বৃহস্পতিবার, জুন ২০

মাত্র ১০ মাস বয়সে বিয়ে, ১৮ বছরের লড়াই শেষে শিকল ভেঙে ‘স্বাধীন’ হলো ঊর্মা

দ্য ওয়াল ব্যুরো : জন্মের পর প্রথম ‘মা’ ডাকার আগেই অন্যের বউ হয়ে গিয়েছিল সে। জ্ঞান হওয়ার পর বুঝেছিল, বাল্যবিবাহের শিকলে বাঁধা পড়েছে। ১৮ বছরের যন্ত্রণার পর শেষ পর্যন্ত এল মুক্তি। স্বাধীন হলো ঊর্মা।

রাজস্থানের যোধপুরের কাপারদা গ্রামে জন্ম ঊর্মার। সালটা ১৯৯৯। যখন মাত্র ১০ মাস বয়স, তখন গ্রামেরই এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়ে যায় তার। মুখে কথা আসেনি তখনও। জ্ঞান হওয়ার পরেও বুঝতে পারেনি কী হয়েছে তার সাথে। গ্রামে তার বয়সী আর পাঁচটা মেয়ে যখন পুতুল খেলে তখন তাকে ঘর-কন্নার কাজ শিখতে হয়। বিয়ে কী, যখন বুঝতে শিখল, ততক্ষণে সংসারের শিকলে বাঁধা পড়েছে সে।

আরও পড়ুন এ কোন মাছ! দাম ‘মাত্র’ ২১ কোটি টাকা!

যার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল, তার ওঠাবসা আবার অন্ধকার দুনিয়ায়। তারপরেও পিছু হটেনি ঊর্মা। নিজের ভবিতব্য মনে করে ঘরে বসে কাঁদেনি। প্রতিবাদ করেছে। লড়াই করেছে। মাত্র ১০ মাস বয়সে তার সঙ্গে যা হয়েছে, তাকে বিয়ে বলে মানেনি ঊর্মা। তার জন্য কম অপমান, কম অত্যাচার সহ্য করতে হয়নি ঊর্মাকে। শুধু শ্বশুরবাড়ির লোকই নয়, বাপের বাড়ির লোকেদের কাছেও শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের শিকার হয়েছে সে। গ্রামের সালিশি সভাতেও বিধান দেওয়া হয়েছে, ঊর্মা বিয়ে স্বীকার না করলে তার পরিবারকে এক ঘরে করে দেওয়া হবে। কিন্তু নিজের লড়াই থামায়নি।

এর মধ্যেই একদিন মুক্তির দূত হিসেবে তার কাছে হাজির হন ডক্টর কৃতী ভারতী। নিজের ‘সারথি’ ট্রাস্টের মাধ্যমে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে প্রচার চালান তিনি। দরকারে এগিয়ে আসেন সাহায্য করতে। তিনিই এগিয়ে এসেছিলেন ঊর্মাকে বিচার পাওয়ানোর জন্য। কৃতীর সাহায্যে যোধপুরের আদালতে মামলা দায়ের করে ঊর্মা। কৃতীই আদালতে ঊর্মার হয়ে সওয়াল করেন। সব কাগজপত্র জমা দেন।

সবকিছু দেখে শুক্রবার আদালত রায় দেয়, ঊর্মার বিয়ে বেআইনি। এই বিয়েকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। সে চাইলেই এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারে। মুক্তির আনন্দে আদালতের মধ্যেই কৃতীকে জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল ঊর্মা। পরে সাংবাদিকদের সামনে সে বলে, “কৃতী দিদির সাহায্যে আমি এই অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছি। এ বার আমি পড়াশোনা করবো।” আর কৃতীর কী প্রতিক্রিয়া? “অনেক কষ্টে এই অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছে ঊর্মা। আশা করি জীবনে অনেক উন্নতি করুক ও।”

The Wall-এর ফেসবুক পেজ লাইক করতে ক্লিক করুন 

Comments are closed.