করোনা আতঙ্কের থেকেও বড় বিপর্যয় মানসিক চাপ, বাড়ছে অবসাদও, দাবি সমীক্ষায়

গ্লোবাল অ্যানালিটিক্স ক্রাইসিল (ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন সার্ভিসেস অব ইন্ডিয়া লিমিটেড)-এর সমীক্ষা বলছে, ঘরবন্দি জীবনে মানসিক চাপ আর অবসাদ ভাইরাসের আতঙ্কের থেকেও বেশি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা অতিমহামারীর জেরে জোর ধাক্কা খেয়েছে বিশ্বের অর্থনীতি। একদিকে স্বাস্থ্য সঙ্কট, অন্যদিকে লকডাউনের কোপে আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি বেহাল। বেকারত্ব বেড়েছে, মাসিক বেতনে টান পড়েছে, কাজ হারিয়েছেন বহু মানুষ। যার কারণে ভাইরাসের আতঙ্কের সঙ্গেই বেড়েছে মানসিক চাপ, চিন্তা, অবসাদ। বিশেষজ্ঞরা তাই বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ভাইরাসের আতঙ্ক, স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের থেকেও বড় বিপর্যয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মানসিক চাপ।

    গ্লোবাল অ্যানালিটিক্স ক্রাইসিল (ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন সার্ভিসেস অব ইন্ডিয়া লিমিটেড)-এর সমীক্ষা বলছে, ঘরবন্দি জীবনে মানসিক চাপ আর অবসাদ ভাইরাসের আতঙ্কের থেকেও বেশি। স্কুল-কলেজ, অফিস বন্ধ। বাড়িতে বসেই ‘ওয়ার্ক ফর্ম হোম’-এ কাজের চাপ এবং চিন্তা দুইই বেড়েছে। খোলামেলা, মুক্ত পরিবেশের বদলে চার দেওয়ালের মধ্যে দিবারাত্র কাজের মধ্যে ঢুকে থেকে মানসিক স্বাস্থ্যও ভেঙে পড়েছে। বহু মানুষ অনিদ্রা, অবসাদ, অধিক উত্তেজনা, উদ্বেগের শিকার হয়েছেন। একাকীত্ব গ্রাস করেছে অনেককে। বিরক্তিভাব বেড়েছে।

    টাটা সল্ট লাইটের সমীক্ষা বলছে, এই বিরক্তিভাব এবং অসহিষ্ণুতা ছেলেদের থেকে মেয়েদের কিছুটা হলেও বেশি দেখা গেছে। বিশেষত এই লকডাউনের সময়। পেশাজনিত কারণে বেশি অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছেন পুরুষরা। মহিলাদের সংখ্যা সেখানে কম ২০%। হয়তো পাঁচ জনের মধ্যে একজন। সমীক্ষা বলছে, বাড়িতে বন্দি থেকে সারাদিন অফিস বা ব্যবসার কাজে বেশি মনোযোগ দেওয়ার ফলে অল্পেই মেজাজ হারাচ্ছেন পুরুষরা। বিরক্তিভাব বেড়েছে অনেকেরই। অসহিষ্ণু হয়ে পড়ছেন অল্পেই। যার প্রভাব পড়ছে পরিবার, পরিজনদের উপরে। দেখা গেছে অন্তত ৬৮% পুরুষ শুধুমাত্র পেশাজনিত চাপের কারণেই মানসিক চাপে ভুগছেন। মহিলাদের সংখ্যা সেখানে ৫৮%।

    লকডাউনের প্রভাব পড়েছে নানা বয়সের মানুষের উপরে। ‘জেন জেড’ অর্থাৎ ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সীরাও নানা কারণে মানসিক চাপ ও অবসাদের শিকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যার কারণ অনেক। যেমন, মেলামেশা বন্ধ, সারাদিন বাড়িতে ইন্টারনেটে ডুবে থেকে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি হচ্ছে অনেকেরই। সামান্য কারণেই বিরক্ত হতে দেখা যাচ্ছে তরুণ, তরণীদের।

    করোনা সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে তাতে লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়ছে। অতএব অন্দরবাসেই থাকতে হবে বেশিটা সময়। বাইরে বের হলে সোশ্যাল ডিস্টেন্সিং মেনে চলতে হবে। সুরক্ষার জন্যই সামাজিক মেলামেশা প্রায় বন্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সময় শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখাটা সবচেয়ে বেশি জরুরি। ঘরবন্দি অবস্থাতেই যেহেতু থাকতে হবে, তাই তার মাঝেও মনকে চাঙ্গা ও ঝরঝরে রাখার উপায় খুঁজে নিতে হবে। সেটা কীভাবে? উদাহরণ দিয়ে টাটার নিউট্রিশন বিশেষজ্ঞ কবিতা দেবগন বলেছেন, হাইপারটেনশন এবং উচ্চ রক্তচাপ এই সময়ের সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্য সঙ্কট। বিশেষত ভারতের মতো দেশে। উচ্চ রক্তচাপ বেশি কাবু করছে পুরুষদের। তাই সুস্থ থাকতে লাইফস্টাইলে কিছু বদল আনার দরকার। তিনি বলছেন, “বাড়িতে বসে কাজের মাঝেই সময় করে এক ঘণ্টা একটু হাঁটুন। হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবার অর্ডার না দিয়ে, বাড়িতেই কোনও পছন্দের ডিশ বানিয়ে ফেলুন। মন অনেক হাল্কা হবে। এই সময় শরীরচর্চাও খুব জরুরি। নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম, সাঁতার ইত্যাদিতে শরীর ও মন দুই তরতাজা থাকবে।” কবিতার কথায়, রাতে টানা ঘুমটাও জরুরি। অন্তত ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা টানা ঘুম দরকার প্রত্যেকেরই।

    রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রান্নায় লো সোডিয়াম সল্ট খাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন কবিতা। তিনি বলেছেন, এই সময় খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন এসেছে অনেকেরই। বাড়িতেই রেস্তোরাঁর মতো তেল-মশলাদার খাবার বানিয়ে খাওয়ার ঝোঁক বেড়েছে। তাঁর মতে, এই সময় মেপে এবং বুঝে সঠিক ডায়েট মেনে চলা উচিত। উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের সাধারণ নুনের বদলে লো সোডিয়ান সল্ট খাওয়া উচিত। এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রনও থাকে। সময়ান্তরে রক্তচাপ পরীক্ষা করিয়ে নেওয়াও দরকার।

    লকডাউনের আরও একটা বড় প্রভাব পড়েছে অনলাইন শপিং সংস্থার ব্যবসাতেও। অ্যাসেঞ্চারের সাম্প্রতিক সমীক্ষার রিপোর্ট বলছে, গ্রাহকদের শপিং করার ধরনেও অনেক বদল এসেছে। টাটা কনজিউমার প্রোডাক্টের প্যাকেজড ফুড ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট রিচা অরোরা বলছেন, বাড়ির মতো স্বাদের খাবারের চাহিদা অনেক বেড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে দেখা গেছে গ্রাহকরা নানা রকমের ডাল, মাল্টিগ্রেন ফুড ইত্যাদি স্বাস্থ্যকর খাবারের অর্ডার বেশি দিচ্ছেন। তাই সেই মতো ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে অনলাইন স্টোরগুলিতে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More