চে মালা পরে, ব্যাপারটা কী?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবাসরীয় দুপুরে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দ আন্দোলিত করে দিয়েছিল স্রেফ একটি ঘটনা। নারদ কাণ্ডে ধৃত পুলিশ কর্তা এসএমএইচ মির্জাকে নিয়ে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের বাড়িতে চলে গিয়েছিল সিবিআই। নারদ স্টিং অপারেশনের পুনর্নিমাণ করাই ছিল উদ্দেশ্য।

কিন্তু উদ্দেশ্য যাই থাক, রাজনীতির উঠোনে প্রশ্ন উঠেছিল, তা হলে বিজেপি-তে গিয়ে কী লাভ হল মুকুলবাবুর? তৃণমূল এমনকি বিজেপি-র মধ্যেও কেউ কেউ অতি উৎসাহে বলছিলেন, অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদীকে তো চেনেন না! এও প্রশ্ন উঠেছিল সিবিআই কি ওঁকেও হেফাজতে নেবে?

বিকেল গড়াতেই দেখা যায়, মুকুলবাবু এলগিন রোডের ফ্ল্যাট ছেড়ে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। গন্তব্য, ইনদওর। বিজেপি-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক কৈলাস বিজয়বর্গীয় ইনদওরের নেতা। অনেকে ধরে নেন, সিবিআই হানার পর মুকুলবাবু বুঝি কৈলাসের শরণাপন্ন হতে যাচ্ছেন। কেউ বা আবার রাতের দিকে বলেন, কৈলাসের দেখা পাননি তিনি।

কিন্তু এই সব সাত- সতেরো জল্পনা যখন চলছে, তখন দেখা গেল ইনদওরে কনকেশ্বরী মন্দিরে নবরাত্রির সূচনা-মঞ্চে কৈলাস-মুকুল। কৈলাসের হাতে মাইক। মুকুলবাবুকে মালা পরিয়ে অভ্যর্থনা জানাচ্ছে পুজো কমিটি। তা হলে? লোকজন ধন্ধে পড়ে যাবে না?

হয়েছেও তাই। ওই একটি ছবিই সব জল্পনায় আবার বালতি বালতি জল ঢেলে দিয়েছে। আর মুকুলবাবু ইনদওর থেকে ফোনে বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চক্রান্ত করছেন তাঁর বিরুদ্ধে। এসএমএইচ মির্জার উপর থেকে সাসপেনশন তুলে নেওয়ার টোপ দিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মির্জাকে লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কথায় বলে রাজনীতিতে অনেক কথায় মুখে বলে দিতে হয় না। পরিস্থিতি, শরীরের ভাষা, আবহ দেখে আন্দাজ করা যায়। সেই ধারনা যদি সত্যিই হয়, তা হলে ইনদওরের মঞ্চের বার্তা রয়েছে বইকি। মুকুল-কৈলাস আস্থার সম্পর্কের বার্তা। তা ছাড়া কৈলাস অমিত শাহর আস্থাভাজন বলেও বিজেপি-তে পরিচিত।

তবে ব্যাপারটা এখানেই থেমে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে না। সিবিআই এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি। কিন্তু অনেকেই মনে করছেন, মুকুলবাবুর বাড়িতে সিবিআই টিম চলে গিয়ে একটা ক্ষেত্র রচনার চেষ্টা করল। বোঝানোর চেষ্টা হল, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তের প্রশ্নে সিবিআই কেন্দ্রের শাসক দলের নেতাদেরও রেয়াত করছে না। তাই এখন বড় কৌতূহলের বিষয় হল, এ বার কি বাংলার শাসক দলের নেতাদের নিয়েও টানাটানি শুরু হবে। তাও এই পুজোর বাজারে?

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More