মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৭

নয়াদিল্লিতে নতুন সংসদ ভবন ও কেন্দ্রীয় সচিবালয়, স্বাধীনতার ৭৫ বছরের জন্য মেগা প্ল্যান মোদী সরকারের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাইসিনা পাহাড়ে ওঠার আগে বিজয় চকের ডান দিকে সগরিমায় দাঁড়িয়ে যে সংসদ ভবন, তার বয়স এতদিনে নব্বই পেরিয়ে গিয়েছে। এডউইন লুটিয়েন ও হার্বাট বেকার নামে দুই স্থপতির তৈরি এই ভবনে ইদানীং সবার যে স্থান সংকুলান হয় না তা বাস্তব।

লুটিয়েন দিল্লিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সচিবালয়গুলিরও বয়স কম হল না। স্থানের অভাব সেখানেও। তাই ভাবনাচিন্তা ছিল অনেক দিন ধরে। এ বার নতুন করে সে সব বানানোর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার।

২০২২ সালে দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বছর পূর্ণ হবে। সরকারের শীর্ষ সূত্রে বলা হচ্ছে, তার আগেই তৈরি হয়ে যাবে নতুন সংসদ ভবন। সেই সঙ্গে বিজয় চক থেকে ইন্ডিয়া গেট পর্যন্ত যে সেন্ট্রাল ভিস্টা-তার চালচিত্রও বদলে ফেলা হবে। সরকারি সচিবালয়ের সমস্ত মন্ত্রক ও অফিস নিয়ে আসা হবে এক ছাদের তলায়। নতুন সংসদ ভবন ও কেন্দ্রীয় সচিবালয় মিলিয়ে এমন এক সেন্ট্রাল ভিস্টা তৈরি হবে যার ঐতিহ্য আগামী দেড়শ-দু’শ বছর পর্যন্ত থেকে যাবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে স্থপতি ও বিশেষজ্ঞ সংস্থার সঙ্গে সরকার ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করে দিয়েছে বলে খবর।

এখন প্রশ্ন বর্তমান সংসদ ভবন কি পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাবে?

এর সদুত্তর এখনও সরকারের থেকে পাওয়া যায়নি। বলা হচ্ছে, পুরনো সংসদ ভবন চত্বরের সংস্কার করে সেখানেই নতুন ভবন গড়ে তোলা হতে পারে। বা অন্য কোনও জায়গায় নতুন করে সংসদ ভবন তৈরি করা হতে পারে।

এমনিতে নয়াদিল্লিতে জায়গার অভাব নেই। মাস্টার প্ল্যান গ্রিন এরিয়া যেমন রয়েছে, তেমনই আরাবল্লীর পাথুরে জায়গাও রয়েছে। তবে নতুন করে জায়গা অধিগ্রহণ করলে সবুজ ধ্বংস নিয়ে একটা বিতর্ক যে তৈরি হতে পারে তা এখন থেকেই বলে দেওয়া যায়।

কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের অফিসারদের বক্তব্য, লোকসভা ও রাজ্যসভায় সাংসদদের বসার জন্য যে পরিসর দরকার তা রয়েছে। কিন্তু সমস্যা হল, চিরকাল তো লোকসভা ৫৪৩ জন সাংসদ থাকবেন না। যে ভাবে জনসংখ্যা বাড়ছে তাতে আরও বিকেন্দ্রিকরণের প্রয়োজন হতে পারে অদূর ভবিষ্যতে। ডিলিমিটেশনের ফলে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়াতে হতে পারে। তখন সাংসদরা বসবেন কোথায়। তা ছাড়া সংসদ ভবনে সরকারি কর্মী, অফিসারদের জন্য স্থানের অভাব রয়েছে। সাংসদদেরও বসার জন্য পৃথক চেম্বার নেই।

অন্যদিকে লুটিয়েন দিল্লির কম বেশি ৪৭ টা ভবনে কেন্দ্র সরকারি মন্ত্রকগুলি রয়েছে। তাতে প্রায় ৭০ হাজার কর্মী অফিসার কাজ করেন। এতটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকায় অনেক সময়েই অসুবিধা হয় বলে কারও কারও অভিযোগ। নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের কর্তারা জানাচ্ছেন, সে কারণেই পুরো সচিবালয় এক ছাতার তলায় আনার কথা ভাবা হচ্ছে। নতুন সচিবালয় হবে একটা ছোটখাটো স্মার্ট সিটির মতো। আধুনিক সব ব্যবস্থাই থাকবে সেখানে।

Comments are closed.