দুষ্মন্তের দশ মাসের দলের দশ আসন, কোন যাদুতে! ম্যানেজমেন্ট গুরু থেকে পাইলট—দেখে নিন তাঁর টিম

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: দশ মাসের একটা দলের হাতে জাঠ মুলুকে সরকার গড়ার চাবিকাঠি। দুষ্মন্ত চৌটালা। এখনও এক বছরও বয়স হয়নি তাঁর দল জননায়ক জনতা পার্টির। হরিয়ানার বিধানসভা ভোটে দশমাসের দলই জিতে নিয়েছে ১০টি আসন। আর এতেই সর্বভারতীয় রাজনীতিতে এখন অন্যতম চর্চার কেন্দ্রে হরিয়ানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমপ্রকাশ চৌটালার নাতি এবং তাঁর দল।

    দুষ্মন্তের মায়ের বাবা প্রাক্তন উপপ্রধানমন্ত্রী দেবী লাল। রাজনীতিটা তাঁর রক্তেই। ৩১ বছর বয়সী এক তরুণ দল গড়ে হরিয়ানার সমীকরণ বদলে দিয়েছেন। নিজে আইন পাশ করার পর ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ায় এমবিএ পড়তে গিয়েছিলেন। ম্যানেজমেন্ট পাশ করে দেশে ফিরেই রাজনীতিতে চমক। কিন্তু এই দুঃসাধ্য সাধনে দুষ্মন্তকে কারা সাহায্য করলেন? কারা ছিলেন এই তরুণ নেতার টিমে?

    দেখা যাচ্ছে ‘টিম দুষ্মন্তে’ যেমন রয়েছেন প্রাক্তন পাইলট তেমন রয়েছেন ক্লাস ফাইভ পাশ করা লোকও। পিএইচডি, এমবিএ করা লোকজন তো আছেনই। আসুন দেখে নেওয়া যাক হরিয়ানা সরকারের চাবিকাঠি মুঠোয় নিয়ে নেওয়া দুষ্মন্তের কোর টিমে কারা কারা ছিলেন।

    ডঃ কেসি বাঙ্গার: দর্শনের অধ্যাপক ছিলেন বাঙ্গার। ওমপ্রকাশ যখন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী, তখন ওই রাজ্যের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ওমপ্রকাশের দল আইএনএলডি-র বিধায়কও হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালের নভেম্বরে দাদুর দল ছেড়ে দুষ্মন্তের দলের থিঙ্ক ট্যাঙ্কে যোগ দেন এই ৬৫ বছর বয়সী নেতা। এই ভোটে তিনি ছিলেন জেজেপির ওয়ার রুমের অন্যতম সেনানী।

    জশবীর সিং বেনিওয়াল: একসময়ে কমার্সিয়াল পাইলট ছিলেন জশবীর। ৪৬ বছর বয়সী এই জাঠ পাইলট এই ভোটে ছিলেন জেজেপির ককপিটে। তিনিই ব্লু প্রিন্ট এঁকেছিলেন প্রচারের। সময় ধরে ধরে প্রচারকে তুঙ্গে তুলেছিলেন। প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন লোকসভা মিটতে না মিটতেই। নিজেই এ কথা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন বেনিওয়াল।

    নিশান সিং: ওমপ্রকাশের দল আইএনএলডির কৃষক মোর্চার দায়িত্বে ছিলেন ৬৩ বছর বয়সী নিশান। পরে যোগ দেন জেজেপি-তে। দল তৈরির সময় থেকেই রাজ্য সভাপতির দায়িত্বে তিনি। সংগঠনকে সাজিয়েছিলেন নিজের মতো করে। যে প্রচারের রূপ রেখা ছকে দিতেন যশপ্রীত, সেটাকেই বাস্তবায়িত করতে প্রাণপাত পরিশ্রম করেছেন এই কৃষক নেতা। সব কেন্দ্র নয়। যে কেন্দ্রগুলি ছিল সম্ভাবনাময় তাতেই সংগঠনের সমস্ত শক্তি নিয়োগ করেছিলেন নিশান।

    দিগ্বিজয় চৌটালা: দুষ্মন্ত চৌটালার ভাই দিগ্বিজয়। বয়স ২৮। দলের ছাত্র সংগঠনের দায়িত্বে তিনি। ইউএসপি কী? দিগ্বিজয়ের জ্বালাময়ী ভাষণে রক্ত গরম হয়ে যায় অনেক তরুণ-তরুণীরই। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের ভোট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছেন এই তরুণ নেতা।

    নীতিন শেরাওয়াত: এই গোটা হরিয়ানা বিধানসভা ভোটে দুষ্মন্তের দলের সোশ্যাল মিডিয়ার মাথা ছিলেন নীতিন। দুষ্মন্ত এবং তাঁর দলের হয়ে ৫০টির বেশি ফেসবুক পেজ চালাতেন তিনি। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নাওয়া খাওয়া ভুলে একাই সামলাতেন সবটা। কোনও পেজের নাম রেখেছিলেন, দুষ্মন্ত কি দিওয়ানা কিংবা মুখ্যমন্ত্রী দুষ্মন্ত চৌটালা। প্রচারের শেষ দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হরিয়ানার হিসারে জনসভা করেছিলেন। বিজেপি-র ফেসবুক পেজে সেই জনসভা দেখেছেন ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার মানুষ। আর ওই একই দিনে দাদরিতে জনসভা করেছিলেন দুষ্মন্ত। সেটা দেখেছিলেন ৭ লক্ষের বেশি মানুষ। অর্থাৎ ডিজিটাল প্রচারকে তুঙ্গে তুলেছিলেন ৩০ বছর বয়সী নীতিন।

    অভয় মৌর্য: ৬০ পেরোনো অভয় মৌর্যই জেজেপির নির্বাচনী ইস্তাহার লিখেছিলেন। হায়দরাবাদ সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রাক্তন উপাচার্য রোহতকের ভূমিপুত্র। হরিয়ানার রাজনীতিকে জানেন বহুদিন ধরে। জাঠ রাজ্যের যুবক, মহিলা, সরকারি কর্মচারী—সমস্ত ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়ে ইস্তাহার লিখেছিলেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More