বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ১৪

‘মহাগঠবন্ধন’ ডাহা ফেল! ইভিএম-এ কারচুপি হয়েছে, অভিযোগ বহেনজির

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বরাবরই ইভিএম-এর বিরোধী তিনি। বারবার ইভিএম-এর বদলে ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনার দাবি করেছেন। উনিশের লোকসভায় গো-হারা হারের পর ফের একবার ভোটিং মেশিনের দিকেই আঙুল তুললেন বহুজন সমাজবাদি পার্টি নেত্রী মায়াবতী। বললেন, ইভিএম মেশিনে কারচুপি করেই ভোটে জিতেছে বিজেপি।

২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর ব্যালট পেপার ফিরিয়ে আনার দাবি তুলেছিলেন মায়াবতী। উনিশের লোকসভার আগে সমাজবাদি পার্টি ও রাষ্ট্রীয় লোক দলের সঙ্গে জোট বাঁধেন তিনি। এই জোটের নাম দেওয়া হয় ‘মহাগঠবন্ধন’। জোট গড়ার পর মায়াবতী, অখিলেশ, অজিত সিং হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, এ বার উত্তরপ্রদেশে ভরাডুবি হবে বিজেপির। মহাগঠবন্ধনের হাত ধরবেন উত্তরপ্রদেশের মানুষ। আঞ্চলিক দলদের জোট কেন্দ্রে সরকার গড়বে বলে দাবি জানান তাঁরা। এমনকী ঘনিষ্ঠ মহলে নাকি প্রধানমন্ত্রী হওয়ারও ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন বহেনজি। বলেছিলেন, দরকার পড়লে উত্তরপ্রদেশের আম্বেদকর নগর থেকে উপনির্বাচনে দাঁড়াবেন তিনি।

কিন্তু লোকসভার ফলপ্রকাশ হতেই দেখা গেল, মায়াবতীর স্বপ্ন ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে। শুধু মায়াবতী নয়, মহাগঠবন্ধনের একই অবস্থা। ৮০ টার মধ্যে ৬০’এর উপর আসন পেয়েছে বিজেপি। আর তারপরেই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মায়াবতী বলেন, “গোটা দেশ ইভিএম-এর বিরোধিতা করছে। এ দিনের পর থেকে সেটা আরও বেড়ে গেল। বাকি যারা ইভিএম-কে সমর্থন করত, তারাও আর করবে না। বিজেপি ইভিএম মেশিনে কারচুপি করেই ভোটে জিতেছে।” তিনি আরও বলেন, “দেশের বিশ্বাসটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি কেউই ব্যালট পেপার আনতে চায় না। নিশ্চয় এর মধ্যে কোনও চক্রান্ত আছে। ঠিক মতো ভোট গণনা হলে মহাগঠবন্ধনের এই ফল হয় না।”

এর আগে নিজেদের নির্বাচনী প্রচারে বারবার সপা-বসপার তরফে দাবি করা হয়েছে, ৫০-এর বেশি আসন তাদের জোট পাবে। বাকি সিট অজিত সিং-এর রাষ্ট্রীয় লোক দল ও কংগ্রেস পাবে। বিজেপি খাতা খুলতে পারবে না। কিন্তু ঘটনাচক্রে হলো উল্টো। আর তারপরেই শুরু হয়েছে দোষারোপের পালা। শুধু মায়াবতীই নন, তাঁর জোটসঙ্গী সমাজবাদি পার্টি নেতা অখিলেশ যাদবও টুইট করে ভোটিং মেশিনের উপরেই প্রশ্ন তুলেছেন।

এই ব্যাপারে উত্তরপ্রদেশের এক বিজেপি নেতার বক্তব্য, “সারা বছর কাজ না করে ভোটের সময় জোট বেঁধে এসে ভোট চাইলেই হয় না। তার জন্য পরিশ্রম করতে হয়। গত পাঁচ বছর এখানকার বিজেপি সাংসদরা কাজ করেছেন। তাই মানুষ তাঁদের ভোট দিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের পথে সহযাত্রী হতে চেয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মানুষ। এখন এইসব বলে কোনও লাভ নেই।”

আরও পড়ুন

রাজীব কুমারের রক্ষাকবচের আবেদন খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট

Comments are closed.