মঙ্গলবার, জুন ২৫

পরিবারভক্তি দেখাতে গিয়ে দেশভক্তি ভুলেছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী, কাঠুয়ার সভা থেকে তোপ মোদীর

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের বাজারে উঠে এল জালিয়ানওয়ালাবাগ প্রসঙ্গও। জালিয়ানওয়ালাবাগের ১০০ বছর পূর্তি নিয়েই পঞ্জাবে বিজেপি-কংগ্রেস দু’দলের মধ্যে শুরু হয়েছে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণের রাজনীতি। একটি বিশেষ পরিবারের প্রতি ভক্তি দেখাতে গিয়ে দেশভক্তি ভুলে গিয়েছেন পঞ্জাবে মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিং, এমনটাই অভিযোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কৌর বাদলও। তাঁকে আবার পাল্টা জবাব দিলেন অমরেন্দ্র সিং।

জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়াতে রবিবার নির্বাচনী প্রচারে গিয়েছিলেন মোদী। সেখানে গিয়ে তিনি বলেন, “ভারতে ব্রিটিশ শাসনের অন্যতম কলঙ্কিত ঘটনা জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডকেও ভুলে গিয়েছে কংগ্রেস। একটি বিশেষ পরিবারের প্রতি আনুগত্য দেখাতে গিয়ে দেশকে সম্মান করা ভুলে গিয়েছেন একদা সেনাবাহিনীর অফিসার ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংও। আর তাই জালিয়ানওয়ালাবাগ ঘটনা নিয়ে উপরাষ্ট্রপতির ডাকা অনুষ্ঠানেও যাননি তিনি।” জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনার ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু। কিন্তু সেই অনুষ্ঠানে যাননি পুঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনা নিয়েই তাঁকে তোপ দাগেন মোদী।

ভারতের স্বাধীনতা ইতিহাসের এই বিশেষ ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করছে কংগ্রেস, এমনটাই অভিযোগ মোদীর। তিনি বলেন, “এই ধরণের একটা বিষয়কে নিয়েও রাজনীতি করছে কংগ্রেস। পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নামদারদের ( পড়ুন রাহুল গান্ধী ) নিয়ে জালিয়ানওয়ালাবাগে গিয়েছিলেন, কিন্তু উপরাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে যাননি। এটাই রাষ্ট্রভক্তি ও পরিবারভক্তির মধ্যে পার্থক্য।” অবশ্য প্রধানমন্ত্রী এ দিনের সভায় বলেছেন, চাপে পড়েই এই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন অমরেন্দ্র সিং। তিনি বলেন, “আমি ক্যাপ্টেন অমরেন্দ্র সিংকে অনেকদিন ধরে চিনি। আমি তাঁর দেশভক্তি নিয়ে কোনও দিন কোনও প্রশ্ন তুলিনি। আমি বুঝতে পারছি, তাঁর বিরুদ্ধে পরিবারভক্তি দেখানোর জন্য কী পরিমাণ চাপ দেওয়া হয়েছে।”

জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনা নিয়ে ব্রিটিশ সরকারের ক্ষমা চাওয়ার বিষয় নিয়ে শনিবার টুইট করেছিলেন অমরেন্দ্র। তাঁর এই টুইটের পরেই তাঁকে আক্রমণ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরসিমরত কৌর বাদল। শিরোমণি অকালি দলের এই নেত্রী বলেন, “কংগ্রেসের উচিত অপারেশন ব্লু’স্টারের জন্য ক্ষমা চাওয়া। শিখদের আন্দোলন দমানোর জন্য সেনাদের ব্যবহার করেছিল কংগ্রেস।” আর একটি টুইট করে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ মন্ত্রী বলেন, “রাহুল গান্ধীকে নিয়ে অমরেন্দ্র সিং অকাল তখ্ত‌ সাহিবে গিয়েছিলেন। কিন্তু শিখদের ধর্মীয় আন্দোলনকে দমন করার জন্য যে ট্যাঙ্ক-বন্দুকের সাহায্য নিয়েছিল কংগ্রেস সরকার, যে পাপ তারা করেছিল, সে বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার সাহস তাঁর হয়নি। এখন তিনি এসেছেন ব্রিটিশ সরকারের ক্ষমা চাওয়া নিয়ে কথা বলতে।”

অবশ্য টুইটারেই এই সমালোচনার জবাব দিয়েছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “যে দিন জালিয়ানওয়ালাবাগের ঘটনা ঘটেছিল, সে দিন আপনার প্রপিতামহ সর্দার সুন্দের সিং মাজিথিয়াতে বসে হত্যাকারী জেনারেল ডায়ারের সঙ্গে ডিনার করেছিলেন। পরে ১৯২৬ সালে তাঁর ব্রিটিশভক্তির জন্য তাঁকে নাইটহুড উপাধিও দেওয়া হয়। এতদিনে আপনি, আপনার স্বামী সুখবীর সিংহ বাদল বা আপনার শ্বশুর প্রকাশ সিং বাদল এই ঘটনার জন্য একবারও ক্ষমা চেয়েছেন?”

আরও পড়ুন

মোদী আমার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে খুশি হতাম, কিন্তু ওঁর সাহস নেই: শত্রুঘ্ন

Comments are closed.