রবিবার, অক্টোবর ২০

#Breaking: অযোধ্যা মামলার শুনানি পিছলো ৩ মাস, ১৫ অগস্টের মধ্যে সমাধানের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র ৬ মিনিট। শুক্রবার অযোধ্যা মামলার শুনানি শুরু হওয়ার ৬ মিনিটের মধ্যেই পরবর্তী শুনানির দিন ঘোষণা করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। জানিয়ে দেওয়া হলো, আরও ৩ মাস পর হবে এই মামলার শুনানি। ১৫ অগস্টের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীদের সমাধানসূত্র বের করার নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত।

শুক্রবার শুনানি শুরু হওয়ার পরেই প্রধান বিচারইপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দেয় “মধ্যস্থতাকারীরা আরও কিছুদিন সময় চাইছেন। আমাদের মনে হয় এই সময়টা তাঁদের দেওয়া উচিত।” প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “মধ্যস্থতাকারীরা যথেষ্ট আশাবাদী। আমাদেরও মনে হয়, ঠিক পথেই এগোচ্ছে সিদ্ধান্ত।” রঞ্জন গগৈ ছাড়াও এই ডিভিশন বেঞ্চের বাকি সদস্যরা হলেন, বিচারপতি এস এ বোবডে, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচুড়, বিচারপতি অশোক ভূষণ ও বিচারপতি এস আব্দুল নাজির।

আগের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট একটি মধ্যস্থতাকারীদের কমিটি গড়ে দেন। এই কমিটির প্রধান করা হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এফ এম কলিফুল্লাহ্‌কে। এই কমিটিকে বলা হয়, এই জটিল মামলার যতটা সম্ভব সরল করে সমাধান করার চেষ্টা করতে। সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলতেও বলা হয় এই কমিটিকে। জানানো হয়, কমিটি তাদের রিপোর্ট পেশের পরেই সিদ্ধান্ত জানাবে দেশের শীর্ষ আদালত।

এই মধ্যস্থতাকারীদের কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন যোগগুরু শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর ও সিনিয়র আইনজীবী শ্রীরাম পাঞ্চু। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে খবর, এর আগে শুনানির সময় দেখা যায়, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সংগঠনগুলির মধ্যে মতের কোনও মিল নেই। এই পরিস্থিতিতে সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে একটা নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে আসার জন্যই এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে জানিয়ে দেওয়া হয়, সব পক্ষের সঙ্গে যেন ক্যামেরার সামনে কথা বলেন তাঁরা। এই পুরো প্রক্রিয়ার জন্য ৮ সপ্তাহ সময় দেওয়া হয়েছিল মধ্যস্থতাকারীদের কমিটিকে।

এই সমস্যার সূত্রপাত ১৯৯২ সালে। বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন দাবি করে, বাবরি মসজিদ আসলে রাম জন্মভূমি। বাবর নিজের রাজত্বকালে এই রাম জন্মভূমির উপর বাবরি মসজিদ বানিয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে লক্ষ লক্ষ করসেবক যান এই মসজিদ ভাঙতে। এর পরেই দেশজুড়ে হিন্দু-মুসলিম সংঘর্ষে প্রায় ২০০০ লোক নিহত হয়।

তারপর ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করে, ২.৭৭ একর এই জমিকে তিন ভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে। একটি ভাগ পাবে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, একটি ভাগ পাবে নির্মোহী আখাড়া ও তৃতীয় ভাগটি পাবে রাম লাল্লা। এই সিদ্ধান্তের পরেই সুপ্রিম কোর্টে ১৪টি মামলা করা হয়।

সুপ্রিম কোর্ট মধ্যস্থতাকারী কমিটির সিদ্ধান্ত জানালে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড ও নির্মোহী আখাড়া ছাড়া বাকি সব পক্ষই এর বিরোধিতা করে। এমনকী উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফেও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, এই কমিটি ছাড়া এই জটিল সমস্যার সমাধান অসম্ভব। বিচারপতিদের বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, “এটা শুধুমাত্র একটা জমির বিষয় নয়। এটা মানুষের হৃদয় ও চিন্তাভাবনার বিষয়ও। তাই সবকিছুকে যতটা সম্ভব স্বাভাবিক করার চেষ্টা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

আরও পড়ুন

ভারতীর গাড়ি আটকে তল্লাশি, ভোররাত পর্যন্ত চলল নাটক! রিপোর্ট চাই কমিশন

Comments are closed.