বুধবার, মার্চ ২০

মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের সরকার গো হত্যার নামে মুসলমানদের জেলে পুরছে, বিজেপি-র সঙ্গে ফারাক কী? তোপ মায়ার

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার রাতেই বিরোধী নেতারা দিল্লিতে এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারের বাড়িতে বৈঠকে বসেছিলেন। সেখানে আলোচনা হয় ন্যূনতম অভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে (কমন মিনিমাম প্রোগ্রাম)। রাহুল গান্ধী, ফারুক আবদুল্লাহ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে পাওয়ারের বাড়ির বৈঠকে ছিলেন মায়াবতীর বিশ্বস্ত সেনাপতি তথা বহুজন সমাজবাদী পার্টির নেতা সতীশ মিশ্রও। কিন্তু রাতে যা কথা হল, সকাল হতেই ব্যাপারটা ঘেঁটে গেল না? বৃহস্পতিবার সক্কাল সক্কাল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ফের তোপ দাগলেন মায়াবতী। প্রশ্ন তুললেন, বিজেপি-র সঙ্গে কংগ্রেসের ফারাকটা কোথায়?

উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের সরকার গো হত্যার জন্য ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টে মামলা করছে। আর ও দিকে বিজেপি সরকার আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দেশদ্রোহিতার মামলা দিয়ে জেলে পুড়ছে।” তাঁর কথায়, “দুই সরকারই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালাচ্ছে।”

আড়াই দশক পর উত্তরপ্রদেশে এ বার জোট করেছে বহুজন সমাজ পার্টি আর সমাজবাদী পার্টি। গত মাসেই লখনউতে ঢাকঢোল পিটিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে মায়া এবং অখিলেশ যাদব জানিয়ে দেন বিজেপি-কে ঠেকাতে তাঁরা একসঙ্গে লড়বেন। কিন্তু সেই জোটে কংগ্রেস নেই। অনেকে আবার এটাকে বলছেন রাজনৈতিক কৌশল। মায়া-অখিলেশকে সুবিধে করে দিতেই কংগ্রেস আলাদা লড়ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের অনেকে। তাঁদের যুক্তি, এর ফলে উচ্চবর্ণের একটা বড় অংশ ভোট বিজেপি-র বাক্সে যাওয়া ঠেকানো যাবে। দু’টি লোকসভা এবং একটি বিধানসভার উপনির্বাচনের ফলাফলের নির্যাসও তাই।

অনেকের মতে, প্রিয়ঙ্কা দায়িত্ব নিয়ে উত্তরপ্রদেশে সক্রিয় হতেই হয়তো চাপে পড়ে গিয়ে এ কথা বলছেন দলিতনেত্রী। কিন্তু জাতীয় স্তরে যখন কংগ্রেস নিয়েই সব দল বিজেপি-কে সরানোর ব্লু প্রিন্ট ছকছে তখন মায়াবতীর এমন মন্তব্য বিরোধী ঐক্যে চিড় ধরাবে বলেই মনে করছেন অনেকে। কারণ এই প্রথম নয়। এর আগেও মায়াবতী দুর্নীতি ইস্যুতে বিজেপি আর কংগ্রেসকে এক ব্র্যাকেটে ফেলে দিয়েছিলেন। এ দিন ফের একবার মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস সরকারকে তুলোধনা করলেন বহেনজি।

Shares

Comments are closed.