মঙ্গলবার, জানুয়ারি ২১
TheWall
TheWall

সংসদের খাবারে ১৭ কোটির ভর্তুকি, সাংসদরাই ছেড়ে দিতে চাইলেন

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংসদ ভবনের ক্যান্টিনে দাম বাড়ছে খাবারের।

কেন বাড়ছে? কারণ, খাবারে ভর্তুকি উঠে যাচ্ছে। ভর্তুকি বাবদ বছরে প্রায় ১৭ কোটি টাকা খরচ করতে হত সরকারকে।
কিন্তু লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পরামর্শ মেনে সব দলের সাংসদরা সর্বসম্মতভাবে স্থির করেছেন যে, খাবারে ভর্তুকি এবার বন্ধ হওয়া উচিত। বিশেষ করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষ যখন নাজেহাল তখন সাংসদদের ভর্তুকি মূল্যে খাবার খাওয়া ঠিক নয়।

বস্তুত, বহুদিন ধরে একটা ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে, সংসদে শুধু সাংসদদের জন্যই খাবার সস্তা। তা নিয়ে বহু মানুষের ক্ষোভ রয়েছে। অনেকের মতে, একশ্রেণির নেতার জীবনযাত্রা ও আচরণ দেখেই মানুষের মনে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে যে, তাঁরা এত স্বচ্ছল, তা সত্ত্বেও তাঁদের খাবারে ভর্তুকি দেওয়া হবে কেন?

কিন্তু বাস্তব হল, সংসদের ক্যান্টিনে শুধু সাংসদরা খান না। সংসদের ক্যান্টিন চালায় উত্তর রেলওয়ে। সেই ক্যান্টিনে সংসদ ভবনের কর্মচারী, নিরাপত্তা কর্মী, দর্শনার্থী, সাংসদের সঙ্গে দেখা করতে আসা সাধারণ মানুষ এমনকি সাংবাদিকরাও ভর্তুকি মূল্যেই খাবার খান। লোকসভা ও রাজ্যসভা মিলিয়ে সাংসদ রয়েছেন ৭৯০ জন। তাঁদের মধ্যে প্রতিদিন পাঁচশ জন সাংসদ সংসদ ভবনে আসেন কিনা সন্দেহ। তার উপর অধিকাংশ সাংসদ সংসদ ভবনে চা-টোস্ট ভিন্ন কিছু খান না। অনেকে মধ্যাহ্নভোজের সময় বাড়ি চলে যান। কিন্তু তাঁদের বাদ দিয়েও সংসদের ক্যান্টিনে গড়ে রোজ খাবার খান খুব কম করে হাজার তিনেক লোক। ভর্তুকি বাবদ ১৭ কোটি টাকা খরচ হয় সে কারণেই।

আরও পড়ুন: শবরীমালা নিয়ে শেষ কথা বলেনি সুপ্রিম কোর্ট, মন্তব্য প্রধান বিচারপতির

সুতরাং সংসদের ক্যান্টিনে খাবারের দাম বাড়লে সবাইকেই বর্ধিত মূল্য দিতে হবে। বর্তমানে সংসদে ৩০ টাকায় নিরামিষ থালি ও ৬০ টাকায় আমিষ থালি পাওয়া যায়। বাটার টোস্ট পাওয়া যায় ৬ টাকায়, চিকেন কারি ৫০ টাকা, চিকেন তন্দুরি ৬০ টাকা, প্লেন ধোসা ১২ টাকা, মাছের ঝোল ৪০ টাকা ও মাংসের প্লেট ৪৫ টাকা। এক বাটি ভাতের দাম নেওয়া হয় ৭ টাকা আর একটি রুটির দাম ২ টাকা।

প্রসঙ্গত, সংসদ ভবনের ক্যান্টিনে এর আগে খাবার আরও সস্তা ছিল। কয়েক বছর আগে তা সামান্য বাড়ানো হয়। এবার ভর্তুকিই উঠে যাচ্ছে।

Share.

Comments are closed.