রবিবার, ডিসেম্বর ৮
TheWall
TheWall

‘বিহারের আইনস্টাইন’ বিশ্ববন্দিত গণিতজ্ঞ বশিষ্ঠ নারায়ণ সিং প্রয়াত

দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজীবন লড়েছেন দারিদ্র্যের সঙ্গে। একসময় অ্যালবার্ট আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতার সূত্রকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলেন ইনিই। কখনও হার না মানা জেদ থেমে গেল ৭৮ বছরেই। দীর্ঘদিন স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় ভুগে বৃহস্পতিবার পটনা মেডিক্যাল কলেজে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ‘বিহারের আইনস্টাইন’ বশিষ্ঠ নারায়ণ সিং।

বশিষ্ঠ নারায়ণের মৃত্যুর খবরে শোকপ্রকাশ করেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্যের ঘোষণা করেছেন তিনি। বশিষ্ঠ নারায়ণের পরিবার জানিয়েছে, স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন কয়েক বছর আগেই। চিকিৎসাও চলছিল। গতকাল সকালে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে ভর্তি করা হয় পটনা মেডিক্যাল কলেজে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, মৃত্যুর পরে দীর্ঘসময় তাঁর দেহ ফেলে রাখা হয় মেডিক্যাল কলেজে। অভিযোগ, মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেননি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মরদেহ খোলা আকাশের নীচেই ফেলে রাখা হয় দীর্ঘসময়।

১৯৪২ সালের ২ এপ্রিল বিহারের ভোজপুর জেলার বসন্তপুরে জন্ম বশিষ্ঠ নারায়ণের। সংসারের অভাব থাকলেও সেটা শিক্ষার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি কোনওদিন। নেতারহাট স্কুলের মেধাবী ছাত্র বশিষ্ঠ নারায়ণ পটনা সায়েন্স কলেজ থেকে পাশ করে সোজা পাড়ি দেন ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটিতে। পটনা সায়েন্স কলেজে বিএসসি অনার্স (অঙ্ক) কোর্সে তাঁর নম্বর এখনও রেকর্ড হয়ে আছে।

ক্যালোফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে ভেক্টর স্পেস থিয়োরি নিয়ে পিএইচডি করেন বশিষ্ঠ নারায়ণ। চাকরি পান মার্কিন মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র নাসাতে। ততদিনে সেরা গণিতজ্ঞ হিসেবে বশিষ্ঠ নারায়ণের নাম ছড়িয়ে পড়েছে গোটা বিশ্বেই। ১৯৭১ সালে দেশে ফিরে আইআইটি কানপুরে অধ্যাপনা শুরু করেন। পরে মুম্বইয়ের টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চে গবেষণা শুরু করেন বশিষ্ঠ নারায়ণ। সাল ১৯৭৩। কলকাতায় ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটেও দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছিলেন তিনি। ছাত্র পড়িয়েছেন বিহারের ভূপেন্দ্র নারায়ণ মণ্ডল ইউনিভার্সিটিতেও।

বশিষ্ঠ নারায়ণের প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সুশীল কুমার মোদী।

Comments are closed.