বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ২৫

না জানে চা বানাতে, না করেছে বিক্রি, মোদীর সম্পর্কে কে বললেন বলুন তো?

দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের ভোট দোরগোড়ায়। চায়ের কাপে তুফান তোলা রাজনৈতিক তর্জা তো চলছেই। এ বার চা নিয়েও জমে গেল দিদি-মোদী দ্বৈরথ।

চা বাগানের জেলায় এসে ব্যক্তিগত জীবনে চা বিক্রি করার অভিজ্ঞতাকে শুক্রবারের জনসভায় তুলে ধরেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর মোদীর চা বিক্রি করাকে পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিদি এ দিন মোদীর উদ্দেশে বলেন, “কোনও দিন চা বিক্রি করেননি উনি। চা বানাতেই পারেন না!”

এ দিন ময়নাগুড়ির সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা চা চাষ করেন। আর আমি চা বানানোর লোক।” সেই সঙ্গে দিদিকে খোঁচা দিয়ে বলেন, “লেকিন চা ওয়ালা সে দিদিকো ইতনি চিড় কিউ হ্যায়?” প্রধানমন্ত্রীর কথায় তিন ‘T’ এই জেলার ভিত্তি। টি (চা), টিম্বার (কাঠ) এবং ট্যুরিজম (পর্যটন)। বাংলার তৃণমূল সরকার এই সবের সর্বনাশ করেছে বলেও অভিযোগ করেন মোদী।

চোদ্দর ভোটের আগে বিজেপি-র সাইবার সৈনিকদের প্রচারের অন্যতম অস্ত্রই ছিল মোদীর চা বিক্রি করা। এক কালে নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদী চা বিক্রি করতেন। তিনিই এ বার প্রধানমন্ত্রীর তখতের দিকে। গেরুয়া শিবিরের প্রচারের মূল বিষয় ছিল, এত দিন যাঁরা প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন, তাঁরা সবাই কোটিপতি ঘরের সন্তান। এই প্রথম একজন চা ওয়ালার সামনে দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ। আবেগের হিমোগ্লোবনে যে সেই স্লোগান হিল্লোল তুলেছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এমনিতেই নোটবন্দি এবং জিএসটি ইস্যুর পর মোদীর সরকারের আর্থিক নীতি আর তাঁর চা বিক্রি করা নিয়ে কম কটাক্ষ করেনি বিরোধীরা। কেউ কেউ বলতেন, “ভোটের আগে চায়ের কেটলি, ভোটের পরে অরুণ জেটলি।” প্রধানমন্ত্রীর জনসভার কিছুক্ষণ পরেই নিউটাউনে বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে সাংবাদিক বৈঠক করে মোদীর বিরুদ্ধে সেই সুরেই তোপ দাগেন দিদি। বলেন, “ভোট এলেই চা ওয়ালা আর ভোট ফুরোলেই রাফায়েল ওয়ালা। যদিও না জানে বানাতে, না করেছে বিক্রি।”

আরও পড়ুন:

মমতা যতই ধর্ণা দিন, চিটফান্ডের পাই পয়সার হিসাব নেওয়া হবে, জলপাইগুড়িতে ঝাঁঝালো আক্রমণ মোদীর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Comments are closed.